...
...
Next Story

Dharmendra Pradhan Resigns: জেন-জি’কে হারানোর ভয় ও ভোট অঙ্ক: ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নেপথ্যের কারণ কী?

Dharmendra Pradhan Resigns: ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও সরকারের মধ্যে আলোচনা যখন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অচলাবস্থায় পৌঁছায়, ঠিক তখনই ‘নৈতিক দায়’ স্বীকার করে নিজে থেকেই ইস্তফার প্রস্তাব দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।

Published on: Jul 26, 2026, 11:25:26 IST
Advertisement

Dharmendra Pradhan Resigns: ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতার কাছে এবার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হল কেন্দ্রীয় সরকার। পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। কার্যত, নজিরবিহীন। নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ায় এর সামাজিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রভাব নিয়ে সরকারের অন্দরে চলছিল দীর্ঘ আলোচনা। সামনেই একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন, তাই শাসক দল বিজেপি ওপর এর নেতিবাচক রাজনৈতিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে শনিবার অবশেষে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান-এমনটাই জানিয়েছেন ঘটনার সঙ্গে পরিচিত অভিজ্ঞ মহল।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নেপথ্যের কারণ কী? (PTI)
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ নেপথ্যের কারণ কী? (PTI)

ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ও সরকারের মধ্যে আলোচনা যখন মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে অচলাবস্থায় পৌঁছায়, ঠিক তখনই ‘নৈতিক দায়’ স্বীকার করে নিজে থেকেই ইস্তফার প্রস্তাব দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিজেপি নেতা স্বীকার করেছেন যে, এই বিক্ষোভ কেন্দ্রীয় সরকার এবং ২২টি রাজ্য ও ২টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শাসকদল এনডিএ-এর জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দলের এক প্রবীণ সংসদ সদস্য বলেন, '২০১৪ সাল থেকে বিজেপি যে কোনও রাজনৈতিক ঝড় সামলে নেওয়ার জন্য পরিচিত, কারণ সব ইস্যুতে ইস্তফা দেওয়া সমাধান নয়। সরকার সবসময় গলদ শুধরে নেওয়া এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ায় বিশ্বাসী। ধর্মেন্দ্র প্রধানও পুনঃপরীক্ষা নেওয়া এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু এই আন্দোলনকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী ও রাজনৈতিক বিরোধীরা সরকার উৎখাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছিল।' তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে গোটা সরকার ছাত্রদের উদ্বেগ দূর করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিরোধীরা যেভাবে ছাত্রদের উসকে দিচ্ছিল, তাতে ইউথ বা যুবসমাজের ক্ষোভের বিরুদ্ধে জেতা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।'

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আন্দোলনকারী ছাত্রদের দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেন। এরপরের দিন এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিদ্যমান আইন সংশোধন করে সরকারি পরীক্ষার অনিয়মে জড়িতদের জন্য আরও কঠোর শাস্তি ও জরিমানার বিধান আনার কথা ঘোষণা করেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি, আন্দোলন চলতেই থাকে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির সতর্কবার্তার পাশাপাশি বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ’ (আরএসএস)-এর পরামর্শও সরকারের সিদ্ধান্ত বদলাতে বড় ভূমিকা পালন করে। আরএসএস এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, 'সংঘ স্পষ্ট জানিয়েছিল যে এই ছাত্র আন্দোলনকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। তারা সরকারকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল সংস্কারের ওপর জোর দিতে বলে। দীর্ঘদিন ধরেই সংঘ শিক্ষাক্রম থেকে শুরু করে শিক্ষা মন্ত্রকের দৈনন্দিন কাজকর্ম সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে।' এমনকী শুক্রবার আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত প্রজন্মগত পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে বলেন, ভারত এখন 'অন্ধ আনুগত্যের যুগ' পেরিয়ে এমন এক যুগে প্রবেশ করেছে যেখানে যুবসমাজ 'যুক্তি ও প্রমাণের' ওপর ভিত্তি করে উত্তর দাবি করে। সিজেপি বা প্রত্যক্ষ আন্দোলনের নাম না নিলেও তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিষ্ঠান ও পরিবারগুলিকে জোর করে নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার বদলে তরুণদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, সঠিক পথ দেখাতে হবে এবং তাদের জন্য সময় দিতে হবে।

সরকারের এই পিছু হটার নেপথ্যে আরেকটি বড় কারণ ছিল ছাত্র আন্দোলনের সামাজিক প্রভাব। অতীতে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন কিংবা ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইন্ডিয়া এগেইনস্ট করাপশন’ আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, 'কোনও রাজনৈতিক দলই দেশের যুবসমাজকে দূরে ঠেলে টিকে থাকতে পারে না। বিশেষ করে পাঞ্জাব ও উত্তরপ্রদেশের মতো সংবেদনশীল রাজ্যগুলিতে যখন বিধানসভা নির্বাচন সামনে, তখন বিরোধীদের হাতে তরুণদের অবহেলা করার মতো কোনও রাজনৈতিক অস্ত্র তুলে দিতে চায়নি সরকার।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe