মার্কিন সচিব মার্কো রুবিয়োর ভারত সফর নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক আঙিনায় বহু বিতর্ক হয়েছে। রাহুল গান্ধী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন বিষয়টি। প্রশ্ন ওঠে, নয়া দিল্লিতে না হয়ে মার্কিন সচিবের সঙ্গে ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সাক্ষাৎ কেন মুম্বইতে হচ্ছে, তা নিয়ে। রাহুল তাঁর পেস্টে লিখেছিলেন, ‘মোদীজি, আপনার কর্মীকে মিস্টার রুবিয়ো ডেকে পাঠালেন মুম্বইয়ে। আপনার বিদেশ মন্ত্রকের কর্তারা বুঝতেই পারছেন না, এটা কী চলছে।’ এরপর আজ মুম্বইতে মার্কিন সচিব মার্কো রুবিয়োর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় ভারতের বিদেশমন্ত্রীর। এই সাক্ষাৎকালেই মুম্বইয়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে ২০০৮ সালে মুম্বইতে পাকিস্তানের নারকীয় জঙ্গি হামলার কথা ফের আমেরিকাকে মনে করিয়ে দিল ভারত! উল্লেখ্য, অপারেশন সিঁদুরের পর যেভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে আমেরিকার ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গ, মার্কিন সচিব রুবিয়োর সামনে দিল্লির তুলে ধরার বিষয়টি কূটনৈতিক দিক থেকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, বলে মনে করা হচ্ছ।

২০০৮ সালে মুম্বইতে পাকিস্তানি জঙ্গিদের ২৬/১১র রাতের তাণ্ডবের কথা এদিন তুলে ধরলেন সুনীল কুড়ায়াদি। সেই সময় ৬০ ঘণ্টা ধরে কী চলেছিল, তা মুম্বইয়ের তাজ হোটেলের তৎকালীন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুনীল কুড়ায়াদি মার্কো রুবিয়োকে বলেন। ঠিক যে সময়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের মুনিরদের ঘনিষ্ঠতা দেখা যাচ্ছে, সেই সময়ই মুম্বইয়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনা মার্কিন সচিবকে বর্ণনার এই দৃশ্য, কেড়ে নিয়েছে শিরোনাম। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের সেই হামলায় ১৬৬ জন মৃতের মধ্যে ছিলেন ৬ মার্কিন নাগরিকও।
এদিন, ২০০৮ সালের মুম্বইতে জঙ্গি হানায় মৃতদের প্রতি মার্কো রুবিয়ো শ্রদ্ধা জানানোর পরই দেখা যায় ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শংকর, রুবিয়োর সঙ্গে সুনীল কুড়ায়াদির সাক্ষাৎ করিয়ে দিচ্ছেন। তখনই অল্প সময়ের কথাবার্তায় সেই সন্ত্রাসী রক্তলীলার ঘটনা রুবিয়োর সামনে তুলে ধরেন কুড়ায়াদি। জয়শংকরকে বলতে শোনা যায়, ‘ইনি ছিলেন নিরাপত্তার দায়িত্বে।’ সেদিন তাজ হোটেলে কী হয়েছিল, তা বলছিলেন কুড়ায়াদি। মাঝে মাঝে জয়শংকর ধরিয়ে দেন, , ‘চারিদিক থেকে ঘিরে নিয়েছিল (জঙ্গিরা)।’ উল্লেখ্য, ওই কঠিন পরিস্থিতিতেও সেদিন তাজের কর্মীরা কেউ পালিয়ে যাননি, তাঁরে সেখানে অতিথিদের রক্ষায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন কুড়িয়াদি।
প্রসঙ্গত আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়শংকর বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের অংশীদাররা সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য সহনশীলতা দেখাবে।’ ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট।’ এর আগে, রুবিয়ো পাকিস্তান সম্পর্কে বলেন, ‘পাকিস্তান এমন একটি দেশ যার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাখতেই হবে। এটি এমন একটি দেশ যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আমাদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সক্ষম হতে হবে।’
{{/usCountry}}প্রসঙ্গত আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়শংকর বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি আমাদের অংশীদাররা সন্ত্রাসবাদের প্রতি শূন্য সহনশীলতা দেখাবে।’ ভারতের বিদেশমন্ত্রীর সাফ কথা, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়ে আমরা সুস্পষ্ট।’ এর আগে, রুবিয়ো পাকিস্তান সম্পর্কে বলেন, ‘পাকিস্তান এমন একটি দেশ যার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাখতেই হবে। এটি এমন একটি দেশ যার কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে। ভৌগোলিক দৃষ্টিকোণ থেকেও আমাদের তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সক্ষম হতে হবে।’
{{/usCountry}}