দায়িত্ব সামলানোর প্রথম দিনেই বিতর্কে জড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নয়া প্রেস সচিব ক্যাটি জাকারিয়া। সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের প্রশংসা করতে গিয়ে আচমকাই মুখ ফসকে ট্রাম্পকেই ‘স্বামী’ আখ্যা দিয়ে বসেন তিনি। পরক্ষণেই ভুল বুঝতে পেরে সামলে নেন নিজেকে। আর তাতেই হোয়াইট হাউসের সাংবাদিক বৈঠকে ছড়িয়ে পড়ল হাসির রোল। তবে এই সামান্য ভুলই তাঁর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকের একমাত্র চর্চার বিষয় নয়। মাত্র ১৪-১৫ মিনিটের সেই পর্বে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ধরন এবং তাঁর প্রস্তুতি নিয়েও উঠেছে নানা প্রশ্ন।
কী ঘটেছিল সাংবাদিক বৈঠকে?

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন ক্যাটি। শুরু থেকেই তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিলেন ট্রাম্প। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান তিনি। জানান, দীর্ঘ দিন ধরেই ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেই সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রশংসায় সরব হন তিনি।
এর মধ্যেই এক সাংবাদিক জানতে চান, চার সন্তানকে বড় করে তোলার পাশাপাশি হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব কী ভাবে সামলাবেন ক্যাটি? প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই বিপত্তি। নিজের স্বামী তথা চলচ্চিত্র প্রযোজক টাইলার জাকারিয়ার প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে ট্রাম্পকে ‘স্বামী’ বলে ফেলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই ভুল শুধরে নিলেও ঘটনাটি ক্যাটিকে বেশ অস্বস্তিতে ফেলে। আর সেই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয় আলোচনা।
প্রশ্ন কম, বিতর্ক বেশি
কেবল মুখ ফসকে ভুল বলাই নয়, সাংবাদিকদের প্রশ্ন সামলানোর ধরন নিয়েও সমালোচনা হয়েছে ক্যাটির। সংবাদ সংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৪ মিনিটের সাংবাদিক বৈঠকে তিন জন সাংবাদিককে প্রশ্ন করার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রশ্ন করেন ব্রিটবার্ট, ফক্স নিউজ এবং ‘ডেলি মেল’-এর প্রতিনিধিরা। এই সংবাদমাধ্যমগুলির সঙ্গে ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের মিল রয়েছে বলেই পরিচিতি।
বৈঠকের শুরুতে ক্যাটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্য, অর্থনীতির অগ্রগতি, জ্বালানি উৎপাদন এবং অভিবাসন নীতির প্রশংসা করেন। কিন্তু নীতিগত বিষয়ে প্রশ্ন উঠতেই তাঁর উত্তর দেওয়ার ধরন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। বিশেষ করে ইউক্রেনকে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরে জানাবেন। ফলে নতুন প্রেস সচিবের প্রথম উপস্থিতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুব বেশি মেলেনি বলেই মনে করছেন সমালোচকেরা।
{{/usCountry}}বৈঠকের শুরুতে ক্যাটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাফল্য, অর্থনীতির অগ্রগতি, জ্বালানি উৎপাদন এবং অভিবাসন নীতির প্রশংসা করেন। কিন্তু নীতিগত বিষয়ে প্রশ্ন উঠতেই তাঁর উত্তর দেওয়ার ধরন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়। বিশেষ করে ইউক্রেনকে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ বন্ধ হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরে জানাবেন। ফলে নতুন প্রেস সচিবের প্রথম উপস্থিতি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুব বেশি মেলেনি বলেই মনে করছেন সমালোচকেরা।
{{/usCountry}}তবে এই বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন ক্যাটি। গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি। গিলফয়েলের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক চলছিল। যদিও ক্যাটির ঘোষণা ছাড়া এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসেনি বৈঠকে।
ক্যারোলিনের জায়গায় ক্যাটি
আগস্টে ক্যারোলিন লেভিট হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের পদ ছাড়ার পর থেকেই তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত ক্যাটিকেই বেছে নেন ট্রাম্প। এর আগে তিনি মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দফতরের মুখপাত্র হিসাবে কাজ করেছেন। ফক্স নিউজ এবং নিউজম্যাক্সের মতো সংবাদমাধ্যমেও নিয়মিত দেখা গিয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবেও কাজ করেছেন তিনি।
প্রথম সাংবাদিক বৈঠকের পর অবশ্য ক্যাটির পারফরম্যান্স নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ট্রাম্প নিজে তাঁর কাজের প্রশংসা করেছেন। কিন্তু সমালোচকদের মতে, হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সাংবাদিকদের কঠিন প্রশ্নের জবাব দেওয়া এবং প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। প্রথম দিনেই সেই পরীক্ষায় কতটা সফল হলেন ক্যাটি, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এখন দেখার, আগামী দিনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের দক্ষতা কতটা প্রমাণ করতে পারেন ট্রাম্পের নতুন মুখপাত্র। প্রথম বৈঠকের ‘আমার প্রেসিডেন্ট, আমার স্বামী’ মন্তব্যের রেশ কাটিয়ে প্রশাসনের বক্তব্যকে কতটা জোরালো ভাবে তুলে ধরতে পারেন তিনি, সেদিকেই নজর থাকবে সকলের।