মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ দিন ধরে মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনে অন্তত আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। বুধবার এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি সামনে এনেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সেনেটর কির্স্টেন গিলিব্র্যান্ড। তাঁর প্রশ্নের জবাবে মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও একটি চিঠিতে এই তথ্য জানিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত নভেম্বর থেকে লিঙ্কন রণতরীর মোতায়েন শুরু হওয়ার পর থেকে গোটা ‘স্ট্রাইক গ্রুপ’-এ মোট আটটি আত্মহত্যার চেষ্টা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত জাহাজের ভিতরে কোনও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি বলেও স্পষ্ট করা হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। খাবারের ঘাটতি, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, টানা কাজ এবং বাড়ি থেকে দীর্ঘ সময় দূরে থাকার মতো বিষয়গুলি নিয়ে সেনা পরিবারের সদস্য এবং আইনপ্রণেতারাও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
নৌবাহিনীর সচিবের চিঠিতে দু’টি আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অগস্টের গোড়ায় বিমানবাহিনীর একটি ইউনিটে নিযুক্ত এক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। দ্রুত বিষয়টি নজরে আসে। একটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। পরে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তাঁকে জাহাজের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে মার্চ মাসে আরও এক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর সহকর্মীরা সময়মতো তাঁকে আটকে দেন। পরে ওই নাবিককে জাহাজ থেকে সরিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
{{/usCountry}}এর আগে মার্চ মাসে আরও এক নাবিক জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে তাঁর সহকর্মীরা সময়মতো তাঁকে আটকে দেন। পরে ওই নাবিককে জাহাজ থেকে সরিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
{{/usCountry}}ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে সমুদ্রযাত্রা শুরু করে। প্রথমে দক্ষিণ চিন সাগরে দায়িত্ব পালনের কথা ছিল জাহাজটির। কিন্তু পরে পরিস্থিতির পরিবর্তনের জেরে সেটিকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে ইজরায়েল ও আমেরিকার হামলা শুরু হওয়ার আগেই রণতরীটির গন্তব্য বদল করা হয়েছিল। প্রায় ২৮৬ দিন সমুদ্রে কাটানোর পর সেপ্টেম্বরে প্রথম বার থাইল্যান্ডে বিরতি নেয় লিঙ্কন। এত দীর্ঘ সময় টানা মোতায়েন থাকা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল।
অগস্টে রণতরীতে আত্মহত্যার চেষ্টা, মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা, খাবারের ঘাটতি এবং পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। মার্কিন সেনা পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আইনপ্রণেতারাও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে তৎকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই অভিযোগগুলি খারিজ করে দেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও দাবি করেছিলেন, রণতরীর পরিস্থিতিকে ‘ভুল ভাবে তুলে ধরা হয়েছে’।