Delhi High Court: শারীরিক ভাবে ধর্ষণ না করলেও গণধর্ষণে সমান অভিযুক্ত হতে পারেন নারী। দোষ প্রমাণিত হলে অন্য অভিযুক্তদের মতো তাঁরও সমান শাস্তি হতে পারে। সম্প্রতি একটি মামলায় এমনটাই রায় দিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধিতে গণধর্ষণের যে ব্যাখ্যা এবং শাস্তির কথা রয়েছে, তা লিঙ্গভেদে ভিন্ন হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে নারী এবং পুরুষকে সমান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। এই রায়কে যুগান্তকারী বলে মনে করছেন অনেকে।

এক মহিলার বিরুদ্ধে গঠিত চার্জকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন আদালতের দেওয়া ৪৫ পৃষ্ঠার এক রায়ে বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভামভানি বিস্তারিত জানিয়েছেন। দায়ের হওয়া মামলায় এক মহিলা ও অন্য এক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’, ২০২৩-এর ৭০ নম্বর ধারা এবং ‘প্রোটেকশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস’, ২০১২ তথা পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারা-সহ অন্যান্য আইনের অধীনে গঠিত চার্জকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল। অভিযোগ, অভিযুক্ত মহিলা শারীরিক ভাবে ধর্ষণ না করলে তাতে মদত দিয়েছিলেন। তাঁর আইনজীবীর যুক্তি ভারতীয় আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা অনুযায়ী পুরুষ ছাড়াও মহিলাদের অভিযুক্ত করা যায় না। এই যুক্তি খারিজ করে দিয়েছেন বিচারপতি।
গণধর্ষণে মহিলাদের সক্রিয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আদালত ‘যৌথ দায়বদ্ধতা’র উপর জোর দিয়েছে। বিচারপতির ব্যাখ্যা, ৩৭৬ডি ধারায় ‘কোনও একটি নির্দিষ্ট অভিপ্রায়ে কাজ করা এক বা একাধিক ব্যক্তি’র কথা বলা হয়েছে। অপরাধে সহায়তা করেছেন বা অপরাধের সুযোগ করে দিয়েছেন, এমন যে কোনও ব্যক্তিই এর আওতায় পড়েন। এটা তাঁর লিঙ্গের উপর নির্ভর করে না। অপরাধ সংঘটনের জন্য তিনি শারীরিক ভাবে সক্ষম কিনা, তা-ও এ ক্ষেত্রে বিচার্য হতে পারে না।
এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আইন বিশেষজ্ঞ ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় ভারতের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় এক নতুন দিশা দেখাবে। অতীতে এ জাতীয় অপরাধে মহিলাদের ভূমিকা থাকলে প্রায়শই কেবল ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’ বা হালকা ধারায় মামলা রুজু হতো, যার ফলে মূল অপরাধের কঠোর শাস্তি থেকে অনেকে রেহাই পেয়ে যেতেন। আদালতের এই অবস্থানের পর থেকে গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত যে কোনও মহিলা সমানভাবে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন। সংবেদনশীল এই রায়ের ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় লিঙ্গভিত্তিক শিথিলতার কোনও সুযোগ থাকবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
{{/usCountry}}এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আইন বিশেষজ্ঞ ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে, দিল্লি হাইকোর্টের এই রায় ভারতের ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় এক নতুন দিশা দেখাবে। অতীতে এ জাতীয় অপরাধে মহিলাদের ভূমিকা থাকলে প্রায়শই কেবল ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র’ বা হালকা ধারায় মামলা রুজু হতো, যার ফলে মূল অপরাধের কঠোর শাস্তি থেকে অনেকে রেহাই পেয়ে যেতেন। আদালতের এই অবস্থানের পর থেকে গণধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত যে কোনও মহিলা সমানভাবে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন। সংবেদনশীল এই রায়ের ফলে বিচার প্রক্রিয়ায় লিঙ্গভিত্তিক শিথিলতার কোনও সুযোগ থাকবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
{{/usCountry}}