PM Modi: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে মুম্বইয়ে বড়সড় নিরাপত্তা-শঙ্কা তৈরি হয়। বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্সের নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টার (NMACC)-এর কাছে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। তাঁদের মধ্যে একজনের কাছে ছিল বন্দুক। অন্যজন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-র আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে ২৪ বছর বয়সি যুবকের কাছে থাকা পিএমও-র পরিচয়পত্র ভুয়ো বলে জানা যায়।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবকের নাম রোহন পারেখ। তিনি শহরের এক প্রতিষ্ঠিত হিরে ব্যবসায়ীর ছেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বলয় নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে রোহনের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল নিজেই আসলে এক বিশাল প্রতারণা চক্রের শিকার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সপ্তম 'গ্লোবাল ফিনটেক ফেস্ট' (GFF)-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। যে চত্বরে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়, সেই একই ক্যাম্পাসে অবস্থিত জিও ওয়ার্ল্ড প্লাজায় সোমবার নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগে পুলিশ দু'জনকে গ্রেফতার করে; রোহন তাঁদেরই একজন। তাঁদের সঙ্গে থাকা তৃতীয় ব্যক্তি পলাতক এবং তাঁর সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অন্তত পাঁচ দিন আগে থেকে বান্দ্রা-কুরলা কমপ্লেক্স (BKC)-এর ১৭ একর জুড়ে বিস্তৃত ও ২২টি গেট বিশিষ্ট জিও কনভেনশন সেন্টার চত্বরের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG)।
কে এই রোহন পারেখ?
মুম্বইয়ের খার এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সি রোহন ব্রিটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত ও পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল ৪টে ৫০ মিনিট নাগাদ নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারের (NMACC) অন্তর্গত শপিং মল জিও ওয়ার্ল্ড প্লাজায় আরও দু'জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন রোহন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের মধ্যে একজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে পেয়ে পথ আটকায়। সেই সময় রোহন নিজেকে পিএমও-র এক শীর্ষ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং নিজের ফোনে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেখান। এর ভিত্তিতে রোহনকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলেও অস্ত্রধারী ব্যক্তি নিজেকে এসপিজি কর্মী দাবি করলেও তাঁকে এবং তৃতীয় ব্যক্তিকে বাইরেই আটকে দেওয়া হয়। কয়েক মিনিট পরই রোহন মল থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তিনজনেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
কীভাবে ফাঁস হল জাল পরিচয়পত্র?
{{/usCountry}}মুম্বইয়ের খার এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সি রোহন ব্রিটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিত ও পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সোমবার বিকেল ৪টে ৫০ মিনিট নাগাদ নীতা মুকেশ আম্বানি কালচারাল সেন্টারের (NMACC) অন্তর্গত শপিং মল জিও ওয়ার্ল্ড প্লাজায় আরও দু'জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন রোহন। কিন্তু নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের মধ্যে একজনের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র দেখতে পেয়ে পথ আটকায়। সেই সময় রোহন নিজেকে পিএমও-র এক শীর্ষ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেন এবং নিজের ফোনে একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেখান। এর ভিত্তিতে রোহনকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হলেও অস্ত্রধারী ব্যক্তি নিজেকে এসপিজি কর্মী দাবি করলেও তাঁকে এবং তৃতীয় ব্যক্তিকে বাইরেই আটকে দেওয়া হয়। কয়েক মিনিট পরই রোহন মল থেকে বেরিয়ে আসেন এবং তিনজনেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
কীভাবে ফাঁস হল জাল পরিচয়পত্র?
{{/usCountry}}ঘটনার পরই রোহনের পিএমও কর্তা এবং তাঁর সঙ্গীর এসপিজি সদস্য হওয়ার দাবি যাচাই করতে শুরু করে এসপিজি। গেটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাঁরা একটি বিলাসবহুল মার্সিডিজ গাড়িতে করে এসেছিলেন। গাড়ির নম্বর প্লেট ট্র্যাক করতেই জানা যায় সেটি খার পশ্চিমের ১২ নম্বর রোডের বাসিন্দা রোহন প্রেমল পারেখের নামে নথিভুক্ত। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল খারের ঠিকানায় অভিযান চালিয়ে রোহনকে আটক করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে রোহন জানান, তাঁর সঙ্গে থাকা একজন ছিলেন ওরলির বাসিন্দা বন্ধু প্রথমেশ বাগূল এবং অন্যজন প্রাক্তন সেনাকর্মী দিলীপ কুন্দে, যিনি তাঁদের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেন। পুলিশ দিলীপ কুন্দেকে গ্রেফতার করেছে। একই সঙ্গে তার কাছ একটি রিভলভার ও ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করেছে। ২৬ বছর বয়সি পলাতক প্রথমেশের সন্ধানে তল্লাশি চলছে। আদালত রোহন ও দিলীপকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠিয়েছে।
'রোহন নিজেই প্রতারিত': আদালতে দাবি আইনজীবীর
মঙ্গলবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের এজলাসে রোহনের আইনজীবী আনন্দিনী ফার্নান্দেস দাবি করেন, তাঁর মক্কেল কোনও অপরাধী নন, বরং তিনি নিজেই এক বড়সড় প্রতারণার শিকার হয়েছেন। আইনজীবী আদালতকে জানান, প্রায় দুই বছর আগে তরুণ কাপুর নামে এক ব্যক্তি রোহনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রতি মাসে ৬৮,০০০ টাকা বেতনে পিএমও-তে চাকরির টোপ দেন। রোহনের কাকার একটি ড্রোন সরঞ্জাম তৈরির ব্যবসা থাকায় তাঁকে বোঝানো হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী দফতরের প্রতিরক্ষা নীতি নির্ধারণের কাজ করবেন তিনি। ফার্নান্দেস জানান, রোহনকে প্রধানমন্ত্রীর সই করা একটি জাল নিয়োগপত্র এবং পিএমও-র একটি ডিজিটাল পরিচয়পত্রও দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ধৃত প্রাক্তন সেনাকর্মী দিলীপ কুন্দে নাসিকের বাসিন্দা এবং তিনি রোহনের হিরে ব্যবসায়ী বাবার দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত দেহরক্ষী হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন করছিলেন বলে জানা গেছে।