India-Bangladesh Ganga water pact: আগে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ দেখতে হবে, বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তির আগে বলল রাজ্য

India-Bangladesh Ganga water pact: চলতি বছরের শেষের দিকে গঙ্গা-পদ্মা জলবণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণ হওয়ার কথা আছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানানো হল যে আগে যেন রাজ্যের স্বার্থ বিবেচনা করা হয়।

Published on: Aug 30, 2026, 20:59:05 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India-Bangladesh Ganga water pact: ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৩০ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক গঙ্গা-পদ্মা জলবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই শেষ হতে চলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের জল নিরাপত্তা, বন্দর সচল রাখা এবং শিল্প ও পানীয় জলের চাহিদা সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানাল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। চুক্তি নবীকরণের প্রক্রিয়ায় যেন রাজ্যের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়, সে বিষয়ে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের শেষের দিকে গঙ্গা-পদ্মা জলবণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণ হওয়ার কথা আছে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)
চলতি বছরের শেষের দিকে গঙ্গা-পদ্মা জলবণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণ হওয়ার কথা আছে। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় জল শক্তি মন্ত্রকের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটির বৈঠকে রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিরা এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করেন। বৈঠকে রাজ্যের তরফে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হয়, যেখানে পশ্চিমবঙ্গবাসীদের পানীয় জল, সেচ এবং শিল্পের জন্য ভবিষ্যৎ জলের চাহিদার খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে।

আরও পড়ুন: Bengal Rules Changing from 1st Sept: বাংলায় পালটে যাচ্ছে একাধিক নিয়ম! সেপ্টেম্বর থেকে কোন কোন ভুল করলেই জরিমানা?

ভাগীরথী-হুগলি নদীর প্রবাহ রক্ষা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

রাজ্য সরকারের শীর্ষ আমলাদের মতে, শুষ্ক মরশুমে ফরাক্কা ব্যারেজ থেকে ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত জলপ্রবাহ বজায় রাখা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত জরুরি। গত কয়েক দশকে দেখা গিয়েছে, শুষ্ক মরশুমে নিম্নপ্রবাহে জলের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। এর ফলে হুগলি নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও নাব্যতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও পড়ুন: Babughat-Mayapur Ferry and Tourism: বাবুঘাট থেকে ফেরিতে মায়াপুর! জলপথ পর্যটনে জুড়বে চন্দননগর-শ্রীরামপুর-ব্যারাকপুর

নদীতে জলের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় না থাকলে নদীর স্বতঃস্ফূর্ত পলি নিষ্কাশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলি জমতে জমতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যা প্রত্যক্ষভাবে কলকাতা বন্দরের (শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর) উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচলের জন্য নদীতে প্রয়োজনীয় গভীরতা থাকা দরকার। পলি জমার কারণে বড় জাহাজ প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রায়শই সমস্যা তৈরি হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং রাজ্যের অর্থনীতির জন্য একটি বড় উদ্বেগ।

ভাঙন সংকট: মালদা, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার দুর্দশা

ফরাক্কা ব্যারেজের দুই অঞ্চলেই নদী ভাঙন একটি স্থায়ী সমস্যায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রতি বছর নদীর তীব্র ভাঙনে হাজার হাজার-মানুষ গৃহহীন হন, নষ্ট হয় প্রচুর কৃষিজমি।

আরও পড়ুন: Bangladesh on Macca Pact Risk: বাংলাদেশের বিপদ বাড়বে মক্কা প্যাক্টে যোগ দিলে? বড় দাবি মন্ত্রীর, 'চাপ' জামাতের

রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, ফরাক্কা ব্যারেজের কারণে এবং পলির অতিরিক্ত সঞ্চয়ের ফলে এই জেলাগুলিতে ভাঙন ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নতুন কোনও জলবণ্টন চুক্তি করার আগে সেইসব বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে।

পানীয় জল ও আর্সেনিক সমস্যা

পশ্চিমবঙ্গের জন্য গঙ্গার জলের প্রয়োজনীয়তা কেবল নদী ও বন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ ও মধ্যবঙ্গের এক বিশাল জনসংখ্যার পানীয় জলের একমাত্র ভরসা এই নদী। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নামছে এবং ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের মাত্রা বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিশোধিত গঙ্গার জলকে সুপেয় পানীয় জল হিসেবে ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার একাধিক প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি কৃষি ক্ষেত্রে সেচ এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলিতে জলের জোগান নিশ্চিত করতে গঙ্গার অবিরত প্রবাহ প্রয়োজন। সেইসব বিষয় বিবেচনা করেই কেন্দ্রীয় সরকার যাতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেই মর্মে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More