অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের (এইচপিসিএল) শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড। সোমবার গভীর রাতে এই ঘটনায় প্রবল আতঙ্ক ছড়ায় শিল্পাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায়। শোধনাগারের ভিতর থেকে আগুনের বিশাল শিখা এবং কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আগুন লাগার আগে তাঁরা বিস্ফোরণের মতো জোরালো শব্দ শুনেছিলেন। তবে সত্যিই কোনও বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত করেনি পুলিশ। স্বস্তির বিষয়, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার রাতেই বিশাখাপত্তনমের গাজুওয়াকা শিল্পাঞ্চলে এইচপিসিএলের শোধনাগারে আগুন লাগে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, শোধনাগারের রেসিডিউ আপগ্রেডেশন ফেসিলিটি বা আরইউএফ-এর ভিতরে থাকা একটি সালফার পিচ ট্যাঙ্কে আগুন ধরে যায়। সেখান থেকেই দ্রুত আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বহু দূর থেকেও তা দেখা যাচ্ছিল। ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা।
ঘটনার সময় শোধনাগারের আশপাশে থাকা বাসিন্দারা প্রথমে বিকট শব্দ শুনতে পান। তার পরেই কারখানার ভিতর থেকে আগুনের শিখা দেখতে পান তাঁরা। আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে বিস্ফোরণের আশঙ্কা তৈরি হয়। ঘটনার বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিয়ো দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে আগুনের বিশাল শিখা আকাশের অনেকটা উপরে উঠে গিয়েছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় শোধনাগারের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ বাহিনী। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত কাজ শুরু করেন কর্মীরা। শহরের অন্য দমকল কেন্দ্রগুলিকেও সতর্ক করা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে শোধনাগারের নিজস্ব দমকলের দলই যথেষ্ট ছিল বলে জানিয়েছেন মালকাপুরম থানার পুলিশ আধিকারিক প্রকাশ রাও। তাঁর দাবি, প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
বাড়তি সতর্কতা হিসেবে শোধনাগারের যে অংশে আগুন লেগেছিল, সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কারখানার কর্মীদেরও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে, যাতে সাধারণ মানুষ কারখানার ভিতরে প্রবেশ করতে না পারেন।
{{/usCountry}}বাড়তি সতর্কতা হিসেবে শোধনাগারের যে অংশে আগুন লেগেছিল, সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। কারখানার কর্মীদেরও নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে, যাতে সাধারণ মানুষ কারখানার ভিতরে প্রবেশ করতে না পারেন।
{{/usCountry}}মালকাপুরম থানার আধিকারিক জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি। কেউ আহতও হননি। ফলে বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। আশপাশের বাসিন্দা এবং শোধনাগারের কর্মীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
তবে কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশের বক্তব্য, বিস্ফোরণের শব্দ শোনার দাবি স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া গেলেও বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি। এইচপিসিএলের তরফেও ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসেনি। আগুন লাগার কারণ এবং শোধনাগারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে। সব মিলিয়ে, রাতের অন্ধকারে শিল্পাঞ্চলের উপর আগুনের বিশাল শিখা এবং ধোঁয়ার মেঘ দেখে আতঙ্ক ছড়ালেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখন তদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা।