তিহাড় জেলে বন্দি কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিককে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্ত্রী মুশাল হুসেন মালিককে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। জম্মুর বিশেষ টাডা-পোটা আদালতে জমা দেওয়া ২৫ পাতার একটি হলফনামায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন ইয়াসিন। একই নথিতে নিজের মা এবং ১৩ বছরের মেয়ে রজিয়া সুলতানার উদ্দেশেও বার্তা দিয়েছেন তিনি।

হলফনামায় ইয়াসিন দাবি করেছেন, দীর্ঘ আট বছর ধরে তিনি স্ত্রী মুশালের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে পারেননি। ভিডিও কলেও তাঁকে দেখতে পারেননি। জেলে থাকার কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীকে আর অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চান না তিনি। স্ত্রীকে লেখা বার্তায় ইয়াসিন জানিয়েছেন, অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি চান না মুশাল সারাজীবন তাঁর পরিস্থিতির বোঝা বহন করুন। তিনি আরও জানিয়েছেন, স্ত্রী যেন সম্মান ও আশা নিয়ে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারেন।
ইয়াসিনের এই সিদ্ধান্তের পিছনে বড় কারণ তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা। তিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আরও একটি পুরনো হত্যা মামলার বিচার চলছে। সাম্প্রতিক হলফনামায় ওই মামলায় তিনি আর বিচারপ্রক্রিয়ায় লড়াই না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন। এমনকি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন বলে আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে কী হবে তা অনিশ্চিত। সেই অনিশ্চয়তায় মুশালকে আটকে রাখতে চান না তিনি। মেয়ের জন্যও বিশেষ বার্তা রয়েছে হলফনামায়। ১৩ বছরের রজিয়া সুলতানাকে নিয়মিত তাঁর দাদির সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন ইয়াসিন। কঠিন সময়ে দাদির পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর এই বার্তায় দীর্ঘ বন্দিজীবনের পারিবারিক দিকটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
{{/usCountry}}এই পরিস্থিতিতেই স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভবিষ্যতে কী হবে তা অনিশ্চিত। সেই অনিশ্চয়তায় মুশালকে আটকে রাখতে চান না তিনি। মেয়ের জন্যও বিশেষ বার্তা রয়েছে হলফনামায়। ১৩ বছরের রজিয়া সুলতানাকে নিয়মিত তাঁর দাদির সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন ইয়াসিন। কঠিন সময়ে দাদির পাশে থাকার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর এই বার্তায় দীর্ঘ বন্দিজীবনের পারিবারিক দিকটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
{{/usCountry}}তবে বাবার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি রজিয়া। ইয়াসিনের তালাকের সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর একটি ভিডিও বার্তায় তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেখানে দাবি করেছেন, তাঁর বাবা সত্যিই মাকে তালাক দিলে তিনি নিজের জীবন শেষ করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। এই বক্তব্যকে ঘিরে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।
ইয়াসিন মালিক ২০১৯ সাল থেকে জেলে রয়েছেন। ২০২২ সালের মে মাসে এনআইএ-র বিশেষ আদালত তাঁকে সন্ত্রাসে অর্থ জোগানের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। এনআইএ অবশ্য সেই সাজা বদলে মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়ে আসছে। এর মধ্যেই ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাটের হত্যা মামলাতেও ইয়াসিনের নাম সামনে এসেছে। চলতি বছরের জুনে জম্মু-কাশ্মীরের স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি এই ঘটনায় চার্জশিট জমা দেয়। ইয়াসিন অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ওই হত্যাকাণ্ডে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না।
ফলে ইয়াসিন মালিকের সাম্প্রতিক হলফনামা শুধু একটি বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নয়। এর মধ্যে রয়েছে তাঁর দীর্ঘ বন্দিজীবন, ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা এবং পরিবারের প্রতি উদ্বেগ। একদিকে আদালতে চলতে থাকা একাধিক মামলা। অন্যদিকে স্ত্রী ও মেয়েকে ঘিরে আবেগঘন বার্তা। সব মিলিয়ে ইয়াসিনের ২৫ পাতার হলফনামা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।