ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইকে হত্যা করেও সেই দেশে শাসন ব্যবস্থা বদলাতে পারেনি আমেরিকা। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অবশ্য ছিল ইরানের মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন। সেই লক্ষ্য অবশ্য এখনও অর্জন করতে পারেনি আমেরিকা। এই আবহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই অভিযানের সাফল্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র বড় আকারের বিমান হামলা চালালেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় কাঠামো এতটাই গভীর ও প্রাতিষ্ঠানিক যে, তা ভেঙে পড়া অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ব্যবস্থায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে কার্যকর রয়েছে। এই আবহে সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতেও কাজ যাবে শাসক গোষ্ঠী।
এই আবহে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বিশেষজ্ঞ সুজান ম্যালোনি আবার বলেন, 'ইরানি প্রতিষ্ঠান এবং তাদের প্রক্রিয়াগুলি বহু দশক ধরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মার্কিন চাপ সত্ত্বেও তাই ইরামনের শাসক গোষ্ঠী দেশের অভ্যন্তরে তাদের ক্ষমতা বজায় রাখতে সক্ষম।' উল্লেখ্য, সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর ইরানে উত্তরাধিকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞ পরিষদ (ধর্মীয় পরিষদ) পরবর্তী নেতা নির্বাচন করবে। এখানে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ভূমিকা নির্ণায়ক হবে। প্রয়াত নেতার ছেলে মুজতবা খামেনি ক্ষমতায় আসতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে, যদিও আলি লারিজানির মতো প্রবীণ নেতারা নাকি এর বিরোধিতা করছেন।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মুজতবা খামেনেইকে অযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর 'ভূমিকা' থাকা উচিত। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকির খালিবাফ আবার ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি সাফ কথায় বলেছেন, ইরানের ভাগ্য কেবল ইরানি জনগণই নির্ধারণ করবে, বাইরের কোনও গ্যাং নয়। এদিকে ভারতে সফররত অবস্থায় ইরানের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী সইদ খতিবজাদে বলেন, 'ট্রাম্প নিজের ইচ্ছায় নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন করতে পারেন না, সেখানে তিনি নাকি ইরানের নেতা বেছে নিতে চান'। দিল্লিতে রাইসিনা সংলাপে তাঁর এই মন্তব্য শুনে হলঘর জুড়ে হাততালি পড়েছিল।
{{/usCountry}}অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মুজতবা খামেনেইকে অযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানের পরবর্তী নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাঁর 'ভূমিকা' থাকা উচিত। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাকির খালিবাফ আবার ট্রাম্পের এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি সাফ কথায় বলেছেন, ইরানের ভাগ্য কেবল ইরানি জনগণই নির্ধারণ করবে, বাইরের কোনও গ্যাং নয়। এদিকে ভারতে সফররত অবস্থায় ইরানের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী সইদ খতিবজাদে বলেন, 'ট্রাম্প নিজের ইচ্ছায় নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন করতে পারেন না, সেখানে তিনি নাকি ইরানের নেতা বেছে নিতে চান'। দিল্লিতে রাইসিনা সংলাপে তাঁর এই মন্তব্য শুনে হলঘর জুড়ে হাততালি পড়েছিল।
{{/usCountry}}এদিকে ইরান যুদ্ধের পরিধি ভারত মহাসাগর থেকে ন্যাটো সদস্য তুরস্কের সীমান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি আনা কেলি দাবি করেছেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করাই এই হামলার প্রাথমিক লক্ষ্য। তবে ট্রাম্পের কথাতেই স্পষ্ট, বাস্তবে আমেরিকার লক্ষ্য আরও বড় ছিল। তারা ইরান থেকে মোল্লাদের শাসন পুরোপুরি উৎখাত করতে চেয়েছিল। এবং সেই চেষ্টা এখনও জারি রেখেছে আমেরিকা। যদিও মার্কিন গোয়েন্দাদের সম্মিলিত মত হল, কেবল বোমা হামলা চালিয়ে ইরানে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। এর আগে ২০২৫ সালে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নাকি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। তখন সেই দাবিকে খণ্ডন করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। তখন পদাধিকারীদের রদবদল করিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এবার আমেরিকা যদি তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে না পারে, তাহলে মুখ পুড়তে পারে ট্রাম্পের।