Wayanad Landslide Update: কেরলের ওয়েনাড় জেলায় প্রবল বর্ষণের জেরে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে জেলার কাল্লাডি এলাকার মীনাক্ষী সেতুর কাছে আচমকাই পাহাড় ধসে পড়ে। ধসের সময় ঘটনাস্থলে নির্মাণকর্মীরা কাজ করছিলেন। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে একাধিক শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দমকল ও উদ্ধারকারী বাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে হাত লাগিয়েছেন।

জানা গিয়েছে, মালাপ্পুরম ও ওয়েনাড় জেলার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য নির্মীয়মাণ আনাক্কমপোইল-মেপ্পাডি টানেল সড়ক প্রকল্পের কাছেই এই ধস নামে। প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকরা তখন কাজ করছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়তেই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় মানুষ প্রথমে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান আরও জোরদার করে।
প্রশাসনের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপ থেকে অন্তত দু'জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত পাঁচজনকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণেই উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।
কেরল ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের একাধিক দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে। পাশাপাশি জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর দলও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ভারী বৃষ্টি সত্ত্বেও উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারী কর্মীরা।
প্রশাসন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ওয়েনাড়ের ওই এলাকায় প্রায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলেই পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে এই ভূমিধস হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ধসে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
{{/usCountry}}প্রশাসন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ওয়েনাড়ের ওই এলাকায় প্রায় ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টির ফলেই পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে এই ভূমিধস হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। ধসে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
{{/usCountry}}যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ধসের কাছাকাছি কয়েকটি বাড়ি এবং হোমস্টে থাকলেও প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেগুলির কোনও ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। তবে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।
উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন কেরলের কৃষিমন্ত্রী টি সিদ্দিক এবং জেলার জেলাশাসক। তাঁদের উপস্থিতিতেই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি এলাকা খুঁটিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
টানা ভারী বৃষ্টির কারণে কেরলের একাধিক জেলায় ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর আগামী কয়েকদিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে ওয়েনাড়-সহ পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। প্রশাসন স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।