Yusuf Pathan on Mosque Loudspeaker Row: পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে মসজিদ থেকে আজানের লাউডস্পিকার সরানোকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে সম্প্রতি এনসিপিআই-এ যোগ দেওয়া তিন বিদ্রোহী সাংসদ এবার এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। বহরমপুরের সাংসদ তথা প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠান, মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান এবং জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান যৌথভাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়ে পুলিশের এই পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হওয়া এই তিন সাংসদ স্মারকলিপিতে জানিয়েছেন, তাঁরা শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে সম্পূর্ণ সম্মান করেন। তবে সেই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ, সমান এবং সংবেদনশীল মনোভাব বজায় রাখা, যাতে কোনও নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে। তাঁদের দাবি, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হলেও তার বাস্তবায়নে কোনও ধরনের বৈষম্যের অভিযোগ ওঠা উচিত নয়।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ থেকে অভিযোগ ওঠে যে, স্থানীয় পুলিশ মসজিদে আজানের জন্য ব্যবহৃত লাউডস্পিকার খুলে দিচ্ছে বা সরিয়ে ফেলছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিন সাংসদ। তাঁদের মতে, বিষয়টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকারের সঙ্গে যুক্ত এবং প্রশাসনের উচিত সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা।
অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশের দাবি, কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট এবং ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনালের (এনজিটি) নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণ রোধে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই একই নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে। মন্দির, মসজিদ, গির্জা বা অন্য কোনও ধর্মীয় স্থান—সব ক্ষেত্রেই নির্ধারিত শব্দসীমা এবং লাউডস্পিকার ব্যবহারের নিয়ম মেনে চলতে বলা হয়েছে।
এই তিন সাংসদ সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। এই দলটি বিজেপিকে সমর্থন করলেও, মুর্শিদাবাদের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত এই তিন সাংসদ সম্প্রতি এনডিএ-র একাধিক বৈঠক থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মুসলিম সমাজের স্বার্থবিরোধী বলে মনে হয় এমন কোনও আইন বা নীতিকে তাঁরা সমর্থন করবেন না।
{{/usCountry}}এই তিন সাংসদ সম্প্রতি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এ যোগ দিয়েছেন। এই দলটি বিজেপিকে সমর্থন করলেও, মুর্শিদাবাদের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা থেকে নির্বাচিত এই তিন সাংসদ সম্প্রতি এনডিএ-র একাধিক বৈঠক থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন। তাঁদের বক্তব্য, মুসলিম সমাজের স্বার্থবিরোধী বলে মনে হয় এমন কোনও আইন বা নীতিকে তাঁরা সমর্থন করবেন না।
{{/usCountry}}লাউডস্পিকার বিতর্কের পাশাপাশি স্মারকলিপিতে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাংসদরা। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার পরিচয়পত্র সংক্রান্ত ট্রাইব্যুনালে বহু মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। ফলে প্রকৃত ভোটারদের অনেকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে পাসপোর্ট যাচাই, জমি রেজিস্ট্রি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও।
তিন সাংসদের দাবি, বছরের শেষের আগেই সমস্ত প্রকৃত ও মুলতুবি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা কর্মসূচির আওতায় শুধুমাত্র মুর্শিদাবাদ জেলা থেকেই প্রায় ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা রাজ্যের মধ্যে সর্বাধিক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।