শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বা বাবা লোকনাথের মহিমা অপরিসীম। তিনি তাঁর ভক্তদের কাছে কেবল একজন যোগী নন, বরং এক জীবন্ত ঈশ্বর। বাবা লোকনাথের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য অলৌকিক কাহিনী। তার মধ্যে অন্যতম রহস্যময় এবং রোমাঞ্চকর ঘটনা হলো শিল্পী দুর্গেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবিতে স্বয়ং বাবার আবির্ভূত হওয়া এবং সেই ছবিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা।

নিচে এই অলৌকিক কাহিনি জেনে নিন।
শিল্পীর তুলিতে জীবন্ত ভগবান
১৯শ শতকের সেই মহাযোগী বাবা লোকনাথ দেহত্যাগ করার বহু বছর পরেও ভক্তদের কাছে তাঁর উপস্থিতি আজও অনুভূত হয়। কিন্তু কোনো এক শিল্পীর তুলিতে তাঁর প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠবে এবং স্বয়ং বাবা এসে সেই ছবিতে 'সাক্ষী' দেবেন—এমন ঘটনা আধ্যাত্মিক জগতের ইতিহাসে বিরল। শিল্পী দুর্গেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা বাবা লোকনাথের সেই বিশ্বখ্যাত প্রতিকৃতিটি ঘিরে যে কাহিনী প্রচলিত, তা আজও বিশ্বাস-অবিশ্বাসের ঊর্ধ্বে এক অমীমাংসিত রহস্য।
ছবির পেছনের প্রেক্ষাপট
শিল্পী দুর্গেশ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মানুষ এবং উচ্চমানের চিত্রশিল্পী। তিনি বাবা লোকনাথের একটি জীবন্ত প্রতিকৃতি আঁকার তীব্র আকাঙ্ক্ষা অনুভব করেন। কিন্তু সমস্যা ছিল একটাই—বাবার কোনো স্পষ্ট আলোকচিত্র বা ছবি তখন সহজলভ্য ছিল না। দুর্গেশবাবু ধ্যানস্থ হয়ে বাবার রূপ কল্পনা করার চেষ্টা করতেন এবং দিনের পর দিন ক্যানভাসের সামনে বসে থাকতেন। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক ছবি আঁকতে যা দেখলে মনে হবে বাবা লোকনাথ স্বয়ং সামনে বসে আছেন।
অলৌকিক সেই রাত্রি
কথিত আছে, দুর্গেশবাবু যখন ছবিটি আঁকছিলেন, তখন তিনি বারবার মনে করছিলেন যে বাবার চোখের দৃষ্টি ঠিক মনের মতো হচ্ছে না। শিল্পী সত্তার অতৃপ্তি নিয়ে তিনি যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, তখনই ঘটে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। গভীর রাতে শিল্পী অনুভব করেন এক দিব্য জ্যোতির উপস্থিতি। লোকমুখে প্রচলিত যে, স্বয়ং বাবা লোকনাথ জ্যোতির্ময় রূপে তাঁর সামনে আবির্ভূত হন।
{{/usCountry}}কথিত আছে, দুর্গেশবাবু যখন ছবিটি আঁকছিলেন, তখন তিনি বারবার মনে করছিলেন যে বাবার চোখের দৃষ্টি ঠিক মনের মতো হচ্ছে না। শিল্পী সত্তার অতৃপ্তি নিয়ে তিনি যখন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েন, তখনই ঘটে সেই অবিশ্বাস্য ঘটনা। গভীর রাতে শিল্পী অনুভব করেন এক দিব্য জ্যোতির উপস্থিতি। লোকমুখে প্রচলিত যে, স্বয়ং বাবা লোকনাথ জ্যোতির্ময় রূপে তাঁর সামনে আবির্ভূত হন।
{{/usCountry}}বলা হয়, বাবা লোকনাথের সেই অলৌকিক স্পর্শে বা নির্দেশনায় শিল্পী তাঁর অসমাপ্ত ছবির চোখের মণি এবং দৃষ্টির এমন এক গভীরতা দান করেন, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। পরদিন সকালে উঠে দুর্গেশবাবু দেখেন, ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে এক জীবন্ত সত্তা। সেই ছবির চোখের দিকে তাকালে মনে হয়, বাবা লোকনাথ সরাসরি দর্শকের অন্তরের দিকে তাকিয়ে আছেন। ভক্তদের বিশ্বাস, বাবা নিজেই এসে সেই ছবিতে তাঁর প্রাণশক্তি প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গেছেন।
ছবির মাহাত্ম্য ও প্রাণ প্রতিষ্ঠা
এই ঘটনার পর থেকে দুর্গেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঁকা ছবিটিই বাবা লোকনাথের সবচেয়ে প্রামাণ্য এবং জনপ্রিয় ছবি হিসেবে স্বীকৃত হয়। কথিত আছে, বহু ভক্ত এই ছবির সামনে বসে প্রার্থনা করার সময় অনুভব করেছেন যে বাবার চোখ পলক ফেলছে অথবা ছবি থেকে এক দিব্য সুগন্ধ ভেসে আসছে। অনেক সাধক মনে করেন, এই ছবিতে বাবার 'সূক্ষ্ম শরীর' বর্তমান।
বারদী ধামে বা কচুয়া ধামে বাবার যে রূপটি আমরা দেখে অভ্যস্ত, তার পেছনে দুর্গেশবাবুর এই অলৌকিক অভিজ্ঞতার গুরুত্ব অপরিসীম। শিল্পী নিজে পরবর্তীকালে স্বীকার করেছিলেন যে, এই ছবি তিনি একা আঁকেননি, কোনো এক অদৃশ্য শক্তি তাঁর হাত পরিচালনা করেছিল।
আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
এই কাহিনি আমাদের শেখায় যে, ভক্তি যদি চরম সীমায় পৌঁছায়, তবে পরমেশ্বর বা গুরু নিজেই ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে এগিয়ে আসেন। বাবা লোকনাথ কথা দিয়েছিলেন, "রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়বি, আমাকে স্মরণ করিস।" দুর্গেশবাবুর তুলির টানে বাবা যেন নিজেকে চিরস্থায়ী করে দিয়ে গেছেন তাঁর অগণিত ভক্তদের জন্য।