...
...
Next Story

US Report on India vs Pak Nuclear War: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের সম্ভাবনা রয়ে গিয়েছে, দাবি আমেরিকার

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার মার্কিন সেনেটে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

Published on: Mar 19, 2026, 08:03:10 IST
Advertisement

অপারেশন সিঁদুরের পর বারংবার ট্রাম্প দাবি করে এসেছেন, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধ শুরু হতে পারত। আর এবার মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের নতুন প্রতিবেদনও এমনই দাবি করা হল। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে পাকিস্তানের পরমাণু কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার মার্কিন সেনেটে এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড দাবি করেন, তিনি পাকিস্তানকে আমেরিকার জন্য হুমকি হিসাবে দেখেন। তাঁর কথায়, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র মার্কিন মুলুকের জন্য হুমকির।

মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি অব্যাহত রয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা কমিউনিটির বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক পরমাণু সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। ৩৪ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন অনুসারে, ভারত এবং পাকিস্তান সরাসরি সংঘাত শুরু করতে চায় না, তবে এই অঞ্চলে সন্ত্রাস এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, যা সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে দুই দেশকে। এই রিপোর্টে পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার উল্লেখও রয়েছে। এই হামলার পরই অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছিল ভারত। এদিকে মার্কিন নথি অনুযায়ী, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপেই দুই দেশের মধ্যে পারমাণবিক উত্তেজনা প্রশমিত হয়। যদিও ট্রাম্পের মধ্যস্থতার এই দাবি খারিজ করে দেয় ভারত।

সম্প্রতি ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারতের অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করতে হস্তক্ষেপ করে তিনি পাকিস্তানের কয়েক কোটি মানুষকে বাঁচিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেছেন যে শেহবাজ তাঁকে বলেছিলেন যে ট্রাম্প যদি অপারেশন সিঁদুরের সময় হস্তক্ষেপ না করতেন তবে ৩৫ মিলিয়ন পাকিস্তানি মারা যেত। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে এই সংঘাতে নাকি ১০টি বিমান ধ্বংস হয়েছিল। এর আগে ২০২৫ সালের জুলাইতে ট্রাম্প বলেছিলেন ভারত-পাক সংঘাতে ৫টা যুদ্ধবিমান ভেঙেছে, এরপর অগস্টে সেটা ৭ হল। আর নভেম্বর আসতে আসতে ট্রাম্প দাবি করেন, অপারেশন সিঁদুরের সময় নাকি ৮টা বিমান ধ্বংস হয়েছিল। উল্লেখ্য, সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব দাবি করা ছাড়াও ট্রাম্প বারবার বোঝাতে চাইছেন যে যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ ছিল এবং আরও কতটা ভয়াবহ তা হতে পারত। তাঁর বরাবরের দাবি, এই সংঘাত পারাণিবিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারত। এরই সঙ্গে একেক সময় একেক সংখ্যায় বিমান ধ্বংস হওয়ার দাবি শোনাচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা ধর্ম জিজ্ঞেস করে ২৫ জন পর্যটক এবং এক স্থানীয়কে খুন করে। এর জবাবে ভারত ৬ মে গভীর রাতে বাহাওয়ালপুর, মুরিদকে সহ পাকিস্তানের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করে দেয়। সেই অভিযানে প্রায় ১০০ জন জঙ্গিকে খতম করে ভারত। আর এরপর থেকেই পাকিস্তানের তরফ থেকে শেলিং শুরু হয় ভারতের ওপর। অপারেশন সিঁদুর পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানের শেলিংয়ে ভারতের অন্তত ১৬ জন নাগরিকের মৃত্যু ঘটে। এরপর সংঘাত বাড়তে থাকে দুই দেশের। ১০ মে-র ভোররাতে এরপর ভারতীয় বায়ুসেনা হামলা চালিয়ে পাকিস্তানের ১১টি সামরিক ঘাঁটি অকেজো করে দেয়।

এই সময়কালে পাকিস্তানের এফ-১৬ এবং জেএফ-১৭ শ্রেণির যুদ্ধবিমান সহ পাঁচটি জেট ভারত ধ্বংস করেছিল মাঝ আকাশের লড়াইয়ে। পাকিস্তানের রাডার, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার, হ্যাঙ্গার এবং রানওয়ে ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারতের হামলায়। পাকিস্তানের একটি সি-১৩০ শ্রেণির বিমানও ধ্বংস করা হয়েছিল এই সংঘাতের সময়। এছাড়া ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে একটি AEW&C বা একটি SIGINT বিমান ধ্বংস করেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। তাছাড়া বায়ুসেনা ঘাঁটিতে থাকা পাকিস্তানের আরও বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ভারতের মিসাইলের আঘাতে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe