ধর্ম পরিবর্তন নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্ম গ্রহণ করলে আর তফসিলি জাতি (এসসি) হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া যাবে না। পাশাপাশি, ধর্মান্তরিত ব্যক্তি আর এসসি-এসটি অত্যাচার প্রতিরোধ আইনের সুরক্ষাও দাবি করতে পারবেন না। শুধুমাত্র সেইসব ব্যক্তিরাই তফসিলি জাতি মর্যাদা দাবি করতে পারেন, যারা হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী।

বিচারপতি পিকে মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের একটি রায় বহাল রেখেছে। ওই রায়ে বলা হয়েছিল যে, কোনও ব্যক্তি যদি খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং সক্রিয়ভাবে সেই ধর্ম পালন করেন, তবে তিনি আর তফসিলি জাতি (এসসি) সম্প্রদায়ের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন না। লাইভ ল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিন্থাদা আনন্দ নামের এক যাজকের দায়ের করা একটি আপিলের প্রেক্ষিতে এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আনন্দ জানান যে, তিনি জন্মসূত্রে তফসিলি জাতির মানুষ হলেও পরে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপর থেকে দীর্ঘদিন যাজক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর দাবি ছিল, তাঁকে জাতিগতভাবে অপমান ও আক্রমণ করা হয়। সেই অভিযোগে তিনি তফসিলি জাতি ও উপজাতি আইনে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অভিযুক্ত পক্ষ আদালতে যুক্তি দেয়, ধর্মান্তরিত হওয়ায় তাঁর ক্ষেত্রে আর তফসিলি জাতির অধিকার প্রযোজ্য নয়। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টও সেই দাবিতে মান্যতা দেয়। এরপর চিন্থাদা আনন্দ, ২০২৫ সালের মে মাসের হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানান।
যদিও চিন্থাদা আনন্দের আবেদনে সাড়া দিল না সুপ্রিম কোর্ট। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত। রায় দেওয়ার সময়ে আদালত বলেছে, 'হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি তফসিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন না। অন্য কোনও ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার ফলে তফসিলি জাতির মর্যাদা বিলুপ্ত হয়ে যায়।' অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, আবেদনকারী চিন্থাদা আনন্দের এমন কোনও দাবি ছিল না যে, তিনি খ্রিস্টধর্ম থেকে পুনরায় তাঁর আদি ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেছেন, কিংবা 'মাদিকা' সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তাঁকে পুনরায় গ্রহণ করা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করে যে, আপিলকারী খ্রিস্টধর্মই পালন করে গিয়েছেন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একজন 'যাজক' হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন - যার অংশ হিসেবে তিনি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে নিয়মিত রবিবারের প্রার্থনাসভা পরিচালনা করতেন। তাই তফসিলি জাতির শংসাপত্র হাতে থাকাটা তাঁর মামলার ক্ষেত্রে কোনও সহায়ক হবে না। কারণ ধর্মান্তরিত হওয়ার ফলে - এমন একটি ধর্ম আনন্দ গ্রহণ করেছেন যেখানে জাতিগত ভেদাভেদ স্বীকৃত নয়। ফলে তফসিলি জাতির মর্যাদা এমনিই বাতিল হয়ে যায়।
{{/usCountry}}যদিও চিন্থাদা আনন্দের আবেদনে সাড়া দিল না সুপ্রিম কোর্ট। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্টের রায়কেই বহাল রেখেছে শীর্ষ আদালত। রায় দেওয়ার সময়ে আদালত বলেছে, 'হিন্দু, শিখ বা বৌদ্ধ ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মাবলম্বী ব্যক্তি তফসিলি জাতির সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন না। অন্য কোনও ধর্মে ধর্মান্তরিত হওয়ার ফলে তফসিলি জাতির মর্যাদা বিলুপ্ত হয়ে যায়।' অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ করে যে, আবেদনকারী চিন্থাদা আনন্দের এমন কোনও দাবি ছিল না যে, তিনি খ্রিস্টধর্ম থেকে পুনরায় তাঁর আদি ধর্মে প্রত্যাবর্তন করেছেন, কিংবা 'মাদিকা' সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে তাঁকে পুনরায় গ্রহণ করা হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত করে যে, আপিলকারী খ্রিস্টধর্মই পালন করে গিয়েছেন এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একজন 'যাজক' হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন - যার অংশ হিসেবে তিনি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে নিয়মিত রবিবারের প্রার্থনাসভা পরিচালনা করতেন। তাই তফসিলি জাতির শংসাপত্র হাতে থাকাটা তাঁর মামলার ক্ষেত্রে কোনও সহায়ক হবে না। কারণ ধর্মান্তরিত হওয়ার ফলে - এমন একটি ধর্ম আনন্দ গ্রহণ করেছেন যেখানে জাতিগত ভেদাভেদ স্বীকৃত নয়। ফলে তফসিলি জাতির মর্যাদা এমনিই বাতিল হয়ে যায়।
{{/usCountry}}সুপ্রিম কোর্টের এই রায়টি সেই আইনি অবস্থানকেই সুদৃঢ় করে যে, এ ধরনের মর্যাদা বা অবস্থান মূলত ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচ পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে 'ধর্মান্তর' একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।