...
...
Next Story

Madhya Pradesh Murder: 'তোমার গায়ের রঙ কালো...,' ডাকাতি বলে কুমিরের কান্না, মধ্যপ্রদেশে স্ত্রীর গভীর ষড়যন্ত্র ফাঁস

Madhya Pradesh Murder: প্রিয়াঙ্কা পুরোহিতের বয়ান এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ে পুলিশ আধিকারিকদের। তিনি যেভাবে ঘটনাটি বর্ণনা করেছিলেন, তার সঙ্গে বাস্তব প্রমাণের মিল পাওয়া যায়নি।

Published on: Apr 10, 2026, 18:26:17 IST
Advertisement

Madhya Pradesh Murder: ‘হানিমুন মার্ডার ২.০’! মেঘালয়ে রাজা রঘুবংশী হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করাল মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার ঘটনা। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুনের গভীর ষড়যন্ত্র। তারপর সেই ষড়যন্ত্র ধামাচাপা দিতে নাটক। নিজেই স্বামীকে খুন করিয়ে স্ত্রী এমন ডাকাতির গল্প ফাঁদেন যে, আশপাশের লোকজনও বিশ্বাস করে নেন। তাঁরা পাশে দাঁড়ান মহিলার। কিন্তু পরে গোটা ঘটনা সামনে আসতেই শিউরে উঠছেন এলাকার বাসিন্দারা। পরকীয়া যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সেই প্রমাণই মিলেছে ফের একবার। কীভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড?

মধ্যপ্রদেশে স্ত্রীর গভীর ষড়যন্ত্র ফাঁস (সৌজন্যে টুইটার)
মধ্যপ্রদেশে স্ত্রীর গভীর ষড়যন্ত্র ফাঁস (সৌজন্যে টুইটার)

নৃশংস ঘটনাটি ঘটে ৭ এপ্রিল রাতে। ওই দিন ২৮ বছর বয়সি দেবকৃষ্ণ পুরোহিতকে তাঁর বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত ছিল।গোন্ডিখেড়া গ্রামের এই ঘটনা সামনে আসে, যখন দেবকৃষ্ণের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা পুরোহিত পুলিশের কাছে দাবি করেন, রাতে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে বেঁধে ফেলে এবং তাঁর স্বামীকে খুন করে পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার মূল্যবান সামগ্রী লুট করে এবং তাঁর স্বামী বাধা দিলে তাঁকে খুন করা হয়। ঘটনাস্থলে ঘর লণ্ডভণ্ড অবস্থায় থাকায় প্রথমে বিষয়টি ডাকাতির মতোই মনে হয়েছিল।

কিন্তু তদন্তে নেমে পুলিশের সন্দেহ দ্রুত বাড়তে থাকে। প্রিয়াঙ্কার বয়ান এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির মধ্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি চোখে পড়ে পুলিশ আধিকারিকদের। তিনি যেভাবে ঘটনাটি বর্ণনা করেছিলেন, তার সঙ্গে বাস্তব প্রমাণের মিল পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে তাঁকে বেঁধে রাখার দাবির সঙ্গে ঘটনাস্থলের প্রমাণের ফারাক তদন্তকারীদের সন্দেহ আরও জোরালো করে। পুলিশের দাবি, ঘর এলোমেলো করার ঘটনাটিও আসলে সাজানো, যাতে পুরো বিষয়টিকে ডাকাতির রূপ দেওয়া যায়। তদন্ত যত এগোয়, ততই উঠে আসে অন্য ছবি।মৃতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ এবং আলাদা থাকার কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছিল। সেই প্রেক্ষিতেই এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিণতি বলে মনে করা হচ্ছে। নিহত যুবকের বোন জ্যোতির অভিযোগ, ২৫ বছর বয়সি প্রিয়াঙ্কা প্রায়ই স্বামীকে অপমান করে বলতেন, 'তোমার গায়ের রঙ কালো... তুমি আমার যোগ্য নও... আমি তোমার চেয়ে ভালো কাউকে ডিজার্ভ করি।' অন্যদিকে, কল রেকর্ড ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানতে পারে, প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে রাজগড়ের ৩২ বছর বয়সি যুবক কমলেশ পুরোহিতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

ভাড়াটে খুনি নিয়োগ

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের প্রমাণ, জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল সূত্রের ভিত্তিতে মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই মামলার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রিয়াঙ্কা ও কমলেশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পলাতক সুরেন্দ্রর খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধার জেলার পুলিশ সুপার মায়ঙ্ক অবস্থি বলেন, 'প্রথমে ঘটনাটি ডাকাতি বলে মনে হলেও তদন্তে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে প্রমাণিত হয়েছে। ঘটনাস্থল ইচ্ছাকৃতভাবে সাজানো হয়েছিল, যাতে তদন্তকে বিভ্রান্ত করা যায়।' এদিকে, নিহত যুবকের মা সকল অভিযুক্তদের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির দাবি করেছেন।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe