Why do flight attendants wear scarves: বিমানবন্দরে বা বিমানের ভেতরে প্রবেশ করলেই যে চিত্রটি আমাদের চোখে সবার আগে ভেসে ওঠে, তা হলো বিমানসেবিকা বা এয়ার হোস্টেসদের (Air Hostess) ছিমছাম, কেতাদুরস্ত এবং আকর্ষণীয় উপস্থিতি। তাঁদের নিখুঁত ইউনিফর্ম, মার্জিত রূপটান এবং মুখের মিষ্টি হাসি যাত্রীদের যাত্রা পথকে আরামদায়ক করে তোলে। তবে একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, প্রায় প্রতিটি বিমানসংস্থার এয়ার হোস্টেসদের ইউনিফর্মের সাথে গলায় একটি রঙিন স্কার্ফ (Neck Scarf) জড়ানো থাকে। সুন্দর করে বাঁধা এই স্কার্ফটি দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাগে সন্দেহ নেই।

কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, মাঝ আকাশে বিমান ওড়ার সময় গলায় কেন এই কাপড়ের টুকরোটি বেঁধে রাখতে হয়? এটি কি শুধুই ফ্যাশন কিংবা সাজগোজের অংশ, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো গভীর কারণ? শুনলে অবাক হবেন, এই ছোট্ট স্কার্ফটির পেছনে যেমন রয়েছে বিমান চলাচলের এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, তেমনই রয়েছে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচানোর এক দুর্দান্ত বৈজ্ঞানিক কৌশল।
অনেকেই মনে করেন, এয়ার হোস্টেসদের গলার স্কার্ফটি কেবলই তাঁদের ইউনিফর্মের সৌন্দর্য বাড়াতে বা গ্ল্যামার যোগ করতে ব্যবহার করা হয়। তবে বিমান চলাচল বিজ্ঞানের (Aviation Science) ইতিহাস এবং নিয়মকানুন ঘাটলে জানা যায়, এই স্কার্ফটি আসলে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাল্টি-পারপাস ‘সেফটি টুল’ বা সুরক্ষা সরঞ্জাম।
১. আপৎকালীন পরিস্থিতিতে জীবন বাঁচানোর অস্ত্র (Emergency Medical Tool):
বিমানে যেকোনো সময় জরুরি পরিস্থিতি বা ‘মেডিকেল এমার্জেন্সি’ তৈরি হতে পারে। যদি মাঝ আকাশে কোনো বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং কেবিনের ভেতরে ধোঁয়া বা ক্ষতিকারক গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে, তখন এই স্কার্ফটি বিমানসেবিকাদের জন্য গ্যাস মাস্ক হিসেবে কাজ করে। তাঁরা দ্রুত স্কার্ফটি দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখতে পারেন এবং যাত্রীদের সাহায্য করতে পারেন। এছাড়া, কোনো যাত্রী বা ক্রু মেম্বার যদি হঠাৎ কেবিনের ভেতরে আঘাত পান এবং তাঁর শরীর থেকে রক্তপাত শুরু হয়, তখন তৎক্ষণাৎ ব্যান্ডেজ করার জন্য বা রক্তপাত বন্ধ করতে গলার এই স্কার্ফটি ব্যবহার করা হয়। এমনকি হাড় ভেঙে গেলে হাতকে সাপোর্ট দেওয়ার (Sling) কাজেও এটি ব্যবহার করা যায়।
২. ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং সামরিক সংযোগ:
এয়ার হোস্টেসদের ইউনিফর্মে স্কার্ফের ব্যবহার শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। শুরুর দিকে বিমান চলাচল ব্যবস্থার সাথে সামরিক বাহিনীর একটি গভীর সংযোগ ছিল। যুদ্ধবিমানের পাইলটরা ঘাড়ের চামড়া যাতে ইউনিফর্মের শক্ত কলারের ঘষায় ছিলে না যায়, তার জন্য গলায় স্কার্ফ পরতেন। পরবর্তীতে কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা চালু হলে, সেই সামরিক ডিসিপ্লিন ও ঐতিহ্য বজায় রেখেই কেবিন ক্রুদের পোশাকে স্কার্ফ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
৩. কলারের দাগ ও ঘাম আড়াল করা:
{{/usCountry}}এয়ার হোস্টেসদের ইউনিফর্মে স্কার্ফের ব্যবহার শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে। শুরুর দিকে বিমান চলাচল ব্যবস্থার সাথে সামরিক বাহিনীর একটি গভীর সংযোগ ছিল। যুদ্ধবিমানের পাইলটরা ঘাড়ের চামড়া যাতে ইউনিফর্মের শক্ত কলারের ঘষায় ছিলে না যায়, তার জন্য গলায় স্কার্ফ পরতেন। পরবর্তীতে কমার্শিয়াল বা বাণিজ্যিক বিমান পরিষেবা চালু হলে, সেই সামরিক ডিসিপ্লিন ও ঐতিহ্য বজায় রেখেই কেবিন ক্রুদের পোশাকে স্কার্ফ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
৩. কলারের দাগ ও ঘাম আড়াল করা:
{{/usCountry}}মাঝ আকাশে বিমানসেবিকাদের একটানা দীর্ঘ সময় ডিউটি করতে হয়। অনেক সময় জলবায়ুর পরিবর্তন বা কাজের চাপে অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। স্কার্ফটি পরার কারণে শার্টের কলার সরাসরি ঘাড়ের সংস্পর্শে আসে না, যার ফলে কলারে ঘাম বা মেকআপের জেদি দাগ লাগে না। এটি তাঁদের দীর্ঘ যাত্রাতেও সতেজ এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখাতে সাহায্য করে।
৪. করপোরেট ব্র্যান্ডিং ও পেশাদারিত্ব:
একটি বিমান সংস্থার নিজস্ব পরিচয় বা ব্র্যান্ডিং ফুটে ওঠে তাদের কেবিন ক্রুদের ইউনিফর্মের মাধ্যমে। স্কার্ফের রঙ এবং ডিজাইন সাধারণত বিমান সংস্থার লোগো বা থিমের সাথে মিলিয়ে তৈরি করা হয়। এটি ক্রুদের ভিড়ের মাঝেও আলাদাভাবে চিনতে সাহায্য করে। একই সাথে এটি গলার অংশকে ঢেকে রেখে একটি অত্যন্ত মার্জিত, রুচিশীল এবং পেশাদার লুক (Professional Look) এনে দেয়।
সুতরাং, अगली বার যখন বিমানে চড়বেন এবং কোনো বিমানসেবিকাকে গলায় সুন্দর স্কার্ফ বাঁধা অবস্থায় দেখবেন, তখন জানবেন এটি কেবল নিখুঁত ফ্যাশন স্টেটমেন্ট নয়। এই ফ্যাশনের আড়ালে জড়িয়ে রয়েছে যাত্রীদের সুরক্ষার এক অদম্য দায়িত্ব এবং বিমান ইতিহাসের এক গৌরবময় ঐতিহ্য।