Green Card Restrictions: ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশি কর্মীদের নিয়ে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল নয়াদিল্লি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত আপত্তিকর’ বলে উল্লেখ করেছে ভারত।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মার্কিন প্রশাসন আটটি বড় প্রযুক্তি ও আইটি সংস্থাকে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক গ্রিন কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পিইআরএম কর্মসূচি থেকে সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছে। তালিকায় রয়েছে টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (TCS), ইনফোসিস, উইপ্রো, এইচসিএল, কগনিজ্যান্ট, ক্যাপজেমিনি, মাইক্রোসফট এবং অ্যাডোবি। অভিযোগ উঠেছে, এই সংস্থাগুলি বেআইনি উপায়ে বা নিয়মের ফাঁক গলে এইচ-১বি ভিসার (H1B) যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। এই সংস্থাগুলি প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক ভারতীয় মেধাবী পেশাদারকে কাজের সুবাদে মার্কিন মুলুকে নিয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির কর্মীদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে কিংবা দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে পিইআরএম প্রক্রিয়ায় আবেদন করার অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁদের অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। তবে মূল বিতর্কের আরেকটি কেন্দ্র জেডি ভ্যান্সের বক্তব্য।
জেডি ভ্যান্স বলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের আগে সংস্থাগুলিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বিজ্ঞাপন দিতে হয়। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠান ছোট শহরের সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে দাবি করে, ওই পদে কোনও মার্কিন নাগরিক আবেদন করেননি। এরপর তারা বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমতি চায়। ভ্যান্সের অভিযোগ, এভাবে নিয়মের সুযোগ নিয়ে সংস্থাগুলি মার্কিন কর্মীদের সরিয়ে তাদের জায়গায় বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। তিনি এইচ-১বি ভিসায় নিয়োগ পাওয়া বিদেশি কর্মীদের ‘বিদেশি চুক্তিবদ্ধ দাস’ বলে আখ্যা দেন। এ কর্মসূচি ব্যবহার করা সংস্থাগুলিকে তিনি ‘ভিসা তৈরির কারখানা’ বলেও মন্তব্য করেন।
বিদেশ মন্ত্রকের প্রতিক্রিয়া
শুক্রবার জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন লক্ষ্য ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, পিইআরএম প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশের ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি (H-1B) ভিসা বা সেই ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের বৈধ অবস্থান সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে না। নয়াদিল্লির বক্তব্য, দক্ষ ভারতীয় পেশাদারেরা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের অবদানকে এ ভাবে বর্ণনা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ভারতের আপত্তির মূল সুর। ভারতের আপত্তি তাই শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়; দক্ষ কর্মীদের চলাচল, দুই দেশের প্রযুক্তি-বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অভিবাসন নীতির বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে।
{{/usCountry}}শুক্রবার জেডি ভ্যান্সের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বিদেশ মন্ত্রক (Ministry of External Affairs) জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন লক্ষ্য ও স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এক বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে, পিইআরএম প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশের ফলে বর্তমানে বৈধ এইচ-১বি (H-1B) ভিসা বা সেই ভিসাধারীদের পরিবারের সদস্যদের বৈধ অবস্থান সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে না। নয়াদিল্লির বক্তব্য, দক্ষ ভারতীয় পেশাদারেরা দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অর্থনীতি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। তাঁদের অবদানকে এ ভাবে বর্ণনা করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে ভারতের আপত্তির মূল সুর। ভারতের আপত্তি তাই শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সীমাবদ্ধ নয়; দক্ষ কর্মীদের চলাচল, দুই দেশের প্রযুক্তি-বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অভিবাসন নীতির বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে।
{{/usCountry}}উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস ও চাকরি নিশ্চিত করার প্রথম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল এই পিইআরএম সার্টিফিকেশন, যা মূলত গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। মার্কিন সংস্থাগুলি সাধারণত এই পদ্ধতির সাহায্যেই বিদেশি বিশেষজ্ঞদের কাজের সুযোগ দিয়ে থাকে। আপাতত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পিইআরএম প্রক্রিয়ার এই স্থগিতাদেশ কত দিন চলবে এবং তদন্তের পর মার্কিন প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়।