পশ্চিম এশিয়ায় তীব্র সংঘাতের মাঝে পাকিস্তানের তৃতীয় পক্ষ হয়ে মধ্যস্ততাকারীর ভূমিকাকে তীব্র কটাক্ষ করল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার সর্বদলীয় বৈঠকে বৈশ্বিক কূটনীতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার জন্য ইসলামাবাদের প্রচেষ্টাকে রীতিমতো তোপ দেগে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'ভারত পাকিস্তানের মতো কোনও দালাল বা ব্রোকার দেশ নয়।'

পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখতে ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। যা নিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করছে বিরোধীরা। বুধবার সংসদে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেও বিরোধী নেতারা অভিযোগ তোলেন, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগে পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে জয়শঙ্কর পরিষ্কার করে দেন, ভারত এই ধরনের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকায় বিশ্বাসী নয় এবং নিজেদের কূটনীতিকে কোনওভাবেই লেনদেন ভিত্তিক ‘ব্রোকারেজ’-এ পরিণত করবে না। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের ভূমিকায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নতুন নয়। ১৯৮১ সাল থেকেই ওয়াশিংটন-তেহরান যোগাযোগে পাকিস্তানকে ব্যবহার করা হয়ে আসছে। পাশাপাশি, ভারতের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে ওঠা বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে সরকার জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান ঘটাতে হবে এবং এই সংঘাত সব পক্ষেরই ক্ষতি করছে।
অসন্তুষ্ট বিরোধীরা
তবে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট হননি বিরোধী নেতারা। তাঁরা এই বিষিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, আর 'আমরা এখনও নির্বাক দর্শক।' তিনি লোকসভায় এবং রাজ্যসভায় এই বিষয়ে বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে সংসদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরী-সহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, জেডি(ইউ) এবং সিপিআই(এম)-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
{{/usCountry}}তবে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারের জবাবে সন্তুষ্ট হননি বিরোধী নেতারা। তাঁরা এই বিষিয়ে সংসদে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার কেন্দ্রের সমালোচনা করে বলেন, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, আর 'আমরা এখনও নির্বাক দর্শক।' তিনি লোকসভায় এবং রাজ্যসভায় এই বিষয়ে বিতর্কের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে সংসদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরী-সহ বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, জেডি(ইউ) এবং সিপিআই(এম)-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করা এই যুদ্ধে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে শত্রুতা ও সংঘাতের তীব্রতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হন এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা হামলার জেরে পুরো অঞ্চলে সংঘাতের ব্যাপক বিস্তার ঘটে।