সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও)-এর আগামী শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিল পাকিস্তান। আগামী বছর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে চলা এসসিও সম্মেলনে ভারতকে আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক। পাকিস্তানের বক্তব্য, আয়োজক দেশ হিসেবে এসসিও-র সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রকে আমন্ত্রণ জানানো তাদের বাধ্যবাধকতা। ফলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও আমন্ত্রণ জানানো হবে।

সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আসিয়ান বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলনে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর কি পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন? পাশাপাশি তিনি জানতে চান, আগামী বছর ইসলামাবাদে এসসিও শীর্ষ সম্মেলন হলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কি আমন্ত্রণ জানানো হবে?
এর জবাবে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) ফাঁকে ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে বৈঠকের কোনও অনুরোধ এসেছে বলে তাঁর জানা নেই। তবে এসসিও সম্মেলনের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, সংগঠনের সমস্ত সদস্য রাষ্ট্রকেই আমন্ত্রণ জানানো হবে।
মুখপাত্র বলেন, এসসিও-র সব সদস্য দেশকে রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধান স্তরে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এটি আয়োজক দেশ হিসেবে পাকিস্তানের দায়িত্ব। তাই আমন্ত্রণ অবশ্যই পাঠানো হবে। এসসিও-র নিয়ম মেনেই সব রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, এসসিও-র শীর্ষ সম্মেলনে কখনও রাষ্ট্রপতি, কখনও আবার প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। সদস্য দেশগুলির প্রতিনিধিত্বের ধরন সংশ্লিষ্ট দেশের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে। পাকিস্তান শুধু আয়োজক হিসেবে সংগঠনের প্রোটোকল মেনেই সব সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানাবে।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ইস্যু এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রায় বন্ধই রয়েছে। তবুও বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশই নিয়মিত অংশ নেয় এবং এসসিও সেই গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মগুলির অন্যতম।
{{/usCountry}}এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ। সীমান্ত সন্ত্রাসবাদ, কাশ্মীর ইস্যু এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক প্রায় বন্ধই রয়েছে। তবুও বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক মঞ্চে দুই দেশই নিয়মিত অংশ নেয় এবং এসসিও সেই গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মগুলির অন্যতম।
{{/usCountry}}এসসিও-তে ভারত ও পাকিস্তান ২০১৭ সালে পূর্ণ সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। সংগঠনটির সদস্য দেশগুলির মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান এবং বেলারুশ। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে এই মঞ্চে নিয়মিত আলোচনা হয়।
তবে পাকিস্তান আমন্ত্রণ জানালেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইসলামাবাদে সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনও ভারতের পক্ষ থেকে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। কূটনৈতিক মহলের মতে, আমন্ত্রণ পাঠানো এসসিও-র প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম হলেও, অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সেই সময়ের ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এবং সামগ্রিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির উপর।