US-Iran Peace Talk in Islamabad: ‘লেজ কুকুরকে নাড়ায়…’., পাকে ইরান-আমেরিকা বৈঠক নিয়ে দাবি প্রাক্তন কূটনীতিবিদের

US-Iran Peace Talk in Islamabad: বর্তমান বিশ্ব-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক সর্বদাই একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো। আজ পাকিস্তানে এই দু'দেশের মধ্যে যে 'শান্তি আলোচনা' শুরু হয়েছে, তা নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন অভিজ্ঞ প্রাক্তন কূটনীতিক কে.পি. ফ্যাবিয়ান।

Published on: Apr 11, 2026 10:37 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

US-Iran Peace Talk in Islamabad: বর্তমান বিশ্ব-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক সর্বদাই একটি জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মতো। আজ পাকিস্তানে এই দু'দেশের মধ্যে যে 'শান্তি আলোচনা' শুরু হয়েছে, তা নিয়ে একটি গভীর বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন অভিজ্ঞ প্রাক্তন কূটনীতিক কে.পি. ফ্যাবিয়ান। তাঁর মতে, এই শান্তি প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং এর পিছনে কাজ করছে 'Tail wags the dog' (লেজ যখন কুকুরকে নাড়ায়) নামক এক বিচিত্র কৌশল। যখন কোনও অপ্রধান বা ছোটো শক্তি (এখানে পাকিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গোষ্ঠী) কোনও বড় শক্তিকে (আমেরিকা বা ইরান) নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে, তখন সেই তত্ত্ব ব্যবহার করা হয়।

ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। (ছবি সৌজন্যে এপি)
ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। (ছবি সৌজন্যে এপি)

সংবাদসংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্যাবিয়ান বলেছেন যে পাকিস্তান নিজেকে এই শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে বিশ্ব দরবারে গুরুত্ব বাড়াতে চাইছে। পাকিস্তান বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত এবং আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের 'শান্তিপ্রিয়' দেশ হিসেবে তুলে ধরা তাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু বাস্তবতা হল যে পাকিস্তান নিজেই অনেক সময় জঙ্গিগোষ্ঠীর মাধ্যমে বড় দেশগুলোকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, যা এই শান্তি আলোচনার স্থায়িত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাক্তন কূটনীতিবিদ।

আরও পড়ুন: Iranian mines in Strait of Hormuz: হরমুজে কোথায় কোথায় 'মাইন' পুঁতেছিল? নিজেরাই খুঁজে পাচ্ছে না ইরান, হল নয়া ঝামেলা

‘কূটনীতি হল সম্ভাবনার শিল্প'

তিনি বলেন, ‘কূটনীতি হল সম্ভাবনার শিল্প। এই মুহূর্তে আমি কল্পনাও করতে পারি না যে ইরানি এবং ইজরায়েলিরা একই ঘরে বা এমনকী একই ভবনে একসঙ্গে বসবে। কিন্তু আমি মনে করি না যে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আসল বিষয় হলেন প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্প।একমাত্র সমস্যা হল, ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে লেজ কুকুরকে নাড়ায়। ট্রাম্পের উপর (বেঞ্জামিন) নেতানিয়াহুর এমন এক প্রভাব আছে যা ব্যাখ্যা করা সহজ নয়। আমার ধারণা, তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করে সেই প্রভাব খাটিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প এখন ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মূল্য বুঝতে পারছেন এবং নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছেন।’

আরও পড়ুন: US & Indian Diplomats in Dhaka: ঢাকায় বিএনপি নেতার বাড়িতে নৈশভোজে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ভারতীয় হাইকমিশনার

'আমেরিকা ও ইরান - সাফল্য চায় ২ দেশই'

প্রাক্তন কূটনীতিবিদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই সাফল্য চায়, যদিও তাদের কারণ ভিন্ন। প্রেসিডেন্ট (ডোনাল্ড) ট্রাম্প ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের কারণে চালিত হচ্ছেন। অন্যদিকে এক্ষেত্রে ইরান স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল পক্ষ। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। তবে এই বোমা হামলায় ইতিমধ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এটি চলতে থাকলে ইরান গাজার মতো একটি রাষ্ট্র গঠনের ঝুঁকিতে পড়বে। তবে, প্রধানমন্ত্রী (বেঞ্জামিন) নেতানিয়াহুই হলেন আলোচনার অন্তরায়—সেই অপ্রিয় সত্য যিনি চান না এই আলোচনা সফল হোক। আমার ধারণা, এই আলোচনা সীমিত সাফল্য পাবে।'

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More