...
...
Next Story

US Senator on Iran War: ইরানে সেনা মোতায়েনের পথে আমেরিকা, গোপন বৈঠকের পর বড় দাবি মার্কিন সেনেটরের

এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমেরিকা ইতিমধ্যেই অনেক দিক দিয়ে এই যুদ্ধ জিতেছে। তবে এখনও সবটা জেতা হয়নি।' তবে ট্রাম্পের কথায়, 'এই যুদ্ধ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে এবং তা প্রায় শেষের পথে।' এরই সঙ্গে ইরানকে 'কোনও বাজে কাণ্ড' না ঘটানোর জন্য হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

Published on: Mar 11, 2026, 10:44:24 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

'আমেরিকার নির্ধারিত কোনও লক্ষ্য পূরণ করতে হলে আমরা ইরানে সেনা মোতায়েনের পথে হাঁটছি।' এমনই দাবি করলেন মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল। ইরান নিয়ে একটি ক্লাসিফায়েড (গোপন) ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে এসে এই মন্তব্য করেন মার্কিন এই সেনেটর। এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানে শীঘ্রই যুদ্ধ শেষ হতে পারে। ট্রাম্প বলেছিলেন, 'আমেরিকা ইতিমধ্যেই অনেক দিক দিয়ে এই যুদ্ধ জিতেছে। তবে এখনও সবটা জেতা হয়নি।' তবে ট্রাম্পের কথায়, 'এই যুদ্ধ প্রায় সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে এবং তা প্রায় শেষের পথে।' এরই সঙ্গে ইরানকে 'কোনও বাজে কাণ্ড' না ঘটানোর জন্য হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় দাবি মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থালের
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বড় দাবি মার্কিন সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থালের

ট্রাম্পের কথায়, 'ইরানের কোনও নৌবাহিনী নেই, তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভএঙে পড়েছে, তাদের কোনও বায়ুসেনা নেই। ইরানের মিসাইলের সংখ্যাও কমে এসেছে। ইরানের ড্রোনকে জায়গায় জায়গায় ধ্বংস করা হচ্ছে। তাদের ড্রোন তৈরি করার সক্ষমতাকেও খতম করা হয়েছে। তাই সামরিক ভাবে এখন আর কিছু করার বাকি নেই।' এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই যুদ্ধ ৪-৫ সপ্তাহ চলতে পারে। তবে এখন তিনি দাবি করছেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে। এই আবহে প্রশ্ন উঠছে, ট্রাম্প কি তবে মুখ বাঁচিয়ে ইরান যুদ্ধ থেকে মার্কিন সেনাকে গোটাতে চাইছেন? এই প্রশ্ন আরও বেশি জোরালো হচ্ছে, কারণ, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন যুদ্ধ দফতর দাবি করে, ইরানে যুদ্ধ সবে মাত্র শুরু হয়েছে। এদিকে ইরানকে ট্রাম্প হুমকি দেন, 'ইরানের যা যা মিসাইল ছোড়ার ছিল, তারা ছুড়ে দিয়েছে। এরপর যেন তারা ভুলভাল কিছু করতে না যায়, তাহলে সেই দেশকে শেষ করে দেওয়া হবে।'

ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধে আমেরিকার একাধিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে ইরান। এই সব রাডার ব্যবস্থাগুলির সম্মিলিত মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হবে। এই আবহে পশ্চিম এশিয়ায় নিজেদের 'চোখ-কান' হারিয়েছে আমেরিকা। এবং আমেরিকার সাতজন সেনা এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন এই যুদ্ধে। এরই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীতে ইরান তাণ্ডব চালানোর জেরে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে ধস নামার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তেলের সংকটে ভুগতে পারে গোটা বিশ্ব। কারণ এটা বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি রুট। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে কয়েকশো তেলের ট্যাঙ্কার আটকে আছে। এর মধ্যে ভারতেরও ৩০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯টি ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে। এই ৯টি জাহাজেই ভারতীয় ক্রু ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ জুড়ে ইরান হামলা চালিয়েছে। বাহারিন থেকে শুরু করে দুবাই, সৌদি, কাতার, কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল। এই আবহে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি হামলায় আমেরিকার একাধিক সেনা জওয়ান নিহত হয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা বি২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানে হামলা চালিয়েছে। ইরানের বহু রণতরী তারা ধ্বংস করেছে বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইআরজিসি'র সদর দফতর ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে এতকিছুর মাঝেও ইরানের হামলা থামছে না।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন এবং ইজরায়েলি হামলায় খামেনেইর মৃত্যু ঘটেছিল। এই আবহে বিপ্লবের পরে এই প্রথম সংকটের মুখে পড়েছিল ইরানের ইসলামি শাসন ব্যবস্থা। আর খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পরপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। দুবাইয়ের বিমানবন্দর থেকে শুরু করে বিখ্যাত হোটেলে আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল এবং ড্রোন। দুবাইয়ের বন্দরেও হামলা চালিয়েছে ইরান। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে একাধিক জাহাজে ইরানি ড্রোন এবং মিসাইল আঘাত হেনেছে। ইরান যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী কার্যত স্তব্ধ। এর জেরে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ থেকে নিজেদের দূতাবাস খালি করিয়েছে আমেরিকা। সৌদিতে মার্কিন দূতাবাসে ইরানি মিসাইল আছড়ে পড়েছিল এর আগে। আরও একাধিক দেশে মার্কিন দূতাবাসকে নিশানা করেছে ইরান।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe