আমেরিকায় ফের স্কুলে বন্দুকবাজের হামলা। এবার হামলার ঘটনা ওরেগন প্রদেশের বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে আচমকাই স্কুলে ঢুকে গুলি চালায় এক বন্দুকবাজ। প্রাণ গিয়েছে তিন শিশু পড়ুয়া এবং এক শিক্ষকের। গুরুতর জখম আরও এক শিশু এবং এক শিক্ষক। পুলিশের দাবি, হামলাকারীর বয়স ১৬ বছর। শেষ পর্যন্ত এক স্থানীয় বাসিন্দার পাল্টা পদক্ষেপে মৃত্যু হয় তারও। কেন ওই কিশোর স্কুলে ঢুকে এমন হামলা চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্কুলের ভিতরে মুহূর্তে আতঙ্ক
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে প্রথম জরুরি ফোন আসে। এক ব্যক্তি জানান, স্কুলের বাইরে একটি গাড়ির দিকে বন্দুক তাক করে গুলি চালিয়েছে এক বন্দুকবাজ। এর পরেই স্কুলের ভিতর থেকে একের পর এক জরুরি ফোন আসতে শুরু করে। খবর মেলে, এক বন্দুকধারী স্কুলে ঢুকে পড়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দুপুর ১টা ২ মিনিটে সেখানে পৌঁছে যান আধিকারিকেরা। তার কিছু পরেই খবর আসে, হামলাকারীকে গুলি করা হয়েছে। পুলিশ স্কুলের ভিতরে ঢুকে তার দেহ উদ্ধার করে।
বেন্ড পুলিশের প্রধান মাইক ক্রান্টজ জানিয়েছেন, হামলাকারী স্কুলের বন্ধ দরজায় গুলি চালিয়ে ভিতরে ঢুকেছিল। তাকে আটকাতে এক স্থানীয় বাসিন্দা এগিয়ে আসেন। ওই ব্যক্তি বন্দুকবাজকে ধাওয়া করে স্কুলের ভিতরে ঢোকেন এবং তার মোকাবিলা করেন। এর পরেই মৃত্যু হয় হামলাকারীর। ওই বাসিন্দার পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি পুলিশ।
নিহত তিন শিশু, গুরুতর জখম আরও এক
এই হামলায় পাঁচ, আট এবং এগারো বছর বয়সি তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন এক শিক্ষকও। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সাত বছরের এক পড়ুয়া এবং ৫৪ বছরের এক শিক্ষককে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
{{/usCountry}}এই হামলায় পাঁচ, আট এবং এগারো বছর বয়সি তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রাণ হারিয়েছেন এক শিক্ষকও। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে সাত বছরের এক পড়ুয়া এবং ৫৪ বছরের এক শিক্ষককে। তাঁদের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
{{/usCountry}}স্কুলটিতে প্রায় ৪৫০ জন পড়ুয়া রয়েছে। কিন্ডারগার্টেন থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ারা সেখানে পড়াশোনা করে। ঘটনার পরেই স্কুলে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। পড়ুয়াদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ ও প্রশাসন।
পরে বাসে করে শিশুদের অন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অভিভাবকদের সঙ্গে তাদের দেখা করানোর ব্যবস্থা করা হয়। স্কুলের সামনে উদ্বিগ্ন অভিভাবকদের ভিড় জমে যায়। সন্তান নিরাপদে রয়েছে কি না, তা জানতে উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁরা।
ফের প্রশ্নের মুখে আমেরিকার বন্দুকনীতি
ঘটনার পর শোক প্রকাশ করেছেন ওরেগনের গভর্নর টিনা কোটেক। হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দার সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এমন দিন কোনও অভিভাবক বা সম্প্রদায়ের জীবনে আসা উচিত নয়।
আমেরিকায় স্কুলে বন্দুকবাজের হামলা নতুন নয়। ২০১২ সালে স্যান্ডি হুক স্কুলে হামলা থেকে ২০২২ সালে টেক্সাসের ইউভালডে স্কুলে গুলিচালনা, বার বার একই আতঙ্কের মুখোমুখি হতে হয়েছে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের। প্রতিটি ঘটনার পরেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। কিন্তু পরিস্থিতির কতটা বদল হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বন্দুক নিয়ন্ত্রণের পক্ষে থাকা প্রাক্তন কংগ্রেস সদস্য গ্যাব্রিয়েল গিফোর্ডস এই হামলার নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এমন ঘটনা আমেরিকার স্বাভাবিক জীবনের অংশ হয়ে থাকতে পারে না। এদিকে, হামলাকারীর পরিচয় ও উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। স্কুলের সঙ্গে তার কোনও যোগ ছিল কি না, কেন সে এই হামলা চালাল, তা এখনও জানা যায়নি। আপাতত শোকের ছায়া বেন্ড শহরে।