...
...
Next Story

ছেলের হাতেই নাকি পরাজিত এবং নিহত হন মহাবীর অর্জুন! মহাভারতের বভ্রুবাহনের কাহিনি অনেকেই জানেন না

বিস্ময়কর চরিত্র হলেন অর্জুন ও মণিপুরের রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদার পুত্র বভ্রুবাহন। পুরাণ অনুসারে, তিনি ছিলেন এমন এক মহাবীর যিনি রণক্ষেত্রে স্বয়ং নিজের পিতা অর্জুনকে পরাজিত করে বধ করেছিলেন।

Published on: Feb 18, 2026, 11:18:50 IST
By
Prefer HTon Google
Advertisement

মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের বীরত্বগাথা আমাদের সবার জানা। কিন্তু যুদ্ধের পরবর্তী অধ্যায়ে এমন কিছু রোমাঞ্চকর ঘটনা ঘটেছিল, যা মূল মহাকাব্যের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। এমনই এক বিস্ময়কর চরিত্র হলেন অর্জুন ও মণিপুরের রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদার পুত্র বভ্রুবাহন। পুরাণ অনুসারে, তিনি ছিলেন এমন এক মহাবীর যিনি রণক্ষেত্রে স্বয়ং নিজের পিতা অর্জুনকে পরাজিত করে বধ করেছিলেন।

ছেলের হাতেই নাকি পরাজিত এবং নিহত হন মহাবীর অর্জুন!
ছেলের হাতেই নাকি পরাজিত এবং নিহত হন মহাবীর অর্জুন!

অর্জুন-পুত্র বভ্রুবাহনের সেই দুর্ধর্ষ কাহিনি এবং পিতা-পুত্রের যুদ্ধের নেপথ্য কারণ জেনে নিন।

মহাভারত ও অশ্বমেধ পর্বের কাহিনি অনুসারে, বভ্রুবাহন ছিলেন অর্জুনের তেজস্বী পুত্র। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা মণিপুর রাজ্যে। অর্জুন যখন বনবাসকালে মণিপুরে গিয়েছিলেন, তখন রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদার প্রেমে পড়েন। তাঁদের বিয়ের শর্ত ছিল যে, তাঁদের সন্তান মণিপুরের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবে এবং সে পাণ্ডবদের রাজ্যে যাবে না। এই কারণেই কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে বভ্রুবাহনকে দেখা যায়নি।

যুদ্ধের সূত্রপাত: অশ্বমেধ যজ্ঞের ঘোড়া

কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পর যুধিষ্ঠির যখন হস্তিনাপুরের রাজা হলেন, তখন তিনি অশ্বমেধ যজ্ঞের আয়োজন করেন। যজ্ঞের ঘোড়াটি বিশ্ববিজয়ে বের হয় এবং তার রক্ষক হিসেবে ছিলেন স্বয়ং অর্জুন। ঘুরতে ঘুরতে সেই ঘোড়া যখন মণিপুর রাজ্যে পৌঁছায়, তখন তরুণ রাজা বভ্রুবাহন শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে তাঁর পিতার ঘোড়াটি আটকে দেন। তিনি চেয়েছিলেন বীরের মতো যুদ্ধ করে পিতার আশীর্বাদ নিতে।

রণক্ষেত্রে পিতা অর্জুন ও পুত্র বভ্রুবাহনের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়। অর্জুন তাঁর দিব্যশক্তির দম্ভে ছিলেন মত্ত। কিন্তু বভ্রুবাহন ছিলেন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী। যুদ্ধের এক পর্যায়ে বভ্রুবাহন এমন এক অব্যর্থ শর নিক্ষেপ করেন যা অর্জুনের বুক বিদ্ধ করে। মহাবীর অর্জুন, যিনি ভীষ্ম-দ্রোণ-কর্ণের মতো বীরদের জয় করেছিলেন, তিনি নিজ পুত্রের বাণে প্রাণ হারিয়ে রণক্ষেত্রে লুটিয়ে পড়েন।

অর্জুনের পুনর্জীবন ও অভিশাপের রহস্য

পিতার মৃতদেহ দেখে বভ্রুবাহন শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। তখন নাগকন্যা উলূপী সেখানে উপস্থিত হন এবং আসল রহস্য উন্মোচন করেন। আসলে এই ঘটনাটি ছিল একটি অলৌকিক প্রতিশোধ। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে শিখণ্ডীকে সামনে রেখে অর্জুন যেভাবে ভীষ্মদেবকে শরশয্যায় শায়িত করেছিলেন, সেই পাপের প্রায়শ্চিত্ত হিসেবে বসুগণ (ভীষ্মের ভাইরা) অর্জুনকে অভিশাপ দিয়েছিলেন যে তিনি নিজ পুত্রের হাতেই নিহত হবেন।

উলূপী তাঁর কাছে থাকা 'সঞ্জীবনী মণি' বভ্রুবাহনকে দেন। সেই মণির স্পর্শে অর্জুন পুনরায় প্রাণ ফিরে পান। অর্জুন তাঁর পুত্রের বীরত্ব দেখে মুগ্ধ হন এবং তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। হস্তিনাপুরের অশ্বমেধ যজ্ঞে বভ্রুবাহন সসম্মানে আমন্ত্রিত হন।

কেন এই কাহিনি গুরুত্বপূর্ণ?

বভ্রুবাহনের কাহিনি আমাদের শেখায় যে— কর্মফল বা অভিশাপ থেকে দেবতারাও মুক্ত নন। অর্জুনের মতো মহাবীরকেও অহংকারের জন্য নিজ সন্তানের কাছে মাথা নত করতে হয়েছিল। এটি মহাভারতের অন্যতম একটি অধ্যায় যা বীরত্ব এবং ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ।

 
ABOUT THE AUTHOR
Suman Roy

সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe