...
...
Next Story

WHO Ebola global health emergency: নতুন আতঙ্কের নাম ‘ইবোলা’! জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

International health emergency declaration: আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (DRC) থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ এখন প্রতিবেশী দেশগুলোতেও থাবা বসিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি—প্রায় ৫০% থেকে ৯০% পর্যন্ত।

Published on: May 18, 2026 11:17 AM IST
Advertisement

Ebola outbreak symptoms: করোনা মহামারির ক্ষত শুকোতে না শুকোতেই বিশ্বজুড়ে আবারও এক নতুন ভাইরাসের আতঙ্ক ডানা মেলতে শুরু করেছে। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে ইবোলা (Ebola) ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ নেওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) একে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অফ ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ (PHEIC) বা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে। হু-এর ডিরেক্টর জেনারেল এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি কমিটির বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত জানান। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভাইরাস যেভাবে সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে এখনই আন্তর্জাতিক স্তরে সমন্বয় সাধন না করলে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে।

জরুরি অবস্থা ঘোষণার কারণ কী?

নতুন আতঙ্কের নাম ‘ইবোলা’! জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (AFP)
নতুন আতঙ্কের নাম ‘ইবোলা’! জরুরি অবস্থা ঘোষণা করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (AFP)

ইবোলা কোনো নতুন ভাইরাস নয়, তবে এবারের সংক্রমণের চরিত্র এবং গতি বিজ্ঞানীদের চিন্তায় ফেলেছে। আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো (DRC) থেকে শুরু হওয়া এই সংক্রমণ এখন প্রতিবেশী দেশগুলোতেও থাবা বসিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার অত্যন্ত বেশি—প্রায় ৫০% থেকে ৯০% পর্যন্ত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আক্রান্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এই মহামারি সামলানোর জন্য যথেষ্ট নয়। তাছাড়া আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল এবং সীমান্ত বাণিজ্যের কারণে এই ভাইরাস অন্য মহাদেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা রুখতেই এই বিশ্বব্যাপী সতর্কতা।

কী এই ইবোলা ভাইরাস? এর লক্ষণসমূহ:

ইবোলা মূলত একটি জুনোটিক ভাইরাস (Zoonotic Virus), যা বন্য প্রাণী (যেমন ফ্রুট ব্যাট বা বাদুড় এবং শিম্পাঞ্জি) থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এরপর সংক্রামিত মানুষের রক্ত, লালা বা অন্যান্য শারীরিক তরলের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

জটিল লক্ষণ: বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে র‍্যাশ এবং লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া।

মারাত্মক পর্যায়: শরীরের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক রক্তক্ষরণ (Internal and External Bleeding), যা রোগীকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।

ইবোলা সংক্রমণ বাড়ছে বিশ্ব জুড়ে

ভারত তথা বিশ্ববাসীর ওপর এর প্রভাব এবং সতর্কতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করেছে যে, এই ঘোষণার উদ্দেশ্য আতঙ্ক ছড়ানো নয়, বরং বিশ্বজুড়ে নজরদারি এবং তহবিল গঠন ত্বরান্বিত করা। ভারতের মতো জনবহুল দেশের জন্য এই সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোতে ইতিমধ্যেই আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে রাজ্যগুলোকে ইবোলা আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখার এবং সন্দেহভাজন রোগীদের লালারসের নমুনা পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজিতে (NIV) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিরোধ ও প্রতিষেধকের বর্তমান অবস্থা

ইবোলার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য বর্তমানে কিছু ভ্যাকসিন এবং অ্যান্টিবডি থেরাপি আবিষ্কৃত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সংক্রমণের সময় কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে এই ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়া এবং টিকাকরণ নিশ্চিত করাই এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান চ্যালেঞ্জ। চিকিৎসকদের মতে, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, আক্রান্ত ব্যক্তি বা পশুর থেকে দূরে থাকা এবং লক্ষণ দেখা দিলেই দ্রুত আইসোলেশনে যাওয়াই এই ভাইরাস প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই 'গ্লোবাল ইমার্জেন্সি' ঘোষণা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোকে আর্থিক ও চিকিৎসাগত সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসার বার্তা দেয়। গ্লোবালাইজেশনের এই যুগে কোনো একটি দেশের স্বাস্থ্য সংকট পুরো বিশ্বের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই ইবোলা রুখতে এখন প্রয়োজন সমন্বিত বৈশ্বিক প্রয়াস, যাতে আরও একটি বৈশ্বিক লকডাউন বা মহামারির মুখোমুখি মানবজাতিকে হতে না হয়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe