ভারতবিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিতে মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে গিয়েছিল ৭ বিদেশি। এই বিদেশিরা ধরাও পড়েছে। ধৃতদের মধ্যে ৬ জন ইউক্রেনিয়ান, ১ জন মার্কিনি। এর মধ্যে মার্কিনি ধৃতের নাম ম্যাথু ভ্যানডাইক। কলকাতা বিমানবন্দরে ধরা হয় তাকে। কিন্তু কে এই ম্যাথু ভ্যানডাইক। নিজেকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত অ্যানালিস্ট হিসেবে দাবি করে ম্যাথু। এছাড়াও সে একাধারে 'যুদ্ধের রিপোর্টার', ডকুমেন্টারি পরিচালকও বটে। একাধিক দেশে সে 'ফ্রিলান্সিং' করে।

এই ম্যাথু আদতে 'ভাড়াটে স্বাধীনতাকামী'। লিবিয়া থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা, ইউক্রেনে 'কাজ' করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। নিজেই সে দাবি করেছে, অন্য দেশে তার 'কোভার্ট অপারেশন' বা গোপন অভিযান চলে। ২০২৪ সালে মার্কিন সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে নিজেই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিল ম্যাথু। লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় গাদ্দাফির বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমেছিল ম্যাথু। ২০১১ সালে ধরা পড়ে ৬ মাস জেলেও ছিল সে। সনস অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি মার্সিনারি সংস্থা চালায় ম্যাথু। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে এই সংস্থার মাধ্যমে 'বিদ্রোহীদের' প্রশিক্ষণ দেয় ম্যাথু। ভ্যানডাইক দাবি করে, তার সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সরকারের কোনও যোগ নেই। তবে উল্লেখ্য বিষয়, সব ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার যেদিকে ঝুঁকে থাকে, ম্যাথু ভ্যানডাইকও সেই পক্ষের হয়েই 'কাজ' করে।
এদিকে রিপোর্ট অনুযায়ী, এই মামলায় ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ-র ১৮ নং ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া বেআইনি অনুপ্রবেশ, বেআইনি অস্ত্র রাখা এবং ড্রোন প্রশিক্ষণ দেওয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। ধৃত ইউক্রেনিয়ানদের ৩ জনকে লখনউ এবং ৩ জনকে দিল্লি বিমানবন্দরে ধরেছিল ইমিগ্রেশন ব্যুরো। পরে তাদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৭ বিদেশি বৈধ ভিসাতেই ভারতে এসেছিল। তবে বিনা অনুমতিতে তারা মিজোরামে গিয়েছিল। সেখান থেকে তারা মায়ানমারে গিয়েছিল এবং ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেছিল। সেখানে তারা সেই সব জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, ইউরোপ থেকে একাধিক ড্রোন মিজোরামে আমদানি করেছিল এই বিদেশিরা। এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা।
{{/usCountry}}রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ৭ বিদেশি বৈধ ভিসাতেই ভারতে এসেছিল। তবে বিনা অনুমতিতে তারা মিজোরামে গিয়েছিল। সেখান থেকে তারা মায়ানমারে গিয়েছিল এবং ভারতবিরোধী জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে দেখা করেছিল। সেখানে তারা সেই সব জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। এদিকে তদন্তে উঠে এসেছে, ইউরোপ থেকে একাধিক ড্রোন মিজোরামে আমদানি করেছিল এই বিদেশিরা। এনআইএ অভিযোগ করেছে, ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি হামলার ছক কষছিল এই বিদেশিরা।
{{/usCountry}}আদালত এই বিদেশিদের ২৭ মার্চ পর্যন্ত এনআইএ হেফাজতে পাঠিয়েছে। দিল্লির এক আদালতের রুদ্ধদ্বার কক্ষে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি অতুল ত্যাগী, অমিত রোহিলা ও অন্যান্যরা এনআইএ-র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন। এই বিদেশিদের ১৫ দিনের জন্য রিমান্ডে চান তাঁরা। সরকার পক্ষের দাবি ছিল, কোন রুট দিয়ে তারা মিজোরাম হয়ে মায়ানমারে গিয়েছি, তা খুঁজে বের করতে হবে। এছাড়া এই বিদেশিদের অন্য আর কোনও সহযোগী রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতেও জেরা এবং তদন্ত প্রয়োজন। অপরদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী প্রমোদ কুমার দুবে ও আইনজীবী অতুল সেহগাল। তাঁরা এনআইএ-র দাখিল করা রিমান্ডে নেওয়ার আবেদনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।