...
...
Next Story

Flydubai flight incident: ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে 'রহস্যময়' দুই পাইলট কারা? বিমান সংস্থা বলল...

Flydubai flight incident: বিমানটি এতটাই তীব্রভাবে নিচে নেমে গিয়েছিল যে এর দিকনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি অংশ ছিঁড়ে যায়। এরপর বিমানটিকে স্থিতিশীল করতে ১০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগে। ওই সময় এটিসির (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) কাছে জরুরি বিপদসংকেত পাঠানো হয়।

Published on: Oct 4, 2026, 19:56:54 IST
Advertisement

Flydubai flight incident: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে রোমহর্ষক ঘটনায় এবার উঠে এল নতুন সব চাঞ্চল্যকর তথ্য। বুধবার ফ্লাইদুবাইয়ের ইজরায়েলগামী বিমানটি বিধ্বস্তের চেষ্টায় কো-পাইলট যখন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন সে সময় ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে যাত্রীদের বাঁচাতে ত্রাতা হয়ে আসেন বিমানে থাকা অন্য দুই পাইলট। তারাই হঠাৎ সুযোগ পেয়ে ককপিটে গিয়ে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং সেটিকে স্থিতিশীল করে সৌদি আরবে জরুরি ও নিরাপদ অবতরণে সক্ষম হন। তবে কারা ছিলেন সেই রহস্যময় দুই পাইলট, ঘটনার চার দিন পরও তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। এমনকী কোনও সংবাদমাধ্যমও ওই দুই পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে আনেনি।

ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে 'রহস্যময়' দুই পাইলট কারা? (REUTERS)
ফ্লাইদুবাই কাণ্ডে 'রহস্যময়' দুই পাইলট কারা? (REUTERS)

যদিও ফ্লাইদুবাই শুধু এটা বলেই দায় সেরেছে যে, ওই দু’জন ‘অন-ডিউটি ক্রু মেম্বার’, যারা যাত্রী হিসেবে ওই বিমানে ভ্রমণ করছিলেন। কেন বিমান সংস্থাটি তাদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানায়নি, তাও স্পষ্ট নয়।

যাত্রীরা কী বলছেন?

বিমানের সামনের দিকে বসা যাত্রী ড্যানিয়েল স্লিকটার বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘটনার সময় ওই দুই পাইলটের ভূমিকার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এখনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না পাওয়া ওই দুই ব্যক্তির বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত বিবরণগুলোর একটি। স্লিকটার জানান, তিনি বিমানের দ্বিতীয় সারিতে বসেছিলেন। তাঁর কথায়, ‘এটি অলৌকিক ঘটনাগুলোর একটি। প্রতিটি ফ্লাইটে তো দুজন অতিরিক্ত পাইলট থাকেন না। এই ফ্লাইটে তারা ছিলেন। শুনেছি তেল আভিভ থেকে বিমানটি আবার দুবাইয়ে ফিরিয়ে আনার সময় তারাই চালকের আসনে থাকার কথা ছিল। এটিই তাদের বিমানে থাকার একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য কারণ বলে মনে হচ্ছে।’

অন্য যাত্রীদের মতো স্লিকটারও প্রথম দিকে নিশ্চিত ছিলেন না, ওই দুই পাইলট ঠিক কোথা থেকে এসেছিলেন। তবে প্রথম যে পাইলট ককপিটে ঢুকেছিলেন, তিনি অত্যন্ত দ্রুত পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছিলেন বলে জানান স্লিকটার। তিনি বলেন, ‘তিনি সত্যিই একজন বীরের মতো কাজ করেছেন। বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন এবং এমনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, যেন ঠিক কী ঘটছে তা তিনি পুরোপুরি বুঝতে পেরেছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, ওই ফ্লাইটে অন্য যেসব বীর ছিলেন, তাদের মতোই সেই পাইলটের কাছেও আমরা আমাদের জীবনের জন্য ঋণী।’ দুই পাইলট ককপিটে ঢুকে দরজা বন্ধ করার পর ভেতরে কে কী দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তা স্লিকটার জানতে পারেননি।

হাইজ্যাক উদ্বেগ

বিমানটি এতটাই তীব্রভাবে নিচে নেমে গিয়েছিল যে এর দিকনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার একটি অংশ ছিঁড়ে যায়। এরপর বিমানটিকে স্থিতিশীল করতে ১০ মিনিট বা তারও বেশি সময় লাগে। ওই সময় এটিসির (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল) কাছে জরুরি বিপদসংকেত পাঠানো হয়। দুই পাইলট দ্রুত বিমানটি অবতরণের জন্য একটি নিরাপদ স্থান খুঁজতে থাকেন। এদিকে, আতঙ্কিত যাত্রীদের মধ্যে ওই দুই পাইলটকে নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা কারা এবং তাদের আদৌ বিশ্বাস করা যাবে কিনা, তা নিয়ে কয়েকজন যাত্রী চিন্তিত হয়ে পড়েন। স্লিকটার বলেন, ‘বিমানটি স্থিতিশীল করার পর আসলে তারা আমাদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করেননি। বলতেই হবে, এতে আমি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলাম। ভাবছিলাম, ওই দুই ব্যক্তি হয়তো বিমানটি ছিনতাই করে ইরান বা অন্য কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন। কারণ আমরা আসলে গন্তব্য থেকে খুব বেশি দূরে ছিলাম না।’

তবে প্রায় ৪৫ মিনিট পর ওই পাইলটরা ঘোষণা করেন, তারা সৌদি আরবের তাবুকে অবতরণ করবেন এবং সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। সেই ঘোষণা শোনার পর দুই পাইলটের ওপর আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নেন ড্যানিয়েল স্লিকটার। শেষ পর্যন্ত তার সেই আস্থাই সঠিক প্রমাণিত হয়।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks