...
...
Next Story

Vice President on Arunachal Border: অরুণাচলের সীমান্ত পাহারাতেই দেশের নিরাপত্তা, বিধানসভায় বড় বার্তা উপরাষ্ট্রপতির

অরুণাচল প্রদেশ ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিস্তীর্ণ সীমান্ত থাকায় দেশের নিরাপত্তায় এই রাজ্যের ভূমিকা বিশেষ। উপরাষ্ট্রপতি বলেন, অরুণাচলের মানুষ সীমান্ত রক্ষায় যে দায়িত্ব পালন করছেন, তার প্রভাব শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাকি অংশের নিরাপত্তার সঙ্গেও তা গভীর ভাবে জড়িত।

Published on: Sep 10, 2026, 09:14:15 IST
Advertisement

Vice President on Arunachal Border: অরুণাচল প্রদেশের মানুষ যে ভাবে দেশের সীমান্ত রক্ষা করে চলেছেন, তার সঙ্গে গোটা দেশের নিরাপত্তা সরাসরি জড়িত। ইটানগরে অরুণাচল প্রদেশ বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণন। একই সঙ্গে তিনি বিধায়কদের গণতন্ত্রের ঐতিহ্য বজায় রেখে রাজ্যের উন্নয়ন এবং দেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সীমান্ত রক্ষায় অরুণাচলের গুরুত্ব

উপরাষ্ট্রপতি বলেন, অরুণাচলের মানুষ সীমান্ত রক্ষায় যে দায়িত্ব পালন করছেন, তার প্রভাব শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। (@VPIndia X)
উপরাষ্ট্রপতি বলেন, অরুণাচলের মানুষ সীমান্ত রক্ষায় যে দায়িত্ব পালন করছেন, তার প্রভাব শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। (@VPIndia X)

অরুণাচল প্রদেশ ভৌগোলিক এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিস্তীর্ণ সীমান্ত থাকায় দেশের নিরাপত্তায় এই রাজ্যের ভূমিকা বিশেষ। উপরাষ্ট্রপতি বলেন, অরুণাচলের মানুষ সীমান্ত রক্ষায় যে দায়িত্ব পালন করছেন, তার প্রভাব শুধু রাজ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বাকি অংশের নিরাপত্তার সঙ্গেও তা গভীর ভাবে জড়িত।

তিনি জানান, অরুণাচলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদও রাজ্যটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি উন্নয়নের কাজও সমান ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এক সংবিধান, এক লক্ষ্য

দেশের ঐক্যের কথা তুলে ধরে রাধাকৃষ্ণন বলেন, ভারতকে এক করে রেখেছে একটি সংবিধান, ‘রাষ্ট্র প্রথম’-এর একটি অভিন্ন ভাবনা এবং ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্য।

ভারতের বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের মধ্যে যে মূল ঐক্য রয়েছে, সে কথাও তুলে ধরেন তিনি। জাতীয় কবি সুব্রহ্মণ্য ভারতীর বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যেও ভারতের চিন্তা ও আদর্শে একটি গভীর ঐক্য রয়েছে।

উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়নের উপর কেন্দ্রের বাড়তি গুরুত্বের কথাও বলেন রাধাকৃষ্ণন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর আমলে উত্তর-পূর্বের উন্নয়নের জন্য ডোনার মন্ত্রক তৈরির কথা তিনি উল্লেখ করেন।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর মতে, দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন অপরিহার্য।

অরুণাচলের উন্নতির প্রশংসা

অরুণাচল প্রদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন নিয়েও প্রশংসা করেন উপরাষ্ট্রপতি। দেশে কিউই ফল উৎপাদনে রাজ্যটির শীর্ষস্থান, রাস্তা পরিকাঠামোর উন্নতি এবং এক লক্ষেরও বেশি সয়েল হেলথ কার্ড দেওয়ার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন।

শিক্ষা এবং মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও অরুণাচল উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিধানসভা সচিবালয়কে প্লাস্টিকমুক্ত করার উদ্যোগ এবং বিধানসভা গ্রন্থাগার ও সংগ্রহশালা তৈরির প্রশংসা করেন।

গণতন্ত্রে আলোচনাই মূল শক্তি

বিধায়কদের কাজের ধরন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন রাধাকৃষ্ণন। তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে জয় পাওয়া সম্ভব হলেও মানুষের সম্মান ও বিশ্বাস অর্জন করতে হলে নিয়মিত জনসেবায় নিয়োজিত থাকতে হয়।

প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং জিরো আওয়ারকে কার্যকর ভাবে ব্যবহার করার জন্য বিধায়কদের আহ্বান জানান তিনি। নিজের এলাকার সমস্যা এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলি বিধানসভায় জোরালো ভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দেন।

বিতর্ক, আলোচনা এবং মতবিনিময়কে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, বিতর্ক বা আলোচনা—এমনকি কোনও কারণে সভায় বাধা তৈরি হলেও—শেষ পর্যন্ত তা যেন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছয়। গঠনমূলক মতপার্থক্য গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উন্নয়ন ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য

অরুণাচলের উন্নয়ন যেন কোনও আদিবাসী বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে পিছনে না ফেলে, সেই বিষয়েও জোর দেন উপরাষ্ট্রপতি। তাঁর কথায়, উন্নত অরুণাচল ছাড়া উন্নত ভারত গড়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

বিশেষ করে অরুণাচলের বিপুল জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে রাধাকৃষ্ণন জানান, পরিকল্পিত ভাবে এই সম্পদ ব্যবহার করা গেলে রাজ্যের আয় বাড়তে পারে। এর ফলে উন্নয়নের গতি আরও দ্রুত করা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রারও উন্নতি হবে।

সব মিলিয়ে অরুণাচল প্রদেশকে দেশের নিরাপত্তার পাশাপাশি উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরেছেন উপরাষ্ট্রপতি। সীমান্ত সুরক্ষা, গণতন্ত্রের চর্চা, পরিবেশ রক্ষা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন—এই চার ক্ষেত্রেই সমান গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks