...
...
Next Story

US Senator on Pakistan: ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানকে ঘিরে নয়া বিতর্ক,মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মার্কিন সেনটরের

ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক মার্কিন আইনপ্রণেতা। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ওয়াশিংটনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

Published on: Jul 7, 2026, 12:42:32 IST
Advertisement

US Senator on Pakistan: ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ফের বিতর্কের মুখে পাকিস্তান। ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক মার্কিন আইনপ্রণেতা। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ওয়াশিংটনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সিনেটর রিক স্কট থেকে শুরু করে একাধিক রিপাবলিকান নেতা সরাসরি পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

খামেনেই নিয়ে শেহবাজের মন্তব্যের পরই এক্স-এ কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মার্কিন সিনেটর রিক স্কট। (AFP)
খামেনেই নিয়ে শেহবাজের মন্তব্যের পরই এক্স-এ কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মার্কিন সিনেটর রিক স্কট। (AFP)

সম্প্রতি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে শেহবাজ শরিফ তাঁকে ‘মহান পণ্ডিত ও দূরদর্শী নেতা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই শুরু হয় সমালোচনা। ভিডিওতে শেহবাজ বলেন, খামেনেই সাহস, ধৈর্য ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে ইরানের সেবা করেছেন এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম তাঁকে স্মরণ করবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ইরান দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ এবং দুই দেশের হৃদস্পন্দন একসঙ্গেই চলে। ভবিষ্যতেও সব পরিস্থিতিতে দুই দেশ একসঙ্গে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

এই মন্তব্যের পরই এক্স-এ কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মার্কিন সিনেটর রিক স্কট। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা মূল্যায়নের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের অতীত। তাঁর অভিযোগ, যে দেশে ওসামা বিন লাদেন প্রায় এক দশক ধরে লুকিয়ে থাকতে পেরেছিলেন, যেখানে সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ধর্মদ্রোহ আইনের অপব্যবহার হয় এবং যার প্রধানমন্ত্রী ইরানের সাবেক নেতার প্রশংসা করেন, সেই দেশ কোনওভাবেই নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না। তাঁর মতে, পাকিস্তান যেমন এই ভূমিকায় উপযুক্ত নয়, তেমনই কাতারকেও তিনি একইভাবে সমালোচনা করেন।

এটাই প্রথম নয়, এর আগেও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। গত মে মাসে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত সমস্যাজনক। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরূপ মনোভাব রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হয়েছে বলেও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

লিন্ডসে গ্রাহাম আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অতীতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে পাকিস্তান কখনও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে না, কারণ তারা ইসরায়েলকে বিশ্বাস করে না। যদিও ওই মন্তব্যটি পুরনো ভিডিও থেকে সামনে এলেও, গ্রাহামের দাবি, পাকিস্তানের অবস্থান এখনও একই রয়েছে। তাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের আহ্বান নিয়ে ইসলামাবাদকে স্পষ্ট অবস্থান জানানো উচিত।

এর আগে রিক স্কটও অভিযোগ করেছিলেন, কাতার এবং পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। তাঁর মতে, এই দুই দেশ ইরানের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদী নীতিকে সমর্থন করতেই বেশি আগ্রহী, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নয়।

শেহবাজ শরিফের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে, তাতে ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাই এখন বড় প্রশ্নের মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্ক ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe