...
...
Next Story

El Nino Winter Update: ভয়ঙ্কর এল নিনো ফিরেছে! বসন্ত পর্যন্ত বাড়তে পারে বিপদ, ভারতে বড় প্রভাব শীতকালে

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-এর শেষ দিকে এল নিনো ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও। এখনই আতঙ্কের কারণ নেই। কিন্তু আগামী কয়েক মাসে বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ছবিতে বড় বদল আসতে পারে।

Published on: Sep 4, 2026, 09:45:40 IST
Advertisement

ফিরেছে এল নিনো। আর এ বার তার দাপট বড় হতে পারে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা বা WMO। সংস্থার পূর্বাভাস, ২০২৬-এর শেষ দিকে এল নিনো ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, ২০২৭-এর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলার সম্ভাবনা প্রায় ১০০ শতাংশ। এর প্রভাব পড়তে পারে ভারতেও। এখনই আতঙ্কের কারণ নেই। কিন্তু আগামী কয়েক মাসে বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ছবিতে বড় বদল আসতে পারে। বিশেষ করে শীতের পর গরমের মরসুমে বিপদ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এখনই বর্ষায় বড় ধাক্কা নয়

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-এর শেষ দিকে এল নিনো ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬-এর শেষ দিকে এল নিনো ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।

এল নিনোর প্রভাব একসঙ্গে সব জায়গায় পড়ে না। ভারতের ক্ষেত্রেও তার প্রভাব নির্ভর করে আরও কয়েকটি আবহাওয়াগত কারণের উপর। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ মহেশ পালাওয়াটের মতে, বর্ষা বিদায়ের সময় এল নিনোর সরাসরি প্রভাব খুব বেশি নাও হতে পারে। কিন্তু এর পরের সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। এল নিনো বৃষ্টির বণ্টন বদলে দিতে পারে। বাড়াতে পারে তাপমাত্রাও। উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বৃষ্টি প্রভাবিত হতে পারে। শীতও স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সবচেয়ে বড় চিন্তা ২০২৭-এর গরম

সমস্যা শুধু শীত নিয়ে নয়। আসল ভয় পরের বসন্ত। এল নিনো শক্তিশালী হয়ে ২০২৭-এর শুরু পর্যন্ত থাকলে গরমের আগেই ভারত আরও উষ্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাড়তে পারে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি। WMO-ও জানিয়েছে, শক্তিশালী এল নিনো বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ও বৃষ্টির স্বাভাবিক ধরণ বদলে দিতে পারে। এর ফলে খরা, অতিবৃষ্টি এবং চরম গরমের ঝুঁকি বাড়ে।

খরিফ ফসলে চাপ, বাড়তে পারে জল-সংকট

তবে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি। এল নিনো হলেই ভারতে খরা হবে, এমন নয়। গত কয়েক দশকের পরিসংখ্যানেও সেই ছবি দেখা যায়। ভারতে গত সাড়ে তিন দশকের প্রতিটি বড় খরা এল নিনোর বছরে হয়েছে। কিন্তু সব এল নিনোর বছরে খরা হয়নি। অর্থাৎ, এল নিনো খরার ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু একাই খরা তৈরি করে না। ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতি এখানে বড় ভূমিকা নেয়।

আশার জায়গা IOD

সেই জায়গাতেই কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। সামনে রয়েছে ‘ইন্ডিয়ান ওশান ডাইপোল’ বা IOD। সহজ ভাষায়, ভারত মহাসাগরের পশ্চিম ও পূর্ব অংশের সমুদ্রের তাপমাত্রার পার্থক্যই IOD-এর অন্যতম ভিত্তি। এর ‘পজিটিভ’ পর্যায় ভারতে বেশি জলীয়বাষ্প পৌঁছতে সাহায্য করতে পারে। WMO-র পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ২০২৬-এ পজ়িটিভ IOD তৈরি হতে পারে। গড় মান হতে পারে +০.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এল নিনোর ধাক্কা সামলাতে এটিই ভারতের অন্যতম বড় প্রাকৃতিক ঢাল হতে পারে। তবে নিশ্চয়তা নেই।

অতীতের ভয়াবহ নজির

এল নিনোর পরে ভারতের ভয়াবহ গরমের উদাহরণও রয়েছে। ১৯৯৮ সালে, শক্তিশালী ১৯৯৭-এর এল নিনোর পর দেশের বিভিন্ন অংশে তীব্র তাপপ্রবাহ হয়েছিল। রাজস্থানের ধোলপুরে তাপমাত্রা ৪৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠেছিল। ২০১৬ সালেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়। রাজস্থানের ফালোদি ছুঁয়েছিল ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২০২৪ সালেও এল নিনোর পর দেশের একাধিক এলাকায় তীব্র গরম দেখা যায়। চুরুতে তাপমাত্রা উঠেছিল ৫০.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই বছরকে ১৯০১-এর পর ভারতের উষ্ণতম বছর ঘোষণা করেছিল আইএমডি।

গম নিয়েও বাড়ছে চিন্তা

এল নিনোর আর একটি বড় প্রভাব পড়তে পারে রবি ফসলে। বিশেষ করে গমে। শীত বেশি উষ্ণ হলে গমের দানা তৈরির সময় কমে যায়। তার পর মার্চ-এপ্রিলের তীব্র গরম এলে ফলন আরও কমতে পারে। ২০২১-২২ সালে মার্চ ও এপ্রিল স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি উষ্ণ ছিল। সেই সময় গমের ফলনে বড় ধাক্কা লাগে। পরে গম রফতানিতেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারত। অর্থাৎ, ২০২৭-এর শুরুতে উষ্ণ শীত হলে কৃষিক্ষেত্রে চাপ বাড়তে পারে।

এখন থেকেই প্রস্তুতি চায় WMO

WMO-র বার্তা স্পষ্ট। বিপদ আসার পর ব্যবস্থা নিলে হবে না। আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। শহরে হিট অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি রাখতে হবে। জলাধারের জল ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে হবে। কৃষকদের সময়মতো ফসলের পরামর্শ দিতে হবে। খাদ্যশস্যের মজুত নিয়েও প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ এল নিনো এখনও শুরুতেই। কিন্তু তার শক্তি যে দ্রুত বাড়ছে, তা নিয়ে WMO-র আর বিশেষ সংশয় নেই। ২০২৬-এর শেষ দিকে চূড়ায় পৌঁছনোর পর তার প্রভাব ২০২৭ সালেও থেকে যেতে পারে। ভারতের সামনে তাই এখন একটাই প্রশ্ন—এল নিনোর ধাক্কা কতটা হবে, তা নয়। প্রশ্ন হল, সেই ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি কতটা আগে নেওয়া যায়।

 
ABOUT THE AUTHOR
Abhijit Chowdhury

২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe