US Senator on Pakistan: ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে ফের বিতর্কের মুখে পাকিস্তান। ইরান-সংক্রান্ত বিষয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক মার্কিন আইনপ্রণেতা। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের একটি বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই ওয়াশিংটনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন সিনেটর রিক স্কট থেকে শুরু করে একাধিক রিপাবলিকান নেতা সরাসরি পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।

সম্প্রতি ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে শেহবাজ শরিফ তাঁকে ‘মহান পণ্ডিত ও দূরদর্শী নেতা’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরই শুরু হয় সমালোচনা। ভিডিওতে শেহবাজ বলেন, খামেনেই সাহস, ধৈর্য ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে ইরানের সেবা করেছেন এবং বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম তাঁকে স্মরণ করবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, পাকিস্তান ও ইরান দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ এবং দুই দেশের হৃদস্পন্দন একসঙ্গেই চলে। ভবিষ্যতেও সব পরিস্থিতিতে দুই দেশ একসঙ্গে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।
এই মন্তব্যের পরই এক্স-এ কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মার্কিন সিনেটর রিক স্কট। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের ভূমিকা মূল্যায়নের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মনে রাখা উচিত পাকিস্তানের অতীত। তাঁর অভিযোগ, যে দেশে ওসামা বিন লাদেন প্রায় এক দশক ধরে লুকিয়ে থাকতে পেরেছিলেন, যেখানে সংখ্যালঘু খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ধর্মদ্রোহ আইনের অপব্যবহার হয় এবং যার প্রধানমন্ত্রী ইরানের সাবেক নেতার প্রশংসা করেন, সেই দেশ কোনওভাবেই নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হতে পারে না। তাঁর মতে, পাকিস্তান যেমন এই ভূমিকায় উপযুক্ত নয়, তেমনই কাতারকেও তিনি একইভাবে সমালোচনা করেন।
শুধু রিক স্কটই নন, মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ফক্স নিউজের ভাষ্যকার মার্ক লেভিনও শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইরান ইস্যুতে মধ্যস্থতার কথা বলছেন, তাঁর এমন মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
{{/usCountry}}শুধু রিক স্কটই নন, মার্কিন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ফক্স নিউজের ভাষ্যকার মার্ক লেভিনও শেহবাজ শরিফের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি ইরান ইস্যুতে মধ্যস্থতার কথা বলছেন, তাঁর এমন মন্তব্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে আরও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
{{/usCountry}}এটাই প্রথম নয়, এর আগেও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম। গত মে মাসে তিনি সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত সমস্যাজনক। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রতি পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বিরূপ মনোভাব রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের বিমানঘাঁটিতে ইরানের সামরিক বিমান রাখা হয়েছে বলেও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
লিন্ডসে গ্রাহাম আরও বলেন, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অতীতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে পাকিস্তান কখনও আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে না, কারণ তারা ইসরায়েলকে বিশ্বাস করে না। যদিও ওই মন্তব্যটি পুরনো ভিডিও থেকে সামনে এলেও, গ্রাহামের দাবি, পাকিস্তানের অবস্থান এখনও একই রয়েছে। তাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের আহ্বান নিয়ে ইসলামাবাদকে স্পষ্ট অবস্থান জানানো উচিত।
এর আগে রিক স্কটও অভিযোগ করেছিলেন, কাতার এবং পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। তাঁর মতে, এই দুই দেশ ইরানের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসবাদী নীতিকে সমর্থন করতেই বেশি আগ্রহী, শান্তি প্রতিষ্ঠায় নয়।
শেহবাজ শরিফের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে যে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে, তাতে ইরান ইস্যুতে পাকিস্তানের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাই এখন বড় প্রশ্নের মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্ক ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-ইসলামাবাদ কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন প্রভাব ফেলতে পারে।