Share Market Crash: লক্ষ্মীবারে বিপুল ক্ষতির সাক্ষী থাকল দালাল স্ট্রিট। এক ধাক্কায় ১২০০ পয়েন্ট পড়ে গেল সেনসেক্স। পিছিয়ে রইল না নিফটি ৫০, সেখানেও ৩০০ পয়েন্টের বেশি ধস দেখা গেছে। বহুদিন পর এত বড় ধসের মুখ দেখল ইন্ডিয়ান স্টক মার্কেট (Indian Share Market)। ব্যাঙ্কিং, ফিনানশিয়াল স্টকগুলির পতন বাজারের রক্তক্ষরণ আরও গভীর করেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ধস নামে ভারতের শেয়ার বাজারে। দিনের শেষে সেনসেক্স (Sensex) ১,২৪৭ পয়েন্ট বা ১.৬৭ শতাংশ কমে ৭৩,৫৮০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ (Nifty) ৩৮৪ পয়েন্ট বা ১.৬৪ শতাংশ পড়ে ২৩,০৬৩ পয়েন্টে নেমে যায়। মিড ক্যাপ ও স্মল ক্যাপ ইনডেক্সগুলিও ডাউন রয়েছে এ দিনের ট্রেডিং সেশনে। বাজারের পতনে বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর্থিক সংস্থাগুলির শেয়ার। দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই প্রায় সমস্ত সেক্টরাল ইনডেক্স ডাউন রয়েছে। নিফটি ফিনানশিয়াল সার্ভিস, নিফটি ব্যাঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরাল ইনডেক্সের পয়েন্ট কমেছে। এর পাশাপাশি নিফটি-তে মেটাল, সার্ভিসেস সেক্টর, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, অটো, অয়েল অ্যান্ড গ্যাস, এনার্জির মতো সেক্টরাল ইনডেক্স ডাউন রয়েছে। সকালের দিকে আইটি, ফার্মার মতো সেক্টরাল ইনডেক্স পজিটিভে থাকলেও বেলা গড়াতে তা পতনের কবলে পড়েছে।
কেন পড়ল শেয়ার বাজার?
মার্কিন বন্ডের সুদ বৃদ্ধি
বৃহস্পতিবারের বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মার্কিন বন্ডের বাজার থেকে। ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদ প্রায় ৫.১১ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০০৭ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ স্তর। একইসঙ্গে US 2-year Treasury yield-ও ৪.৯ শতাংশের গণ্ডি পার করেছে। মার্কিন ব্যবসায়িক কার্যকলাপ প্রত্যাশার তুলনায় শক্তিশালী হওয়ার পরে সুদের হার আরও কিছুদিন উঁচু থাকতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বন্ডে বিনিয়োগের আকর্ষণ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে।
চড়ল তেলের দাম
বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম মাথা ব্যারেলে ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াও ভারতের বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের আমদানি খরচ, মূল্যবৃদ্ধি, টাকার দরের উপর চাপ এবং সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে। যার প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চাপ বাড়াচ্ছে
{{/usCountry}}বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম মাথা ব্যারেলে ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়াও ভারতের বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে চাপ বেড়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি ভারতের আমদানি খরচ, মূল্যবৃদ্ধি, টাকার দরের উপর চাপ এবং সংস্থাগুলির উৎপাদন খরচ বাড়াতে পারে। যার প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারে।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা চাপ বাড়াচ্ছে
{{/usCountry}}এর পাশাপাশি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাজারের অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। বিমা সংস্থার কমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন পেমেন্ট সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক প্রস্তাবের পর আর্থিক সংস্থাগুলির শেয়ারেও বিক্রি বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে অপরিশোধিত তেলের দাম, মার্কিন বন্ডের সুদ, বিদেশি বিনিয়োগ এবং টাকার দরের গতিবিধি বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
IRDAI-এর প্রস্তাবে ফিনানশিয়াল ও ইনশিওরেন্স স্টকে ধাক্কা
এদিন মূলত, ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্য়ান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া IRDAI-এর সিদ্ধান্তে বাজারে বড় প্রভাব পড়ে। ইনস্যুরেন্স ডিসট্রিবিউশন নিয়ে সংস্কারের প্রস্তাবে বাজারে এই ধস নামে। বিমা বিপণন ব্যবস্থার ডিসস্ট্রিবিউশনে সংস্কারের কারণে এই ধস নেমেছে বলে দাবি করছেন অনেক মার্কেট এক্সপার্ট। আসলে ব্যাঙ্কগুলির মাধ্যমে জোর করে বিমা বিক্রি বন্ধ, বিমা কোম্পানিগুলির ব্যয় হ্রাস ও কমিশনের ওপর সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণের লক্ষ্যে এই প্রস্তাব দিয়েছে IRDAI। IRDAI-এর বিমার কমিশনের ওপর সীমা নির্ধারণ, ব্যাঙ্কগুলির জোর করে বিমা গছানো ও গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে বিমা বিক্রি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব এনেছে ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্য়ান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া। গ্রাহকরা এর ফলে লাভবান হলেও বিমা কোম্পানি, ব্রোকারেজ ফার্মগুলির লাভে কোপ পড়বে। এই কারণেই আজ ব্যাঙ্কিং সেক্টরের স্টকগুলিতে বড় ধস নেমেছে।