...
...
Next Story

ছাতা বার বার হারায় কেন? কারণটা জানলে চমকে যাবেন চমকে যাবেন

Why do people lose umbrellas so often: মানুষ কেন বারবার ছাতা হারিয়ে ফেলে? এটি কি কেবলই মানুষের সাধারণ ভুলে যাওয়ার রোগ, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর মনস্তাত্ত্বিক, আচরণগত এবং পরিবেশগত কারণ লুকিয়ে রয়েছে?

Published on: Jul 9, 2026, 07:45:48 IST
Advertisement

Psychology of forgetting umbrellas: বর্ষাকাল কিংবা কড়া রোদ—আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী হলো ছাতা। অথচ এই পরম উপকারী বস্তুটিই মানুষের জীবনের সবচেয়ে অবহেলিত এবং সবচেয়ে বেশি হারিয়ে যাওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে অন্যতম। বাস, ট্রেন, রেস্তোরাঁ, শপিং মল কিংবা অফিসের ডেস্কে ছাতা ফেলে চলে আসেননি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। অনেক সময় তো এমনও হয় যে, নতুন ছাতা কেনার পরের দিনই তা কোথাও হারিয়ে যায়।

সব কিছু ছেড়ে বার বার ছাতাটাই হারায় কেন? পিছনের মনস্তত্ত্বটা জানলে চমকে যাবেন
সব কিছু ছেড়ে বার বার ছাতাটাই হারায় কেন? পিছনের মনস্তত্ত্বটা জানলে চমকে যাবেন

কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, মানুষ কেন বারবার ছাতা হারিয়ে ফেলে? এটি কি কেবলই মানুষের সাধারণ ভুলে যাওয়ার রোগ, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর মনস্তাত্ত্বিক, আচরণগত এবং পরিবেশগত কারণ লুকিয়ে রয়েছে? বর্তমানে ব্যস্ত জীবনযাত্রার প্রেক্ষিতে মানুষের এই ‘ছাতা ভোলার’ অদ্ভুত প্রবণতার কারণটা জেনে নিন।

লন্ডনের আন্ডারগ্রাউন্ড রেলওয়ে বা কলকাতার লোকাল ট্রেনের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড (Lost and Found) বিভাগের তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রতি বছর হাজার হাজার ছাতা উদ্ধার হয়, যার দাবিদার কেউ থাকে না। ছাতা হারিয়ে ফেলার এই চিরন্তন অভ্যাসের পেছনে মূলত বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও আচরণগত কারণ দায়ী।

১. ‘আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড’ মনস্তত্ত্ব

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের মস্তিষ্ক কোনো বস্তুর গুরুত্ব তার চোখের সামনে থাকার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করে। বৃষ্টি থামার সাথে সাথেই আমরা ছাতাটি বন্ধ করে দিই। বন্ধ করার পর তা আমাদের হাত থেকে নেমে মেঝের এক কোণে, বাসের হ্যান্ডেলে কিংবা ব্যাগের পাশে স্থান পায়। যেহেতু ছাতাটি আর খোলা অবস্থায় মাথার ওপর নেই, তাই আমাদের অবচেতন মন ধরে নেয় যে বৃষ্টির বিপদ কেটে গেছে এবং ছাতার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে। এই ‘আউট অফ সাইট, আউট অফ মাইন্ড’ (চোখের আড়াল তো মনের আড়াল) তত্ত্বের কারণেই মানুষ সবচেয়ে বেশি ছাতা ফেলে আসে।

২. ছাতার প্রতি আর্থিক এবং মানসিক আবেগের অভাব

বাঙালিদের ছাতা হারানোর সবচেয়ে বড় কারণ আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় হয়তো মুষলধারে বৃষ্টি ছিল, তাই বেশ সচেতনভাবেই ছাতা মাথায় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অফিসে বা গন্তব্যে পৌঁছানোর সময় দেখা গেল ঝলমলে রোদ। এই যে আবহাওয়ার আকস্মিক বদল, তা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক চাহিদাকে বদলে দেয়। রোদ দেখে মন তখন বৃষ্টির কথা ভুলে যায়, আর তার সাথে সাথেই হারিয়ে যায় অবহেলার ছাতাটি। এছাড়া মেট্রো বা বাসের ভিড়ে নামার তাড়াহুড়ো এবং কর্মব্যস্ত জীবনের হাজারটা চিন্তা মানুষের মনোযোগকে ছাতা থেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে দেয়।

৪. ছাতার নকশা এবং বহন করার অসুবিধা

আধুনিক থ্রি-ফোল্ডিং বা ছোট ছাতাগুলো সহজে ব্যাগে ঢোকানো গেলেও, লম্বা বা সাধারণ ভেজা ছাতা ব্যাগে রাখা যায় না। ভেজা ছাতা মানুষ হাত দিয়ে ধরে রাখতে পছন্দ করে না, ফলে ট্রেনের সিটের নিচে বা রেস্তোরাঁর ছাতার স্ট্যান্ডে তা রেখে দেয়। ছাতার এই ‘অস্বস্তিকর’ বহনের ধরণের কারণেই এটি মানুষের শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সহজেই হারিয়ে যায়।

বিকল্প কী? ছাতা হারানো বন্ধ করার উপায়:

আজকের ২০২৬ সালের প্রযুক্তির যুগে ছাতা হারানো বন্ধ করতে বাজারে এসেছে ব্লুটুথ ট্র্যাকার সম্বলিত ‘স্মার্ট ছাতা’ (Smart Umbrella), যা ছাতা থেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে গেলেই ফোনে অ্যালার্ট পাঠায়। এছাড়া সাধারণ ছাতা হলে সবসময় উজ্জ্বল রঙের (যেমন লাল, হলুদ বা নিয়ন) ছাতা ব্যবহার করা উচিত, যাতে তা ঘরের বা বাসের কোণে পড়ে থাকলেও দূর থেকে সহজেই চোখে পড়ে।

ছাতা হারিয়ে ফেলা কোনো বড় রোগ নয়, এটি আসলে মানুষের মনোযোগের অভাব এবং প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে অবচেতন মনের এক ধরণের আচরণ। তবে একটু সচেতন হলে এবং ছাতাকে কেবল একটি সস্তা বস্তু না ভেবে নিজের প্রয়োজনীয় সঙ্গী ভাবলে এই চিরন্তন ‘ছাতা ভোলার’ অভ্যাস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe