...
...
Next Story

US-Iran Conflict: খামেনেইর মৃত্যুর পর 'নেতৃত্বশূন্য' তেহরান! কে চালাচ্ছে ইরান, প্রশ্ন ট্রাম্প-ভ্যান্সের

US-Iran Conflict: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘাচির সঙ্গে আলোচনা করছে।

Published on: Oct 7, 2026, 21:27:13 IST
Advertisement

US-Iran Conflict: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ করে সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহ’ মাত্রায় কমাতে হবে। তবে তেহরানে কীভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন এখনও নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Reuters, Bloomberg)
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Reuters, Bloomberg)

সোমবার রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ভবিষ্যতে সক্ষমতা কমানোর আশ্বাস যথেষ্ট নয়; ইরানকে বাস্তব ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। আবার মঙ্গলবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে নিয়ে আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, দেশটি এখন কে পরিচালনা করছে তা কেউ জানে না। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলায় ইরানের প্রধান সারির প্রায় সব শীর্ষ নেতা নির্মূল হয়ে গেছেন বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তাদের প্রথম সারির নেতারা চলে গেছেন, এমনকী দ্বিতীয় সারির নেতৃত্বের দলটিও শেষ হয়ে গেছে। এখন আমার সামনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কেউ জানেই না যে দেশটি আসলে কে চালাচ্ছে।’

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে ওয়াশিংটনের তরফ থেকে সংশয় প্রকাশ এই প্রথম নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লাগাতার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের শারীরিক সুস্থতা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে চলমান মার্কিন-ইরান যুদ্ধের আবহে দীর্ঘ সময় ধরে জনসমক্ষে তাঁর অনুপস্থিতি সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে—তিনি কী আদৌ দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন? তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দিয়েছে ইরান। তেহরানের স্পষ্ট বক্তব্য, মোজতবা খামেনেই আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বহাল রয়েছেন এবং মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনিই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন। এর আগের বেশ কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ভয়াবহ হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। যদিও বর্তমানে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি ঠিক কেমন এবং তিনি ঠিক কোথায় রয়েছেন, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সুস্পষ্ট তথ্য মেলেনি।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কী বললেন?

দীর্ঘ আট মাস ধরে চলা যুদ্ধের পরও তেহরানের প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ওয়াশিংটনের এই অস্পষ্টতার কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের দাবির সরাসরি বিরোধিতা করেন। বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটন খুব ভালো করেই জানে ইরানে তাদের প্রতিপক্ষ কারা এবং দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা কীভাবে পরিচালিত হয়। তাঁর মতে, সমস্যাটি আসলে ইরানের নেতৃত্বের অভাব নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈপরীত্যপূর্ণ অবস্থান এবং তাদের মিশ্র বার্তার কারণেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পারমাণবিক ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে তেহরানকে পরমাণু জ্বালানি সমৃদ্ধকরণের সক্ষমতা ‘দৃশ্যমানভাবে’ কমাতে হবে বলে জানিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। বিদেশি যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের বিষয়ে দীর্ঘদিনের সংশয়বাদী ভ্যান্স এই সংঘাতের অবসানে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। জুনে তিনি একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন, যা পরে ভেস্তে যায়। যুদ্ধটি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান দলের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে।

শান্তি আলোচনায় তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন কিনা— এ বিষয়ে ভ্যান্স সরাসরি কিছু বলতে রাজি হননি। তাঁকে প্রায়ই হোয়াইট হাউসের প্রধান আলোচক হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তিনি বলেন, 'আমরা অবশ্যই এর সঙ্গে জড়িত। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টই পুরো বিষয়টি পরিচালনা করছেন।'

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Notifications

Get breaking alerts directly from the newsroom

Notifications are on!You'll be notified when news breaks