US Visa Bulletin: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরিসূত্রে গ্রিন কার্ডের (Green Card) অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের জন্য খারাপ খবর। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই ভারতীয়দের জন্য ইবি-১ ক্যাটাগরির ভিসা আর পাওয়া যাবে না। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অর্থবর্ষের সমাপ্তির আগেই অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার বোঝায় জর্জরিত ভারতীয় আবেদনকারীদের স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) স্বপ্ন আরও বড় ধাক্কার মুখে পড়ল।

মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট-এর সেপ্টেম্বর মাসের 'ভিসা বুলেটিন'-এ এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ইবি-১ ভিসা মূলত 'অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মী'দের (Priority Workers) জন্য বরাদ্দ থাকে; যার মধ্যে রয়েছেন অসাধারণ দক্ষতার অধিকারী ব্যক্তি, বিশিষ্ট গবেষক ও অধ্যাপক এবং বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থার উচ্চপদস্থ এগজিকিউটিভ ও ম্যানেজাররা। স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, ইবি-১ ক্যাটাগরিতে ভারতের আবেদনকারীদের বিপুল চাহিদা এবং দ্রুত ভিসা ব্যবহারের হারের কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিভাগটি সাময়িকভাবে বন্ধ বা অপ্রাপ্য ঘোষণা করতে হতে পারে—যদি অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগেই ভারতের জন্য নির্ধারিত আনুপাতিক সীমা পূর্ণ হয়ে যায়। পরিস্থিতি ক্রমাগত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ভারতীয়দের জন্য এই সতর্কবার্তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ কর্মসংস্থান-ভিত্তিক অন্যান্য প্রায় সমস্ত গ্রিন কার্ডের ক্যাটাগরিতেই ভারতীয়দের অপেক্ষার তালিকা ইতিমধ্যে কয়েক দশক পর্যন্ত দীর্ঘায়িত। সেপ্টেম্বরের বুলেটিন অনুযায়ী, ইবি-১ ক্যাটাগরিতে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের আবেদনকারীদের জন্য সুযোগ থাকলেও ভারতীয়দের ক্ষেত্রে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট আগামী ১৫ অক্টোবর ২০২২ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর অর্থ হলো, কেবল সেই সব ভারতীয় আবেদনকারীই চূড়ান্ত ভিসা অনুমোদনের যোগ্য বিবেচিত হবেন, যাঁদের অগ্রাধিকারের তারিখ (Priority Date) এই নির্ধারিত সময়সীমার আগের।
ভিসা সঙ্কট
ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপর এই ভিসা সংক্রান্ত চাপের বহর কেবল ইবি-১ (EB-1) ক্যাটাগরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের ইবি-২ (EB-2) ক্যাটাগরির ভিসা নম্বর-যা উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাদার এবং ব্যতিক্রমী প্রতিভাধর ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে—সেপ্টেম্বর মাসের বুলেটিনে সেটিকে 'U' অর্থাৎ 'আনঅ্যাভেইলেবল' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, 'U' চিহ্নের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট সময়কালে ওই ক্যাটাগরিতে কোনও ভিসা ইস্যু করার অনুমোদন নেই। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান-ভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার বা ইবি-৩ (EB-3) ক্যাটাগরিতেও ভিসা ব্যাকলগ অত্যন্ত প্রকট রূপ নিয়েছে, যেখানে অপেক্ষার দীর্ঘ লাইন পিছিয়ে গেছে টানা ১২ বছর।
{{/usCountry}}ভারতীয় আবেদনকারীদের ওপর এই ভিসা সংক্রান্ত চাপের বহর কেবল ইবি-১ (EB-1) ক্যাটাগরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের ইবি-২ (EB-2) ক্যাটাগরির ভিসা নম্বর-যা উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাদার এবং ব্যতিক্রমী প্রতিভাধর ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে—সেপ্টেম্বর মাসের বুলেটিনে সেটিকে 'U' অর্থাৎ 'আনঅ্যাভেইলেবল' হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, 'U' চিহ্নের অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট সময়কালে ওই ক্যাটাগরিতে কোনও ভিসা ইস্যু করার অনুমোদন নেই। এর পাশাপাশি কর্মসংস্থান-ভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার বা ইবি-৩ (EB-3) ক্যাটাগরিতেও ভিসা ব্যাকলগ অত্যন্ত প্রকট রূপ নিয়েছে, যেখানে অপেক্ষার দীর্ঘ লাইন পিছিয়ে গেছে টানা ১২ বছর।
{{/usCountry}}অন্যদিকে, ভারতীয়দের জন্য অসংরক্ষিত ইবি-৫ (EB-5) বিনিয়োগকারী ক্যাটাগরিতেও ভিসা নম্বর বর্তমানে 'আনঅ্যাভেইলেবল' হয়ে গেছে। তবে গ্রামীণ এলাকা, উচ্চ বেকারত্বপূর্ণ অঞ্চল এবং অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ইবি-৫-এর ‘সেট-অ্যাসাইড’ শ্রেণিগুলো সব দেশের আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের তারিখের তুলনায় আবেদনপত্র জমা দেওয়ার তারিখ (ফাইলিং ডেট)-এ কিছুটা বেশি সুযোগ মিলছে। ভারতের ক্ষেত্রে, সেপ্টেম্বর মাসের আবেদন জমার তালিকায় ইবি-১ ক্যাটাগরির জন্য ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর এবং ইবি-২ ও ইবি-৩ ক্যাটাগরির জন্য ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত যারা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের (অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস) আবেদন করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য ইউএসসিআইএস সেপ্টেম্বরে কোন চার্টটি অনুসরণ করতে বলবে। গ্রিন কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত দুটি চার্টের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে 'ফাইনাল অ্যাকশন ডেটস'-এর ভিত্তিতে ভিসা নম্বর ইস্যু ও গ্রিন কার্ড চূড়ান্ত অনুমোদন করা হয়। অন্যদিকে, ইউএসসিআইএস (USCIS) যদি 'ডেটস ফর ফাইলিং' চার্ট ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে আবেদনকারীরা আগেভাগেই তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পান।
মার্কিন আইনে সাধারণভাবে কোনও একটি দেশের জন্য পরিবার ও কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার ক্ষেত্রে প্রায় ৭ শতাংশের সীমা রয়েছে। বিপুল সংখ্যাক ভারতীয় আবেদনকারীর কারণে এই সীমাবদ্ধতা ভারতীয়দের গ্রিন কার্ডের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ করে তুলেছে। চলতি মার্কিন অর্থবর্ষ শেত হতে আর খুব বেশি সময় নেই। ফলে ইবি-১ পাওয়া না গেলে ভারতীয়দের কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ডের (Green Card) সঙ্কট আরও গভীর হতে পারে।