India-Brazil: ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয়লাভ করে পুনরায় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং গ্লোবাল সাউথের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগামী দিনে একযোগে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত ও ব্রাজিলের বহুমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও প্রসারিত করতে তিনি লুলার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশ যৌথভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করবে, গ্লোবাল সাউথের যৌথ অগ্রাধিকারমূলক বিষয়গুলোকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ অব্যাহত রাখবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ৮১ বছরে পা দেবেন লুলা। তার আগেই এই নির্বাচন জিতে টানা নয়, বরং নিজের জীবনে চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের পদে বসছেন তিনি। তাঁর এই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তন ভারতের কূটনীতির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। কারণ রাষ্ট্রসংঘ-সহ বৈশ্বিক সুশাসন প্রতিষ্ঠানগুলির সংস্কার এবং বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা পুনর্গঠনের চেষ্টায় দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের এক অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে ব্রাজিল।
প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা
এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু, প্রেসিডেন্ট লুলাকে তাঁর বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। ভারত-ব্রাজিলের বহুমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ।' প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করবে। পাশাপাশি, গ্লোবাল সাউথের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যেও ভারত ও ব্রাজিল একযোগে কাজ করবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
{{/usCountry}}এক্স-এ পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লেখেন, 'আমার প্রিয় বন্ধু, প্রেসিডেন্ট লুলাকে তাঁর বিপুল ভোটে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার জন্য আন্তরিক অভিনন্দন। ভারত-ব্রাজিলের বহুমুখী কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর ও বিস্তৃত করতে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ।' প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশ একসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করবে। পাশাপাশি, গ্লোবাল সাউথের অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যেও ভারত ও ব্রাজিল একযোগে কাজ করবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
{{/usCountry}}নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার কারণে গত মাসে ভারতে আয়োজিত ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে সশরীরে অংশ নিতে পারেননি লুলা। ঐতিহাসিক জয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, ব্রাজিলের মানুষ রাস্তায় এবং ব্যালট বাক্সে ইতিহাস তৈরি করেছে, যেখানে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার বাকি থাকা এক যাত্রায় জনগণই প্রধান নায়ক। কট্টর ডানপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করার পর লুলা বলেন, গণতন্ত্রের জয় হয়েছে, আশা আরও দৃঢ় হয়েছে এবং ব্রাজিল এগিয়ে চলেছে। উল্লেখ্য, প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্রের এই পরাজয়কে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের জনগণের সুস্পষ্ট প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
এই জয়ের রাজনৈতিক তাৎপর্য
লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশে যখন ডানপন্থী শক্তি উত্থান ঘটাচ্ছে, তখন লুলার এই বিজয় সমগ্র লাতিন আমেরিকার বামপন্থী রাজনীতিতে তাঁকে শীর্ষ নেতৃত্ব প্রদানকারী ভূমিকা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। ২০২৫ সালে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও ব্রাজিল উভয়ের ওপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক (ট্যারিফ) চাপিয়েছিলেন—যা ছিল মার্কিন প্রশাসনের নেওয়া অন্যতম সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক পদক্ষেপ—তখনই ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়ার পথ খুঁজতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছিলেন লুলা। সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও লুলা এই দুই উদীয়মান অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং প্রযুক্তি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা গভীর করার অঙ্গীকার করেছিলেন।
ব্রাজিলের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এই চড়া শুল্কের শর্ত হিসেবে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বলসোনারোর বিরুদ্ধে আইনি বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি তুলেছিলেন এবং ভারতের ক্ষেত্রে তুলেছিলেন রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার প্রসঙ্গ। সেই সময় লুলা দৃঢ়তার সঙ্গে 'বহুপাক্ষিকতা রক্ষার' ক্ষেত্রে ব্রাজিল ও ভারতের যৌথ প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন। এরপরেই বড় বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদল নিয়ে ভারত সফরে এসেছিলেন লুলা, যা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল। বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করতে ২০২৫ সালেই পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় দুই দেশের বাণিজ্য ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৩০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
এছাড়াও বিরল খনিজ (Rare Earths) এবং খনন ক্ষেত্রে দুই দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভারতের জ্বালানি রূপান্তর, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের জোগানে চিনের একচেটিয়া আধিপত্য কমানোর লড়াইয়ে এই চুক্তিগুলি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রাজিলের মাটির নিচে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম বিরল খনিজ ভাণ্ডার রয়েছে বলে মনে করা হয়, যা ভবিষ্যতে ভারতের এই ধরনের কাঁচামালের এক বিশাল উৎস হতে পারে। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা উৎপাদন, মহাকাশ গবেষণা এবং তথ্যপ্রযুক্তির ডিজিটাল রূপান্তরের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থেকে লাভবান হওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে ব্রাজিলের সামনে।