স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে দেশবাসীর জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লালকেল্লা থেকে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল প্রযুক্তি, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, খেলাধুলা, সেমিকন্ডাক্টর এবং পরমাণু শক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আগামী কয়েক বছরকে সামনে রেখে একাধিক নতুন লক্ষ্যের কথাও জানান তিনি।

প্রথমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI নিয়ে বড় ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। আগামী এক বছরে দেশজুড়ে মিশন মোডে ১ কোটি যুবক-যুবতীকে AI-এর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হল দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের প্রযুক্তির জন্য প্রস্তুত করা। শিক্ষাক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যুবকদের জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে গরিব এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের পড়ুয়াদের এই সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
মোদীর ভাষণে প্রতিরক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বদলে যাওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণকে আরও আধুনিক করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতাও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
খেলাধুলার ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে। দেশজুড়ে খেলোয়াড় খোঁজার জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামের পাশাপাশি শহরেও এই প্রতিভা খোঁজা হবে। ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সি শিশুদের এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়েও বড় পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। আগামী ১ থেকে ২ বছরের মধ্যে ৭ থেকে ৮টি নতুন সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন কেন্দ্র চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এর ফলে দেশে চিপ উৎপাদন বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেমিকন্ডাক্টরকে বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হয়। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার থেকে শুরু করে গাড়ি এবং বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম তৈরিতে এর প্রয়োজন হয়। ফলে দেশে চিপ উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানোকে কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরমাণু শক্তি নিয়েও বড় লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
{{/usCountry}}সেমিকন্ডাক্টরকে বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখা হয়। মোবাইল ফোন, কম্পিউটার থেকে শুরু করে গাড়ি এবং বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তির সরঞ্জাম তৈরিতে এর প্রয়োজন হয়। ফলে দেশে চিপ উৎপাদনের ক্ষমতা বাড়ানোকে কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরমাণু শক্তি নিয়েও বড় লক্ষ্য ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ গিগাওয়াটে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
{{/usCountry}}এছাড়াও আগামী ৬ থেকে ৭ বছরের মধ্যে পাঁচটি নতুন পরমাণু রিঅ্যাক্টর চালু করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে পরমাণু শক্তির অংশ আরও বাড়তে পারে। মোদীর এই ঘোষণাগুলিতে একদিকে তরুণদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দেশের প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও স্পষ্ট হয়েছে।
শিক্ষা, AI এবং খেলাধুলার মতো ক্ষেত্রে সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। আবার সেমিকন্ডাক্টর, প্রতিরক্ষা এবং পরমাণু শক্তির মতো ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে এই ঘোষণাগুলির মাধ্যমে আগামী দিনের ভারতের জন্য একটি বড় রূপরেখা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রযুক্তিতে দক্ষ যুবসমাজ, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, উন্নত খেলাধুলার পরিকাঠামো এবং নিজস্ব শিল্পক্ষমতা গড়ে তোলার উপরই বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।