NY Mayor Zohran Mamdani on RSS & Mohan Bhagwat: আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের নিউ ইয়র্ক সফর ও ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে তাঁর প্রস্তাবিত সভাকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। সভার আগে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মন্তব্য করেছেন, ভারতে তিনি যে আন্দোলনের উত্থান দেখছেন, তা একটি ‘বহিষ্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি’র উপর ভিত্তি করে তৈরি হওয়ায় বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ভাগবতের সভার বিষয়ে নিজের বিরোধিতার কথা স্পষ্ট করলেও জানান, কোনও বেসরকারি অনুষ্ঠান বাতিল করার আইনি ক্ষমতা সম্ভবত মেয়র পদে থেকে তাঁর নেই।
মামদানি বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কের ইতিহাসে প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র। তাঁর মায়ের পরিবারের সদস্যরা এখনও ভারতে রয়েছেন। পরিবারের কাছ থেকে তিনি যে ভারতের ধারণা পেয়েছেন, তা ছিল বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশ, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার ও অন্তর্ভুক্তির জায়গা রয়েছে। সেই ভারতের ভাবনার সঙ্গে বর্তমান সময়ে একটি ‘বহিষ্কারমূলক’ আন্দোলনের উত্থানকে তিনি বিপরীতমুখী বলে মনে করছেন।
নিউ ইয়র্ককে সব ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের মানুষের শহর হিসেবেও উল্লেখ করেন মামদানি। তাঁর বক্তব্য, কোনও দেশের ক্ষেত্রেই এমন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে নির্দিষ্ট কোনও সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়ার প্রবণতা থাকে। যদিও ভাগবতের সভা বাতিল করার দাবি সম্পর্কে তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে তাঁর প্রশাসনের হাতে হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয় এক্তিয়ার নেই।
মামদানির এই মন্তব্যের আগে মার্কিন প্রগতিশীল বামপন্থী মহলের একাংশ ভাগবতের সভা বাতিলের জন্য তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। প্রাক্তন সিয়াটল সিটি কাউন্সিল সদস্য এবং মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের নির্বাচনে প্রার্থী ক্ষমা সাওয়ান্ত সামাজিক মাধ্যমে মামদানির সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, সভা বাতিল না করে এবং ভাগবত ও আরএসএস-এর বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান না নিয়ে মামদানি ভারতীয় মুসলিম ও অন্যান্য নিপীড়িত সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব পালন করছেন না।
এদিকে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের সদস্যদের একাংশও আরএসএস প্রধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, মোহন ভাগবতকে কোনও কূটনৈতিক সৌজন্য না দেওয়া হোক এবং আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি বিবেচনা করুক মার্কিন সরকার।
{{/usCountry}}এদিকে মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের সদস্যদের একাংশও আরএসএস প্রধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁদের দাবি, মোহন ভাগবতকে কোনও কূটনৈতিক সৌজন্য না দেওয়া হোক এবং আরএসএস-এর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি বিবেচনা করুক মার্কিন সরকার।
{{/usCountry}}সাম্প্রতিক কয়েকটি মার্কিন নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধেও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বা সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুলে সমালোচনা হয়েছে। কংগ্রেস সদস্য শ্রী থানেদার ও রাজা কৃষ্ণমূর্তিও এমন সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন।
এর মধ্যেই মঙ্গলবার আমেরিকায় পৌঁছেছেন মোহন ভাগবত। আরএসএস জানিয়েছে, সংগঠনের শতবর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করেই তাঁর এই বহু দিনের বিদেশ সফর। আমেরিকার পাশাপাশি তিনি কানাডা এবং ব্রিটেনও সফর করবেন। নিউ ইয়র্কের সভাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই এই সফর আন্তর্জাতিক পরিসরে আরএসএস-এর কার্যকলাপ ও ভাবমূর্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।