...
...
Next Story

Hantavirus: নয়া আতঙ্ক হান্টাভাইরাস! ফের কী লকডাউনের পথে বিশ্ব? মুখ খুলল WHO

Hantavirus: হান্টাভাইরাস মূলত একটি 'জুনোটিক' (প্রাণীবাহিত) রোগ, যা ইঁদুর জাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়; অন্যদিকে, কোভিড-১৯ হলো অত্যন্ত সংক্রামক প্রকৃতির একটি শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ে।

Published on: May 08, 2026 07:16 PM IST
Advertisement

Hantavirus: বিশ্বের নয়া আতঙ্ক হান্টাভাইরাস। সম্প্রতি আর্জেন্টিনা থেকে যাত্রা শুরু করা একটি জাহাজ এমভি হন্ডিয়াসের একাধিক যাত্রীর শরীরে হান্টাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পরে। ইতিমধ্যেই ৩ জনের মৃত্যুর খবরও এসেছে এই ভাইরাসের সংক্রমণে। আর তার জেরেই বিশ্বজুড়ে নয়া উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এই হান্টাভাইরাস। এই আবহে প্রশ্ন উঠেছে বিশ্বজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়ানো হান্টাভাইরাস কী কোভিডের মতো আবারও সেই দুঃসহ দিনগুলো ফিরিয়ে আনবে? আবারও কী শুরু হবে লকডাউন কিংবা মাস্কের বাধ্যবাধকতা? সাধারণ মানুষের মনে উঁকি দেওয়া এমন শত শত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

নয়া আতঙ্ক হান্টাভাইরাস! (REUTERS)
নয়া আতঙ্ক হান্টাভাইরাস! (REUTERS)

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) 'মহামারি ও অতিমারি ব্যবস্থাপনা' বিভাগের ডিরেক্টর ডা. মারিয়া ভ্যান কারখোভ বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, 'এটি কোভিড নয়, কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জাও নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন উপায়ে ছড়িয়ে পড়ে।' তিনি আরও বলেন, 'বর্তমানে আমাদের জাহাজে এমন কোনও যাত্রী বা ক্রু নেই, যাদের মধ্যে রোগের কোনও উপসর্গ দেখা দিয়েছে। অতীতে যখন 'অ্যান্ডিস ভাইরাস'-এর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল, তখন মানুষ থেকে মানুষের দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ মূলত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।' অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার 'জরুরি স্বাস্থ্য কর্মসূচি'-র আওতাধীন বিভাগের ডিরেক্টর ডা. আবদিরাহমান মাহামুদ বলেন, '২০১৮-২০১৯ সালে আর্জেন্টিনায় আমরা একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম। সেখানে একজন উপসর্গযুক্ত ব্যক্তি একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন, যার ফলে বহু মানুষ সংক্রমিত হয়ে পড়েছিলেন। বর্তমানে আমরা ঠিক একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি-একটি আবদ্ধ স্থানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের কারণে সংক্রমণের একটি গুচ্ছ বা ক্লাস্টার তৈরি হয়েছে।'

ডা. মাহামুদ উল্লেখ করেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিটি আর্জেন্টিনার সেই প্রাদুর্ভাবের মতোই; তাই আমরা মনে করছি না যে এটি কোনও বিশাল আকারের অতিমারীতে পরিণত হবে। জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পদক্ষেপগুলো যথাযথভাবে মেনে চললে আমরা সংক্রমণের শৃঙ্খলটি ভেঙে ফেলতে পারব এবং এই প্রাদুর্ভাবটি একটি সীমিত পরিসরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।' ডা. ভ্যান কারখোভও জোর দিয়ে বলেন, 'এটি করোনা ভাইরাস নয়। এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রকৃতির একটি ভাইরাস, যার অস্তিত্ব বেশ দীর্ঘ সময় ধরেই রয়েছে। এটি কোনও নতুন কোভিড-অতিমারীর সূচনা নয়; এটি মূলত জাহাজের মতো একটি আবদ্ধ স্থানের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি প্রাদুর্ভাব, যা আমরা বর্তমানে পর্যবেক্ষণ করছি।' তিনি আরও বলেন, 'ছয় বছর আগে আমরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম, এটি তা নয়। এই ভাইরাসটি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও সেই একই পদ্ধতি অনুসরণ করে না।'

হান্টাভাইরাস ও কোভিড-১৯-এর মধ্যে পার্থক্য

হান্টাভাইরাস মূলত একটি 'জুনোটিক' (প্রাণীবাহিত) রোগ, যা ইঁদুর জাতীয় প্রাণী থেকে মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়; অন্যদিকে, কোভিড-১৯ হলো অত্যন্ত সংক্রামক প্রকৃতির একটি শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস, যা মানুষ থেকে মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও উভয় ভাইরাসই শ্বাসতন্ত্রের গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, তবুও একক সংক্রমণের ক্ষেত্রে হান্টাভাইরাস উল্লেখযোগ্যভাবে অধিক প্রাণঘাতী। কিন্তু এর দ্বারা মহামারী ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক কম, কারণ এটি মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে খুব একটা সহজে বা কার্যকরভাবে ছড়াতে পারে না। কোভিড-১৯ খুব দ্রুত মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। এটি বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকতে পারে এবং একই কক্ষে অবস্থানরত বিশাল সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে। অন্যদিকে, হান্টাভাইরাস মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে কেবল তখনই ছড়াতে পারে, যখন দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ বজায় থাকে। হান্টাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকা বা অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে।

জাহাজে হান্টাভাইরাস

হান্টাভাইরাস মূলত ইঁদুরের লালা, মূত্র বা মলের সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। মানুষ থেকে মানুষ সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি কেবল ‘অ্যান্ডেস’ স্ট্রেইনের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাও সীমিত পরিসরে। যদিও এককভাবে বিবেচনা করলে হান্টাভাইরাস কোভিডের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী, কিন্তু এর সংক্রমণ ক্ষমতা অত্যন্ত কম হওয়ায় এটি বিশ্বব্যাপী মহামারীর রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ডক্টর তেদ্রোস অ্যাধানম ঘেব্রেইসাস বলেন, অ্যান্ডিস ভাইরাসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে বা ইনকিউবেশন পিরিয়ড প্রায় ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে। তাই সামনে আরও কিছু আক্রান্তের খবর পাওয়া যেতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর ঝুঁকি খুবই কম।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe