Supreme Court : ‘নির্বাসন’-কেই সবচেয়ে বেশি ভয় পেতেন তিনি। অথচ স্বাধীন ভারতের সেই বীর সংগ্রামীর চিতাভস্ম আজ আট দশক ধরে ভিনদেশের এক মন্দিরে ‘নির্বাসিত!’ তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Netaji Subhash Chandra Bose)। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বারবার অনুরোধের পর এবার জাপানের রেনকোজি মন্দির থেকে তাঁর চিতাভস্ম দেশে ফিরিয়ে এনে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার আর্জিতে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলেন কন্যা অনিতা বসু পাফ (Anita Bose Pfaff)। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চাইল শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

দীর্ঘদিন ধরেই নেতাজির পরিবারের একাংশ রেনকোজি মন্দিরে থাকা দেহাবশেষ ভারতে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছে। অনিতা বোসের অবস্থান অবশ্য এ বিষয়ে স্পষ্ট। তাঁর বিশ্বাস, মন্দিরে সংরক্ষিত চিতাভস্ম তাঁর বাবারই। তাই ভারতের মাটিতে যথাযথ মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য সেই দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে। এই মর্মে সুপ্রিম করতে আবেদন করেছেন নেতাজি-কন্যা। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতে অনিতা বসুর হয়ে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। তিনি বলেন, জাপান থেকে নেতাজির নিয়ে এসে ভারতে শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে চান তাঁর কন্যা। তাঁর সওয়াল শোনার পরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ইস্যুতে কেন্দ্রের অবস্থান জানতে চেয়ে নোটিস জারি করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বাবার চিতাভস্ম মাতৃভূমিতে ফেরানোর আর্জি জানিয়ে আসছেন অনিতা বসু। প্রতি বছর ২৩ জানুয়ারি নেতাজির জন্মজয়ন্তীতেও তিনি এই আবেদন করেন। চলতি বছরে জার্মানি থেকে অনিতা বসু আক্ষেপ প্রকাশ করে লিখেছিলেন, ভারত স্বাধীন হওয়ার ৭৮ বছর পরেও সুভাষচন্দ্র বসুর পার্থিব অবশেষ দেশে ফেরানো সম্ভব হয়নি। তা এখনও 'নির্বাসিত' অবস্থায় রয়েছে। তিনি মনে করিয়ে দেন, সে সময় টোকিওয় বসবাসকারী ভারতীয়দের অনুরোধে রেনকোজি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত নেতাজির চিতাভস্ম ‘কয়েক মাসের জন্য’ সংরক্ষণ করতে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু দেখতে দেখতে ৮০ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত।
১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইহোকু (অধুনা তাইওয়ান) বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে আজও দেশজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। একাধিক কমিশন গঠন করেছে কেন্দ্র। শাহনওয়াজ কমিটি ও বিচারপতি জিডি খোসলা কমিশনের বক্তব্য, তাইওয়ানে তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনাতে নেতাজির মৃত্যু হয়। পাল্টা বিচারপতি মুখার্জি কমিশন এই তত্ত্ব গ্রহণ করেনি। ২০০৬ সালের মে মাসে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয় তারা। সেখানে বলা হয়, ১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি এবং রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্ম নেতাজির নয়। যদিও তৎকালীন মনমোহন সিংয়ের সরকার সেই রিপোর্ট মেনে নেয়নি। তবে অনিতা পাফের বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি আগেই জানিয়েছেন, নেতাজির মৃত্যু নিয়ে অন্তত ১১টি তদন্ত রিপোর্ট ও বহু নথি বর্তমানে প্রকাশ্যে এসেছে। তাই ওই বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নেওয়াই উচিত। এমনকী রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্ম যে নেতাজিরই, তা প্রমাণের জন্য নিজের ডিএনএ (DNA) নমুনা দিয়ে সাহায্য করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন অনিতা বসু। শীর্ষ আদালত নোটিস জারি করায়, চিতাভস্ম দেশে ফেরানোর এই দীর্ঘ লড়াই এবার নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
{{/usCountry}}১৯৪৫ সালের ১৮ অগস্ট তাইহোকু (অধুনা তাইওয়ান) বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে আজও দেশজুড়ে বিতর্ক রয়েছে। একাধিক কমিশন গঠন করেছে কেন্দ্র। শাহনওয়াজ কমিটি ও বিচারপতি জিডি খোসলা কমিশনের বক্তব্য, তাইওয়ানে তাইপেইয়ে বিমান দুর্ঘটনাতে নেতাজির মৃত্যু হয়। পাল্টা বিচারপতি মুখার্জি কমিশন এই তত্ত্ব গ্রহণ করেনি। ২০০৬ সালের মে মাসে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয় তারা। সেখানে বলা হয়, ১৯৪৫ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়নি এবং রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্ম নেতাজির নয়। যদিও তৎকালীন মনমোহন সিংয়ের সরকার সেই রিপোর্ট মেনে নেয়নি। তবে অনিতা পাফের বক্তব্য স্পষ্ট। তিনি আগেই জানিয়েছেন, নেতাজির মৃত্যু নিয়ে অন্তত ১১টি তদন্ত রিপোর্ট ও বহু নথি বর্তমানে প্রকাশ্যে এসেছে। তাই ওই বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নেওয়াই উচিত। এমনকী রেনকোজি মন্দিরে রাখা চিতাভস্ম যে নেতাজিরই, তা প্রমাণের জন্য নিজের ডিএনএ (DNA) নমুনা দিয়ে সাহায্য করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন অনিতা বসু। শীর্ষ আদালত নোটিস জারি করায়, চিতাভস্ম দেশে ফেরানোর এই দীর্ঘ লড়াই এবার নতুন মোড় নিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
{{/usCountry}}