...
...
Next Story

Voter List: ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ মানেই নাগরিকত্ব বাতিল? কি বলল সুপ্রিম কোর্ট, জবাবে কী জানাল নির্বাচন কমিশন?

সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলির ভিত্তিতেই দেশের নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়। সেই আইন অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রেই ভারতের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন।

Published on: Jul 18, 2026, 12:55:07 IST
Advertisement

Voter List Latest Update: বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ পড়লে তিনি কি ভারতীয় নাগরিকত্ব হারাবেন? গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই প্রশ্ন ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে জোর বিতর্ক চলছে। এবার সেই জল্পনার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত মৌখিকভাবে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই কোনও ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিকত্ব বাতিল হয়ে যায় না।

দেশের নাগরিকত্ব নির্ধারণের আইনি ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
দেশের নাগরিকত্ব নির্ধারণের আইনি ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণের পরই দেশের নাগরিকত্ব নির্ধারণের আইনি ভিত্তি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভারতের নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র বৈধ আইনি ভিত্তি হল ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন (Indian Citizenship Act, 1955)। ভোটার তালিকায় নাম থাকা বা না থাকা কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয় বলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে।

এক সাম্প্রতিক বিবৃতিতে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন এবং পরবর্তী সংশোধনীগুলির ভিত্তিতেই দেশের নাগরিকত্ব নির্ধারিত হয়। সেই আইন অনুযায়ী, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ভারতে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক ব্যক্তি জন্মসূত্রেই ভারতের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ, এই শ্রেণির মানুষের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নাগরিকত্বের প্রমাণপত্রের প্রয়োজন হয় না।

তিনি জানান, ১৯৮৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৪ সালের ২ ডিসেম্বরের মধ্যে যাঁদের জন্ম হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা ভিন্ন। এই সময়ে ভারতে জন্মগ্রহণ করলেই নাগরিকত্ব মিলবে না। আবেদনকারীকে নিজের জন্মের নথির পাশাপাশি বাবা অথবা মায়ের মধ্যে অন্তত একজন যে ভারতীয় নাগরিক, তার বৈধ প্রমাণও জমা দিতে হবে।

এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন জ্ঞানেশ কুমার। কিছুটা হালকা মেজাজেই তিনি বলেন, 'আমরা এটা করেছি, কারণ কাউকে না কাউকে তো এই দায়িত্বটা নিতেই হত।' এরপর জনপ্রিয় হিন্দি সংলাপ উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, 'থোড়া দিল চাইয়ে, জিগর চাইয়ে।' তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের পূর্ণ সহযোগিতা এবং সমর্থন থাকায় এই প্রক্রিয়া সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের পর একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে—ভোটার তালিকা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি প্রশাসনিক নথি হলেও নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র ভিত্তি নয়। কোনও ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লেও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব হারান না। নাগরিকত্ব সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সবসময়ই ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন এবং তার সংশোধিত বিধানের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হবে। ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকটাই দূর হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও আইন বিশেষজ্ঞ মহল।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe