...
...
Next Story

US President: পরমাণু হামলা নাকি সামরিক প্রত্যাঘাত? ট্রাম্পকে হত্যা করা হলে জবাবি ব্লু প্রিন্ট কী হবে US-র?

US President Assassination Claim: ২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে ইরান। সাম্প্রতিক ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন রাষ্ট্রের সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

Published on: Jul 12, 2026, 12:38:21 IST
Advertisement

US President Assassination Claim: হোয়াইট হাউসের অন্দরে ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তাপ ক্রমাগত বাড়ছে। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তেহরান যদি তাঁকে হত্যা করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা এক অবিশ্বাস্য সামরিক প্রত্যাঘাতের ব্লু-প্রিন্ট ইতিমধ্যেই তৈরি। তাঁকে হত্যার যে কোনও প্রচেষ্টার জবাবে ইরানকে পুরোপুরি ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করা হলে জবাবি ব্লু প্রিন্ট কী হবে US-র?
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করা হলে জবাবি ব্লু প্রিন্ট কী হবে US-র?

২০২০ সালে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের কুদস ফোর্সের কমান্ডার কাসেম সোলেমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আসছে ইরান। সাম্প্রতিক ইরান-ইজরায়েল-মার্কিন রাষ্ট্রের সংঘাতের পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে ট্রাম্পের বিশালাকার লেগো মূর্তি তৈরি করে তা শূন্যে ঝুলিয়ে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। দিকে দিকে ‘কিল ট্রাম্প’-র স্লোগান উঠেছে। হামলার আশঙ্কাতেই আঙ্কারা থেকে ন্যাটো সামিট থেকে ফেরার পথে নিজের বিমানও বদলে নিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্লু-প্রিন্ট

নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ একটি পোস্ট করে এই ভয়ঙ্কর সামরিক প্রস্তুতির কথা ফাঁস করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার যে ষড়যন্ত্র করছে, তার পাল্টায় মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইতিমধ্যেই আগাম চরম পদক্ষেপ করার নির্দেশ বা 'প্রি-অথরাইজেশন' দিয়ে রেখেছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, 'মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টকে, এই ক্ষেত্রে আমাকে, হত্যা করার বা সেই চেষ্টা করার যে হুমকি ইরান দিয়ে রেখেছে, তারা যদি সেই পথে হাঁটে, তবে ঠিক এক হাজার মিসাইল একদম প্রস্তুত এবং ইরানের দিকে তাক করে রাখা রয়েছে।' এখানেই থামেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, এই ১,০০০টি মিসাইলের প্রাথমিক ধাক্কার পর ইরানকে পুরোপুরি শেষ করতে আরও কয়েক হাজার মিসাইল নিমেষের মধ্যে ধেয়ে যাবে। মার্কিন সেনা এই সংক্রান্ত সমস্ত প্রয়োজনীয় গাইডলাইন পেয়ে গেছে এবং তারা যেকোনও মুহূর্তে এই ধ্বংসলীলা চালাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নিজের সামরিক নির্দেশের সময়সীমার উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, 'আদেশ ইতিমধ্যেই জারি করা হয়ে গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী পুরো এক বছর সময়সীমার জন্য (যা প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হতে পারে) ইরানের সমস্ত এলাকাকে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ ও ধ্বংস করে দিতে তৈরি, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।'

কোনো ক্ষমতাসীন বা প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনও দেশে পাল্টা সামরিক হামলা চালাবে-মার্কিন শাসনতন্ত্রে এমন কোনও পূর্ব-অনুমোদিত বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা নেই। সংবাদসংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস’ (এপি)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদি ডোনাল্ড ট্রাম্পের জীবনহানি ঘটে, তবে মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী এবং ১৯৪৭ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল সাকসেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী ক্ষমতা সরাসরি তাঁর উত্তরসূরির কাছে চলে যাবে। সেই পরিস্থিতিতে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবিলম্বে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান বা কমান্ডার-ইন-চিফ পদে আসীন হবেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক আইনি কর্তৃত্ব কেবল তাঁর হাতেই থাকবে।

ভ্যান্স চাইলে ট্রাম্পের পূর্ব-পরিকল্পিত সামরিক নির্দেশ কার্যকর করতে পারেন, আবার তিনি চাইলে সেই নির্দেশ অগ্রাহ্য করে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনও কৌশলও বেছে নিতে পারেন। পরমাণু হামলা বা ওয়াশিংটনকে ধ্বংস করে দেওয়ার মতো বড়সড় কোনও বিপর্যয়ের মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের কাছে ‘কন্টিনিউটি-অফ-গভর্নমেন্ট’ বা সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অত্যন্ত বিশদ ও গোপন পরিকল্পনা রয়েছে। তবে, প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিক প্রতিশোধমূলক হামলা চালানোর কোনও ধারা এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত নেই। এমনকী প্রেসিডেন্ট যদি বেঁচে থাকাকালীন সামরিক বাহিনীকে সেই নির্দেশ দিয়েও যান, তবুও নয়।

‘আমি নিহত হলে ইরানে পরমাণু হামলা’

মার্কিন সরকারের অতি গোপনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর লেখা বিখ্যাত বই 'রেভেন রক: দ্য স্টোরি অফ দ্য ইউ.এস. গভর্নমেন্টস সিক্রেট প্ল্যান টু সেভ ইটসেলফ -- হোয়াইল দ্য রেস্ট অফ আস ডাই'-এর লেখক গ্যারেট এম গ্রাফ সংবাদসংস্থা এপি-কে জানিয়েছেন, নিজের মৃত্যুর পর সামরিক বাহিনীকে কোনও স্থায়ী নির্দেশ দিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবেও জেডি ভ্যান্সকে বলে যেতে পারেন যে, 'আমি যদি মারা যাই, তবে ইরানে পরমাণু বোম ফেলো।'

ওই লেখকের দাবি, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাঁর ডেপুটি বা উত্তরসূরিকে দেওয়া এই ধরণের মৌখিক বা লিখিত নির্দেশ মার্কিন আইনি পরিভাষায় অনেক বেশি অর্থবহ এবং এটি 'সম্পূর্ণরূপে আইনসম্মত' হবে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe