...
...
Next Story

Worlds largest scorpion: ইতিহাসের বৃহত্তম দানবীয় কাঁকড়াবিছের সন্ধান! চেহারা দেখে হাতিও ভয় পেত, বিস্মিত বিজ্ঞানীরা

Praearcturus gigas fossil discovery: বর্তমান যুগে কাঁকড়াবিছে সাধারণত কয়েক ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এদের হুল বা বিষের কামড় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও বিপজ্জনক হলেও, আকারে এরা বেশ ছোট। কিন্তু প্রাচীন পৃথিবীর নদী ও স্থলভূমিতে ঘুরে বেড়াত এমন এক বিছে, যার আকার ছিল বিশাল।

Published on: Jun 09, 2026 10:50 AM IST
Advertisement

Prehistoric giant arthropod evolution: প্রাগৈতিহাসিক পৃথিবীর বুক থেকে উদ্ধার হয়েছে এক গা শিউরে ওঠা প্রাণীর সন্ধান। বিজ্ঞানীরা জুরাসিক পার্ক বা ডাইনোসরদের যুগের চেয়েও কোটি কোটি বছর পুরনো এক দানবীয় বিচ্ছুর বা আরকনিডের জীবাশ্ম (Fossil) সনাক্ত করেছেন। গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, এটিই এযাবৎকাল পর্যন্ত এই পৃথিবীতে বাস করা সর্ববৃহৎ কাঁকড়াবিছে বা স্করপিওন (Scorpion)।

ইতিহাসের বৃহত্তম দানবীয় কাঁকড়াবিছের সন্ধান! চেহারা দেখে হাতিও ভয় পেত
ইতিহাসের বৃহত্তম দানবীয় কাঁকড়াবিছের সন্ধান! চেহারা দেখে হাতিও ভয় পেত

বর্তমান যুগের বিছে বা কাঁকড়াবিছে সাধারণত কয়েক ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। এদের হুল বা বিষের কামড় অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও বিপজ্জনক হলেও, আকারে এরা বেশ ছোট। কিন্তু আজ থেকে প্রায় ৪১.৫ কোটি (৪১৫ মিলিয়ন) বছর আগে প্রাচীন পৃথিবীর নদী ও স্থলভূমিতে ঘুরে বেড়াত এমন এক বিছে, যার আকার ছিল প্রায় একটি বেসবল ব্যাটের সমান বা প্রায় ১ মিটার (৩.৩ ফুট) লম্বা! সম্প্রতি ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের বিজ্ঞানীরা এক যৌথ গবেষণায় পৃথিবীর সর্বকালের বৃহত্তম এই বিচ্ছুর সন্ধান নিশ্চিত করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রিয়ার্কটুরাস গিগাস’ (Praearcturus gigas)।

১৫০ বছর ধরে জাদুঘরে বন্দি ছিল রহস্য

চমকপ্রদ বিষয় হলো, এই দানবীয় প্রাণীর জীবাশ্মটি কিন্তু আজ বা গতকাল মাটি খুঁড়ে বের করা হয়নি। ১৮৭০-এর দশকে যুক্তরাজ্যের ওয়েলস সীমান্ত থেকে এই জীবাশ্মের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়েছিল। বিগত ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এটি লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের সংগ্রহশালায় ধুলো জমছিল। ১৮৭১ সালে যখন এটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়, তখন বিজ্ঞানীরা এটিকে কোনো প্রাচীন জলজ কাঁকড়া বা ক্রাস্টেসিয়ান (যেমন উডলাউস) মনে করেছিলেন। কারণ জীবাশ্মটি ছিল অত্যন্ত ভাঙাচোরা এবং এর কোনো লেজ বা হুল ছিল না।

প্রিয়ার্কটুরাস গিগাস নামক এই বিছেটি বাস করত আর্লি ডেভোনিয়ান (Early Devonian) যুগে। বিজ্ঞানের ইতিহাসে এটি এমন এক সময়, যখন পৃথিবীতে কোনো বনাঞ্চল বা গাছের বিবর্তনই ঘটেনি। কেবল ছোট ছোট ছত্রাক এবং মস জাতীয় উদ্ভিদ মাটির ওপর ছড়াতে শুরু করেছিল।

সাধারণত বিজ্ঞানীরা মনে করেন, প্রাগৈতিহাসিক যুগের পোকা-মাকড় বা আর্থ্রোপোডরা বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা অতিরিক্ত থাকার কারণে এত বড় আকার ধারণ করত (যেমন কার্বনিফেরাস যুগের বিশালাকার ফড়িং বা শতপদী পোকা)। কিন্তু প্রিয়ার্কটুরাস গিগাস তার চেয়েও প্রায় ৫ কোটি বছর আগের জীব। ফলে অক্সিজেনের প্রাচুর্য নয়, বরং অন্য এক পরিবেশগত কারণে এটি আকারে এত বড় হয়েছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, সেই আদিম পৃথিবীতে এই বিছের সাথে লড়াই করার মতো অন্য কোনো বড় শিকারী বা প্রতিযোগী প্রাণী ছিল না। তীব্র প্রতিযোগিতার অভাব এবং খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে থাকার কারণেই এটি প্রকৃতির নিয়মে দানবীয় রূপ ধারণ করেছিল।

জল ও স্থল—উভয় চরের ত্রাস (Amphibious Apex Predator)

বিজ্ঞানীরা এই বিছের পেটের নিচে এক ধরণের ডানার মতো বা ফ্ল্যাপ-জাতীয় অঙ্গের সন্ধান পেয়েছেন, যা বর্তমান যুগের গলদা চিংড়ি বা লবস্টারের মধ্যে দেখা যায়। এর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই দানবীয় বিছেটি উভচর বা অ্যাম্ফিবিয়াস ছিল। অর্থাৎ, এটি অগভীর নদীর জলে সাঁতার কেটে আদিম বর্মযুক্ত মাছ শিকার করত এবং প্রয়োজনে ডাঙায় উঠে এসে ছোটখাটো পোকা-মাকড়ের ওপর হানা দিত। জল ও স্থল—দুই জায়গাতেই এটি ছিল এক ত্রাস বা ‘এপেক্স প্রিডেটর’।

ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিওন্টোলজিস্ট ড. রাসেল গারউড জানান, প্রিয়ার্কটুরাসের এই আবিষ্কার প্রাগৈতিহাসিক যুগের প্রাণীদের বিবর্তন নিয়ে বিজ্ঞানীদের পুরনো অনেক ধারণাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে। জাদুঘরের পুরনো সংগ্রহশালায় যে কত বড় বড় বৈজ্ঞানিক রহস্য লুকিয়ে থাকতে পারে, এই দানবীয় বিছের পুনরুত্থান তারই এক জলজ্যান্ত প্রমাণ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe