ককবরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র নেতাদের বিদেশি অর্থ সাহায্য নিয়ে এবার নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হল। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে আমেরিকার দাতাদের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সহ-প্রতিষ্ঠাতা আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংকে পাল্টা প্রশ্ন করলেন অভিজিৎ। তাঁর প্রশ্ন, দলের আর এক নেতা সৌরভ দাস কোথা থেকে টাকা পাচ্ছেন? শুধু দীপকে এবং রাঙ্কার নাম কেন? সৌরভের অর্থের উৎস নিয়েও কি সরকারের কাছে কোনও তথ্য রয়েছে? দীপকের এই প্রশ্ন ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বৃহস্পতিবার সমাজমাধ্যমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্য সংক্রান্ত একটি খবর ভাগ করে নেন CJP প্রতিষ্ঠাতা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আর সৌরভের টাকা কোথা থেকে আসছে?’ আসলে বুধবারই সৌরভ দাসকে নিয়ে একটি কটাক্ষপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন দলের এই প্রতিষ্ঠাতা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সৌরভ নিজেও সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। এবার দীপকের প্রশ্ন, বিদেশি অর্থ সাহায্যের অভিযোগের তালিকায় সৌরভের নাম নেই কেন? এই প্রশ্নের এখনও কোনও সরকারি জবাব সামনে আসেনি।
কী অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?
পুরো বিতর্কের সূত্রপাত মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর। কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিক বৈঠক করে CJP নেতাদের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ সাহায্য নেওয়ার অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তাঁর দাবি, অভিজিৎ দীপকে আমেরিকায় থাকা দাতাদের কাছ থেকে টাকা পেয়েছেন। অন্য দিকে, আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতা এবং তাঁদের সহযোগীদের কাছ থেকে আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিতেন্দ্রর বক্তব্য, বিদেশি অর্থ সাহায্য পাওয়া কিছু এনজিও, তথাকথিত ডিপ স্টেটের সহযোগী এবং ভারতবিরোধী শক্তি একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে এবং সরকারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করতে।
{{/usCountry}}জিতেন্দ্রর বক্তব্য, বিদেশি অর্থ সাহায্য পাওয়া কিছু এনজিও, তথাকথিত ডিপ স্টেটের সহযোগী এবং ভারতবিরোধী শক্তি একজোট হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর দাবি, এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ভাবে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রচার চালাতে এবং সরকারের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ভাষ্য তৈরি করতে।
{{/usCountry}}কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর আরও দাবি, এই ধরনের কার্যকলাপের পিছনে অননুমোদিত বিদেশি অর্থের লেনদেন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণে ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্ট বা এফসিআরএ-র প্রয়োজনীয়তার পক্ষেও সওয়াল করেছেন তিনি।
সৌরভের কটাক্ষ, ‘ধন্যবাদ জিতেন্দ্র ভাই’
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগের পর সৌরভ দাসও সমাজমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। অভিজিতের একটি পোস্টের জবাবে তিনি লেখেন, তাঁকে যেন কিছুটা ছেড়ে দেওয়া হয়। সমাজমাধ্যম থেকে বিরতি নিয়ে নিজেকে একটু নতুন করে গুছিয়ে নিতে চান তিনি। শেষে কটাক্ষের সুরে লেখেন, ‘ধন্যবাদ জিতেন্দ্র ভাই, আমাকে ভুলে যাওয়ার জন্য।’
অর্থাৎ দীপকে এবং রাঙ্কাকে নিয়ে অভিযোগ উঠলেও সৌরভের নাম না আসায় ব্যঙ্গ করেছেন CJP-র এই নেতা। এবার সেই বিষয়টিকেই সামনে রেখে সরকারকে সরাসরি প্রশ্ন করলেন দীপকে।
আগেও উঠেছে বিদেশি অর্থ সাহায্যের অভিযোগ
CJP নেতাদের বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থ সাহায্যের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে মার্কিন গায়িকা মেরি মিলবেনও অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে আমেরিকার দাতাদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতা করার জন্য আমেরিকার কিছু দাতা ভারতীয় তরুণদের অর্থ সাহায্য করছেন।
অন্য দিকে, আইনজীবী হরিশ সালভেও এক সাক্ষাৎকারে দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, আন্দোলন চালাতে অর্থের প্রয়োজন হয়। এত টাকা কোথা থেকে আসছে, তা খতিয়ে দেখা উচিত। এর জবাবে দীপকে বলেছিলেন, কোনও প্রমাণ থাকলে তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হাতে তুলে দেওয়া হোক।
সব মিলিয়ে, CJP-র বিদেশি অর্থ সাহায্য নিয়ে শাসক শিবিরের অভিযোগ এবং দলের নেতাদের পাল্টা প্রশ্নে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে দিল্লির রাজনীতিতে। তবে বিদেশি অর্থ সাহায্যের অভিযোগগুলি এখনও অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। আর্থিক লেনদেনের নির্দিষ্ট প্রমাণ বা তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে না আসা পর্যন্ত এই অভিযোগগুলিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য বলা যাবে না।