...
...
Next Story

West Asia Crisis For India: কেন্দ্রের ইঙ্গিত, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা: কেন ফের জ্বালানির মূলবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে?

West Asia Crisis For India: প্রবীণ ব্যাঙ্কার উদয় কোটাকও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতির ওপর যে পূর্ণাঙ্গ প্রভাব পড়তে চলেছে, ভারতীয়রা হয়তো এখনও তার পুরোটা প্রত্যক্ষ করেননি।

Published on: May 15, 2026 10:28 PM IST
Advertisement

West Asia Crisis For India: সম্প্রতি রিভার্জ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেছিলেন, দাম বাড়তে চলেছে পেট্রল-ডিজেলের। সেই আশঙ্কা সত্যি করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশজুড়ে বাড়ল জ্বালানির খরচা। শুক্রবার থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন দাম। লিটার প্রতি পেট্রল ও ডিজেল বেড়েছে ৩ টাকা ৮ পয়সা করে। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার আবহে জ্বালানির দাম বাড়বে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই আশঙ্কাই সত্যি হল।

কেন ফের জ্বালানির মূলবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে? ( Rahul Sharma)
কেন ফের জ্বালানির মূলবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে? ( Rahul Sharma)

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর মার্কিন-ইজরায়েলি হামলার পরই তেহরান পাল্টা আক্রমণের করে। যার ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধ সমগ্র তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় অঞ্চল এবং তার বাইরের অঞ্চলগুলোকে বড় ধাক্কা দিয়েছে এবং কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে-যা বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। ইরান তার ভৌগোলিক সুবিধার কারণে প্রণালীটি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে এবং জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতে জ্বালানির দামে এক লাফে বড় বৃদ্ধি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু কেন্দ্র সরকার এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলি আপাতত নিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির পথেই হেঁটেছে, যাতে আচমকা মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সাধারণ মানুষের উপর না পড়ে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছে, এটা তুলনামূলক ছোট বৃদ্ধি হলেও এর প্রভাব পড়বে গোটা অর্থনীতিতে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ইঙ্গিত

প্রবীণ ব্যাঙ্কার উদয় কোটাকও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, বিশ্ববাজারে তেলের দামের আকস্মিক বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতির ওপর যে পূর্ণাঙ্গ প্রভাব পড়তে চলেছে, ভারতীয়রা হয়তো এখনও তার পুরোটা প্রত্যক্ষ করেননি। সিআইআই সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় উদয় কোটাক বলেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও ভারত এখন পর্যন্ত সেই মূল্যবৃদ্ধির পূর্ণাঙ্গ প্রভাব থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত ছিল; এর মূল কারণ হল, জ্বালানি বিক্রেতা সংস্থাগুলো নিজেরাই সেই লোকসানের বোঝা বহন করে আসছিল। তিনি দেশের মানুষকে আসন্ন আরও কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের গত দুই মাসে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব আমরা দেখিনি। এটি আসছে। এবং এটি বড় আকারেই আসছে।'

অন্যদিকে, শুক্রবার ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড-এর বর্তমান ডিরেক্টর (রিফাইনারিজ) অরবিন্দ কুমার বলেন, বিশ্বব্যাপী চাপের মধ্যেও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি 'খুবই সামান্য।' তাঁর কথায়, 'এটা খুবই সামান্য বৃদ্ধি, এবং আপনারা জানেন যে অনেক চাপ রয়েছে। কিন্তু আমি আপনাদের বলতে পারি যে ইন্ডিয়ান অয়েলস গ্রুপের কোম্পানিগুলোর দশটি শোধনাগার দিনরাত এবং ক্ষমতার বাইরে গিয়ে কাজ করছে, যাতে আমাদের কোনও আউটলেটে সংকট বা সরবরাহ ঘাটতি না হয়... আসুন আমরা এই জরুরি ও সংকটময় সময়ে জ্বালানি বাঁচাতে একত্রিত হই।' সরকার দাবি করছে যে তারা ভারতের জনগণের উপর বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রত্যক্ষ প্রভাব কমানোর জন্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে নীতিনির্ধারক এবং শিল্পপতিরা দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তার বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe