...
...
Next Story

নতুন শত্রু! আফগানিস্তান-পাকিস্তান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নেপথ্যে কোন নেতা?

নূর ওয়ালি মেহসুদ ২০১৮ সালে টিটিপির নেতৃত্বে আসেন। এর আগে এ সংগঠনের তিনজন নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর মেহসুদ দায়িত্ব গ্রহণ করে।

Published on: Oct 16, 2025 09:16 PM IST
Advertisement

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাক্ষী থেকেছে গোটা বিশ্ব। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। কিন্তু মূল সমস্যার এখনও পর্যন্ত কোনও সমাধান হয়নি। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মূলে রয়েছে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ।

আফগানিস্তান-পাকিস্তান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নেপথ্যে কোন নেতা? (সৌজন্যে টুইটার)
আফগানিস্তান-পাকিস্তান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের নেপথ্যে কোন নেতা? (সৌজন্যে টুইটার)

ইসলামাবাদের অভিযোগ, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। আর সেই টিটিপি-র প্রধান নূর ওয়ালি মেহসুদ পাকিস্তানের ভেতরে প্রায় প্রতিদিনের হামলার নির্দেশ দিচ্ছে। পাক নিরাপত্তা সূত্রে খবর, গত সপ্তাহে কাবুলে এক বিমান হামলায় টার্গেট করা হয়েছিল একটি বুলেটপ্রুফ টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার। সেই গাড়িতেই ছিল মেহসুদ। তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন বলেই মনে করছেন গোয়েন্দারা। হামলার পরপরই টিটিপি প্রকাশ করে একটি অডিও বার্তা, যেটিকে মেহসুদের কণ্ঠ বলে দাবি করা হয়েছে। এটি ২০২২ সালে মার্কিন ড্রোনে আল-কায়েদা নেতা আয়মান আল-জাওয়াহিরি হত্যার পর কাবুলে প্রথম বিমান হামলা। তবে পাকিস্তান সরকার এখনও হামলার দায় স্বীকার করেনি। অন্যদিকে আফগান তালিবান বলছে, তারা কোনও পাকিস্তানি জঙ্গিকে আশ্রয় দেয় না। বরং ইসলামাবাদই লুকিয়ে রাখছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর স্থানীয় শাখাকে।

টিটিপি-র নেতৃত্বে নূর ওয়ালি মেহসুদ

নূর ওয়ালি মেহসুদ ২০১৮ সালে টিটিপির নেতৃত্বে আসেন। এর আগে এ সংগঠনের তিনজন নেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হওয়ার পর মেহসুদ দায়িত্ব গ্রহণ করে। পাকিস্তানি সেনা অভিযানে গোষ্ঠীটি তখন আফগানিস্তানে পিছু হটেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক দক্ষতার মাধ্যমে মেহসুদ গোষ্ঠীকে পুনরুজ্জীবিত করেছে, নতুন কৌশল নিয়েছে এবং বিভক্ত গোষ্ঠীগুলিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে। ধর্মতত্ত্বে প্রশিক্ষিত এই নেতা শুধু অস্ত্রের নয়, আদর্শের লড়াইও শুরু করে। ২০২১ সালে আফগান তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর টিটিপি আরও স্বাধীনভাবে চলাচল ও অস্ত্র সংগ্রহের সুযোগ পেয়েছে। যার ফলে পাকিস্তানে বিশেষত আফগান সীমান্তঘেঁষা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।অতীতেও টিটিপি মসজিদ এবং বাজারের মতো অসামরিক এলাকায় হামলার জন্য কুখ্যাত ছিল। ২০১৪ সালে পেশোয়ারের একটি স্কুলে ১৩০-রও বেশি শিশুকে হত্যা করেছিল তারা। কিন্তু মেহসুদ বুঝেছিলেন, এই নৃশংসতা পাকিস্তানের জনমত ঘুরিয়ে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে। তাই নির্দেশ দেন, এখন থেকে টার্গেট শুধু সেনা ও পুলিশ।

ধর্মতত্ত্বের পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আবেগেও জোর দিচ্ছে মেহসুদ। তিনি অন্তত তিনটি বইয়ের লেখক, যার একটি ৭০০ পৃষ্ঠার বইয়ে টিটিপি-র বিদ্রোহকে তিনি ব্রিটিশ-বিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। আঞ্চলিক বিশ্লেষক আবদুল সায়েদ বলেন, 'মেহসুদ নিজেকে পশতুন জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরতে চান। তাঁর লক্ষ্য আফগান তালিবানের মতো এক ইসলামিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমে।' তবে বাস্তবে, টিটিপি-র জনসমর্থন প্রায় নেই বললেই চলে, না ওই অঞ্চলে, না পাকিস্তানের মূল ভূখণ্ডে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe