...
...
Next Story

US Senator Lindsey Graham: ভারতের ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন! প্রয়াত ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ সেই মার্কিন সেনেটর

US Senator Lindsey Graham: প্রবীণ এই সেনেটর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জুন মাসেই সেনেটে পঞ্চম বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম।

Published on: Jul 12, 2026, 16:44:19 IST
Advertisement

US Senator Lindsey Graham: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আস্ফালনে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছিলেন তিনি। ভারতের ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। বেশ কিছু দিন অসুস্থ থাকার পরে প্রয়াত হলেন সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। বয়স হয়েছিল ৭১। রবিবার ভোরে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল এক্স পোস্টে লিন্ডসে গ্রাহামের কার্যালয় তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম (REUTERS)
প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম (REUTERS)

প্রবীণ এই সেনেটর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। জুন মাসেই সেনেটে পঞ্চম বারের জন্য নির্বাচিত হয়েছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম। বেশ কয়েকদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। তবে শনিবার সন্ধেয় অবস্থার অবনতি ঘটে। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টি। এ সময় প্রার্থনা ও পাশে থাকার জন্য তার পরিবার সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে। পাশাপাশি, এই কঠিন সময়ে গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গ্রাহাম তাঁর কর্মজীবনে নানা সময়ে খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন। তাঁর করা নানা মন্তব্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে সর্বস্তরে।

ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে লিন্ডসে গ্রাহাম দাবি করেছিলেন, ‘উল্লেখযোগ্য ভাবে’ রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে ভারত। আর ভারতের এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে ট্রাম্পের শুল্কনীতি। গ্রাহামের দাবি, কী ভাবে একটা নীতিগত পদক্ষেপ বিভিন্ন দেশের কর্মকাণ্ডকে প্রভাবিত করতে পারে, তার ‘ভাল উদাহরণ’ নয়া দিল্লির উপর আরোপিত ট্রাম্পের শুল্ক। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ভারতের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর কথা বলেছিলেন গ্রাহাম। তিনি দাবি করেছিলেন, ট্রাম্প এমন একটি বিলে (গ্রাহাম-ব্লুমেন্থাল নিষেধাজ্ঞা বিল) অনুমোদন দিয়েছেন, যা নিয়ে তিনি কয়েক দিন ধরে কাজ করছিলেন। এই বিল মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন ক্ষমতা দেবে, যার বলে তিনি রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়কারী ভারত-সহ দেশগুলির উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এই শুল্ককে ‘শাস্তি’ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন রিপাবলিকান সেনেটর গ্রাহাম।

'খামেনেইকে খতম করো'

ওই সাক্ষাৎকারে ক্ষোভ উগরে দিয়ে গ্রাহাম বলেন, 'এবার ওঁর (খামেনেই) যাওয়ার সময় হয়েছে। ইরানের সাধারণ মানুষও ওঁর পতন চায়।' ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি উদ্দেশ্য করে মার্কিন সেনেটর বলেছিলেন, 'মিস্টার প্রেসিডেন্ট, আমি আপনার জায়গায় হলে ইরানের সেই নেতৃত্বকেই খতম করে দিতাম, যারা নিজেদের দেশের সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করছে। আপনার এবার এই অধ্যায়ের অবসান ঘটানো উচিত।' সাক্ষাৎকারের শেষভাগে গ্রাহাম যুক্তি দেন যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিলে বা নির্মূল করলেই কেবল মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

গ্রিনল্যান্ডের ‘দখল’

গ্রিনল্যান্ডের ‘দখল’ নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম। এই দ্বীপরাষ্ট্রের ‘দখলের’ দাবি অনেক দিন ধরেই করে আসছেন ট্রাম্প। তবে গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ কখনওই চাননি, তাঁদের উপর ছড়ি ঘোরাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রসঙ্গে গ্রাহাম বলেছিলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের পিছনে রয়েছে। তবে আমাদের লক্ষ্য ফলাফল অর্জন করা।’ তবে গ্রাহাম এ-ও মনে করতেন, ‘গ্রিনল্যান্ডের মালিক কে, তাতে কী এসে যায়।’

পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন

ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অবসান করতে আসরে নেমেছে পাকিস্তান এবং কাতার। তাদের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি বৈঠক, শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে গ্রাহাম পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এক্স পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার কাছে এটা স্পষ্ট যে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে পাকিস্তান অত্যন্ত সমস্যাজনক। ইজরায়েলের সঙ্গে তাদের শত্রুতা অনেক দিনের। এটা স্বীকার করতেই হবে পাকিস্তানের বিমান ঘাঁটিগুলিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হচ্ছে।’

গ্রাহাম সাউথ ক্যারোলাইনা থেকে ২০০২ সালে প্রথম বার সেনেটর হিসেবে নির্বাচিত হন। তার পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি জিতেছেন। আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছিলেন গ্রাহাম। রাজনীতিতে আসার আগে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন আইনজীবী হিসেবেও প্রায় ছয় বছর কাজ করেছিলেন। মসনদে ট্রাম্পের দফায় বিদেশনীতি নির্ধারণের দায়িত্ব যাঁদের কাঁধে ছিল, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন এই প্রভাবশালী নেতা। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পক্ষে তিনি সব সময়ে কথা বলেছেন। মৃত্যুর মাত্র কিছু দিন আগেই ইউক্রেনের রাজধানী কিভে গিয়েছিলেন প্রবীণ সেনেটর। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe