এই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ কালো কার্যত। হামলা, হুমকি, হুঁশিয়ারি, মৃত্যুমিছিল। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আতঙ্কের। এই আবহে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিচারে বৈঠক বসে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। আর সেখানেই ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানালেন রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপেরও নিন্দা জানান তিনি।

শনিবার সকাল থেকে ইরানের রাজধানী তেহরান-সহ বিভিন্ন শহরে একযোগে হামলা শুরু করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল। এরপর পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানও। এই যুদ্ধের জেরে আতঙ্ক এবং উৎকণ্ঠ ছড়িয়েছে গোটা বিশ্বজুড়ে। রবিবারও ইরান ও ইজরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত আরও তীব্রতর হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। এই আবহে নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘আজকের সামরিক উত্তেজনায় আমি নিন্দা জানাচ্ছি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ এবং পরবর্তীতে ইরানের পাল্টা হামলা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করছে।’ তিনি বলেন, রাষ্ট্রসংঘ সনদ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার ভিত্তি প্রদান করে। তারপরেই তিনি বলেন, 'সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সকল সদস্য তাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেকোনও রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি বা বলপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে। আন্তর্জাতিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনকে সর্বদা সম্মান করতে হবে।'
রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বেসামরিক জনগণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর।’ তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, ‘আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিকল্প নেই।’
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ও সংঘাত
{{/usCountry}}রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সংঘাত অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে বেসামরিক জনগণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর।’ তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, ‘আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিকল্প নেই।’
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ও সংঘাত
{{/usCountry}}মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানান। আর সেই বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পক্ষে সওয়াল করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত। মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ইরানে হামলা চালিয়ে কোনও আইন লঙ্ঘন করেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর কথায়, 'ইরান পারমাণবিক অস্ত্র রাখতে পারে না। এই নীতি কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং একটি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সমস্যা। এবং সেই লক্ষ্যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৈধ পদক্ষেপ নিচ্ছে।' অন্যদিকে, রাষ্ট্রসংঘে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন অস্তিত্বগত হুমকি রোধে বিমান হামলাকে প্রয়োজনীয় বলে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, 'আমরা নিশ্চিত করব যে কোনও কট্টরপন্থী সরকার যেন পারমাণবিক অস্ত্র এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত না হয় যা আমাদের জনগণ বা সমগ্র বিশ্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে।'
এদিকে, ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি নিরাপত্তা পরিষদে বলেন যে বিমান হামলায় শত শত ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছেন। তিনি এটিকে 'মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ' বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের 'যুদ্ধবাজ বক্তব্য' সম্পর্কে তেহরানের সতর্কবার্তায় কর্ণপাত না করার জন্য রাষ্ট্রসংঘ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সমালোচনা করেন এবং কাউন্সিলকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। ইরাভানি বলেন, 'নিরাপত্তা পরিষদের সামনে বিষয়টি সহজ: পরিষদের স্থায়ী সদস্য সহ কোনও সদস্য রাষ্ট্র কী বলপ্রয়োগ বা আগ্রাসনের মাধ্যমে অন্য রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যত বা ব্যবস্থা নির্ধারণ করতে বা তার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে?'