...
...
Next Story

Pakistan Latest Update: পাকিস্তানের সর্বেসর্বা মুনির? ক্ষমতার নয়া সমীকরণ? সংবিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব শরিফের

পাকিস্তানে আসিম মুনির হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত হয়েছেন। এর আগে পাকিস্তানে একমাত্র একজনই এই পদ পেয়েছিলেন।

Published on: Nov 4, 2025, 22:40:12 IST
Advertisement

ভারতীয় সেনাবাহিনীর বীর বিক্রমে হাঁটু-কোমর সব ভেঙে একাকার পাকিস্তানি সেনার। তারপরেও পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের জন্য বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে শাহবাজ শরিফ সরকার। জানা যাচ্ছে, বহু পুরনো সংবিধান বদলে ফেলছে পাকিস্তান। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের জন্যই পরিবর্তন আসতে চলেছে পাকিস্তানের সংবিধানে। সেই মর্মে পাকিস্তানের সংসদে ইতিমধ্যেই ২৭তম সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ক্ষমতা মুনিরের হাতে? (HT_PRINT)
পাকিস্তানের ক্ষমতা মুনিরের হাতে? (HT_PRINT)

সূত্রের খবর, পাকিস্তানের সংবিধান পরিবর্তনের জন্য সংসদে প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ওই প্রস্তাব পাসের জন্য ভোট দিয়েছেন স্বয়ং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ইতিমধ্যে শরিফের নেতৃত্বে ক্ষমতায় থাকা পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-র প্রতিনিধিদল এই প্রস্তাব সমর্থনের জন্য বিলওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।পাকিস্তান পিপলস পার্টি যদি তৈরি থাকে সেক্ষেত্রে খুব শীঘ্রই সংসদে একটি অধিবেশন ডাকা হতে পারে। সেই অধিবেশনেই চূড়ান্ত হবে ২৭তম সংশোধনী প্রস্তাব। আর সেই প্রস্তাব পাস হয়ে গেলেই পাকিস্তানের একজন সরকারি ক্ষমতাধর ব্যক্তি হয়ে উঠবেন পাক সেনাবাহিনীর ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এর আগে ভারতের অপারেশন সিঁদুরের সময় একেবারে নাকের জলে চোখের জলে অবস্থা নিয়ে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পুরস্কৃত করে শাহবাজ শরিফ সরকার। ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয় জেনারেল আসিম মুনিরকে। এটিই পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সামরিক পদ। বলে রাখা ভালো, পাকিস্তান সংঘাতে জয়ের দাবি করলেও, ভারত আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে প্রমাণ-সহ ইসলামাবাদের মিথ্যাচার ফাঁস করেছে।

পাক সংবিধান পরিবর্তন ও আসিম মুনির

পাকিস্তানে সামরিক প্রভাব কোনো নতুন বিষয় নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটির রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ছায়া বিস্তৃত। এ বছর ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘাতের পরই মুনিরকে পদোন্নতি দিয়ে ফিল্ড মার্শাল করা হয়। তার আগে গত বছর পাকিস্তান সরকার সেনাপ্রধানদের মেয়াদ তিন বছর থেকে পাঁচ বছরে বাড়ায়, এবং ৬৪ বছরের বয়সসীমাও বাতিল করে। তবে সংবিধানে ফিল্ড মার্শালের পদটির কোনও আইনি স্বীকৃতি নেই। ফলে মুনিরের ভবিষ্যৎ পদমর্যাদা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তাঁর অবসর নির্ধারিত নভেম্বর ২৮, অর্থাৎ এখন থেকে কয়েক সপ্তাহ পরেই। এই প্রেক্ষিতে ২৪৩ ধারা সংশোধনের প্রস্তাবকে অনেকেই মুনিরের জন্য একপ্রকার 'পদ রক্ষা আইন' হিসেবে দেখছেন। পাকিস্তানের আইন প্রতিমন্ত্রী আকিল মালিক বলেন, '১৯৭৩ সালের সংবিধান প্রণয়নের পর এই প্রথম কোনও সেনাপ্রধানকে ফিল্ড মার্শাল পদে উন্নীত করা হয়েছে। তাই বিষয়টি সংবিধানে প্রতিফলিত হওয়া দরকার।' রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ পাকিস্তানে সামরিক প্রভাবকে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টা এবং এটি দীর্ঘদিনের নাগরিক-সেনা ক্ষমতার ভারসাম্যকে আরও বিকৃত করবে।

গত কয়েক মাসে মুনির কার্যত পাকিস্তানের 'ডি ফ্যাক্টো রাষ্ট্রপ্রধান' হয়ে উঠেছেন। তিনি গত তিন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তিনবার সফর করেছেন, এমনকী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও একাধিক বৈঠক করেছেন, যার একটি হয়েছিল হোয়াইট হাউসে মধ্যাহ্নভোজে, যেখানে কোনও বেসামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। এমন নজিরবিহীন ঘটনাই ইঙ্গিত দিচ্ছে, পাকিস্তানে এখন সেনাপ্রধান কেবল প্রতিরক্ষা নয়, বিদেশনীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনাতেও সরাসরি ভূমিকা রাখছেন। ট্রাম্প নিজেও মুনিরকে বলেছেন, 'পাকিস্তানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।'

পাকিস্তানের বিচার বিভাগীয় ক্ষেত্র

সূত্রের খবর, পাকিস্তানের সাংবিধানিক নিয়মে পরিবর্তন এলে একাধিক ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু হবে। সেই সূত্রেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী পশ্চিমের দেশের বিচার বিভাগীয় ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করার তোড়জোড় চালাচ্ছে পাক সরকার? বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র যা বলছে তাতে, সংবিধান পরিবর্তনের পাশাপাশি আগামী দিনে দেশটির বিচার বিভাগীয় ক্ষেত্রেও হস্তক্ষেপ করতে পারে পাকিস্তানের সরকার। সেই মতোই নাকি তৈরি হয়ে গিয়েছে পরিকল্পনা। সব মিলিয়ে, সংবিধান সংশোধনের এই পদক্ষেপ পাকিস্তানের রাজনীতিতে সামরিক কর্তৃত্বকে আরও গভীরভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে এবং দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে এক নতুন সংকটের মুখে ফেলতে পারে।

 
SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe