মৃত ভেবে সাজানো হয়েছিল চিতা! তার পরেও অলৌকিক ভাবে বেঁচে ওঠেন লোকনাথ বাবা
লোকনাথ বাবার অলৌকিক মহিমা নিয়ে অসংখ্য কাহিনি প্রচলিত থাকলেও, তাঁর দেহত্যাগের পূর্ববর্তী এবং শ্মশান-শয্যা থেকে পুনরুত্থানের এই বিশেষ কাহিনিটি ভক্ত হৃদয়ে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে।
শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী, যাকে ভক্তরা পরম করুণাময় 'বাবা লোকনাথ' বলে ডাকেন, তাঁর জীবন ছিল অলৌকিক ঘটনা ও কঠোর কৃচ্ছ্রসাধনায় পরিপূর্ণ। লোকনাথ বাবার অলৌকিক মহিমা নিয়ে অসংখ্য কাহিনি প্রচলিত থাকলেও, তাঁর দেহত্যাগের পূর্ববর্তী এবং শ্মশান-শয্যা থেকে পুনরুত্থানের এই বিশেষ কাহিনিটি ভক্ত হৃদয়ে এক অনন্য স্থান দখল করে আছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, যোগবলে বলীয়ান মহাপুরুষদের কাছে মৃত্যুও পরাজয় স্বীকার করে।

শ্মশান-শয্যায় অলৌকিক লীলা: বাবা লোকনাথের পুনরুত্থান ও ধুতরা ফুলের রহস্য
বাংলার আধ্যাত্মিক আকাশে যে ক’জন মহাপুরুষ প্রদীপ্ত ভাস্করের মতো দেদীপ্যমান, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী। তিনি বলতেন, "রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে যখনই বিপদে পড়বি, আমাকে স্মরণ করিস—আমিই তোদের রক্ষা করব।" তাঁর এই অভয়বাণী যে কেবল মুখের কথা ছিল না, তা প্রমাণিত হয়েছিল তাঁর নিজের জীবনেরই এক চরম সংকটের মুহূর্তে।
কথিত সেই অলৌকিক কাহিনি
ঘটনাটি ছিল লোকনাথ বাবার দীর্ঘ সাধনা জীবনের এক বিশেষ অধ্যায়। কথিত আছে, একবার বাবা লোকনাথ ভীষণভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর স্থূল শরীর এতটাই নিস্পন্দ ও শীতল হয়ে গিয়েছিল যে, চিকিৎসক ও উপস্থিত শিষ্যরা মনে করেছিলেন মহাযোগী দেহত্যাগ করেছেন। নাড়ীর স্পন্দন স্তব্ধ, শ্বাস-প্রশ্বাসহীন সেই দেহ দেখে সকলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। হিন্দু শাস্ত্রীয় বিধি মেনে তাঁর নশ্বর দেহ সৎকার করার জন্য শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।
চিতা সাজানো হলো, চন্দন কাষ্ঠ ও ঘৃতের আয়োজন সম্পূর্ণ। দেহ যখন চিতার ওপর শায়িত করা হয়েছে এবং দাহ করার জন্য অগ্নিসংযোগের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই আকাশ থেকে ঘটতে শুরু করল এক অভাবনীয় ঘটনা। উপস্থিত জনতা অবাক হয়ে দেখল, পরিষ্কার আকাশ থেকে কোনো এক অদৃশ্য উৎস থেকে বাবা লোকনাথের দেহের ওপর অবিরত ধুতরা ফুল বর্ষিত হতে শুরু করেছে। ধুতরা ফুল মহাদেব শিবের অত্যন্ত প্রিয়, আর বাবা লোকনাথকেও মনে করা হয় শিবের অংশাবতার।
ধুতরা ফুলের সেই বৃষ্টিতে তাঁর দেহ ঢেকে যেতে থাকল। ঠিক সেই মুহূর্তে দেখা গেল এক অলৌকিক দৃশ্য। যে দেহকে মৃত মনে করে চিতায় তোলা হয়েছিল, সেই দেহে প্রাণের স্পন্দন ফিরে এলো। বাবা লোকনাথ ধীরে ধীরে চোখ মেললেন এবং স্বাভাবিকভাবে উঠে বসলেন। যেন গভীর এক যোগনিদ্রা থেকে তিনি জেগে উঠলেন। শ্মশানে উপস্থিত সকলে বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গেলেন। ভক্তদের মতে, মহাদেব স্বয়ং তাঁর প্রিয় ধুতরা ফুল বর্ষণ করে তাঁর 'অংশ' লোকনাথকে পুনরায় ধরাধামে কর্ম করার শক্তি প্রদান করেছিলেন।
কাহিনির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
বাবা লোকনাথ দীর্ঘ ৮০ বছর হিমালয়ের বরফে নগ্ন দেহে যোগ সাধনা করেছিলেন। তাঁর এই পুনরুত্থানের কাহিনি কেবল অলৌকিকতা নয়, বরং যোগবিজ্ঞানের এক গভীর সত্যকে তুলে ধরে। যোগীরা ইচ্ছা করলে 'সমাধি' অবস্থায় নিজেদের প্রাণবায়ুকে অবরুদ্ধ করে রাখতে পারেন, যা সাধারণ মানুষের চোখে মৃত্যু বলে মনে হয়। ধুতরা ফুল বর্ষণের ঘটনাটি ছিল প্রকৃতির তরফ থেকে এক দিব্য সংকেত, যা বুঝিয়ে দেয় যে প্রকৃত যোগীর বিনাশ নেই।
লোকনাথ বাবা ও শিব-সাদৃশ্য
লোকনাথ বাবার অবয়ব, তাঁর জটা এবং দীর্ঘ তপস্যা শিবের কথা মনে করিয়ে দেয়। ধুতরা ফুল দিয়ে তাঁর আরাধনা বা অলৌকিক মুহূর্তে ধুতরা ফুলের উপস্থিতি তাঁর সাথে দেবাদিদেব মহাদেবের অভিন্নতার পরিচয় দেয়। এই ঘটনার পর থেকেই ভক্তদের বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয় যে, বাবা লোকনাথের চরণে শরণ নিলে মৃত্যুভয় থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


