প্রবল ঝড়ের মধ্যে পড়া নৌকাকে অলৌকিক ক্ষমতায় বাঁচান লোকনাথ বাবা! কী ঘটেছিল সেদিন
বাবা লোকনাথের জীবনের এই অবিস্মরণীয় ঘটনাটি ঘটেছিল যখন তাঁর কয়েকজন ভক্ত নৌকায় করে ব্যবসার কাজে বা তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। হঠাৎই প্রকৃতির রূপ বদলে যায় এবং ভক্তদের জীবন চরম সঙ্কটের মুখে পড়ে। তার মধ্যে উদ্ধারকর্তার রূপে দেখা দেন বাবা লোকনাথ।
বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী ছিলেন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এক জীবন্ত মহাপুরুষ। তাঁর অগণিত অলৌকিক লীলার মধ্যে সবথেকে রোমাঞ্চকর এবং জনপ্রিয় ঘটনা হলো 'প্রবল ঝড়ের কবল থেকে ভক্তদের নৌকা রক্ষা'। এই অলৌকিক ঘটনাটি কেবল বাবার দৈব শক্তির পরিচয় দেয় না, বরং তাঁর সেই বিখ্যাত অভয়বাণী— ‘রণে, বনে, জলে, জঙ্গলে যেখানেই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিবে, আমিই রক্ষা করিব’—এর সত্যতা প্রমাণ করে।

বাবা লোকনাথের জীবনের এই অবিস্মরণীয় ঘটনাটি ঘটেছিল যখন তাঁর কয়েকজন ভক্ত নৌকায় করে ব্যবসার কাজে বা তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল মূলত জলপথনির্ভর। হঠাৎই প্রকৃতির রূপ বদলে যায় এবং ভক্তদের জীবন চরম সঙ্কটের মুখে পড়ে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: কালবৈশাখীর তান্ডব
কথিত আছে, লোকনাথ বাবার এক পরম ভক্ত তাঁর দলবল নিয়ে বড় একটি নৌকায় করে নদী বা সমুদ্রের মোহনা পার হচ্ছিলেন। যাত্রার শুরুতে আকাশ পরিষ্কার থাকলেও মাঝপথে হঠাৎই কালো মেঘে আকাশ ঢেকে যায়। শুরু হয় প্রবল কালবৈশাখী ঝড়। ঝড়ের দাপটে বিশাল বিশাল ঢেউ নৌকার ওপর আছড়ে পড়তে থাকে। মাঝিরা আপ্রাণ চেষ্টা করেও নৌকার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিল না। উত্তাল তরঙ্গে নৌকাটি যেকোনো মুহূর্তে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে অন্তিম প্রার্থনা
নৌকায় থাকা যাত্রীরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের আয়ু ফুরিয়ে এসেছে। মাঝিরা হাল ছেড়ে দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। ঠিক সেই চরম মুহূর্তে, লোকনাথ বাবার এক একনিষ্ঠ ভক্তের মনে পড়ে বাবার সেই অমর বাণী। তিনি বুঝতে পারেন, মানুষের সাধ্য যেখানে শেষ, ভগবানের কৃপা সেখান থেকেই শুরু হয়। তিনি দুই হাত জোড় করে রুদ্ধকণ্ঠে চিৎকার করে ডাকতে থাকেন— "বাবা লোকনাথ, রক্ষা করো! হে দয়ালু ব্রহ্মচারী, আমাদের জীবন দান করো!"
বাকি যাত্রীরাও তখন প্রাণের ভয়ে উচ্চস্বরে লোকনাথ বাবার নাম জপ করতে শুরু করেন। তাঁদের বিশ্বাস ছিল, বাবা যদি চান তবেই এই নিশ্চিত জলসমাধি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
অলৌকিক উদ্ধার: বাবার দিব্য রূপের আবির্ভাব
ঠিক সেই সময়েই ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। ভক্তদের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁরা দেখতে পান দূরে অন্ধকারের মাঝে এক জ্যোতির্ময় দিব্য জ্যোতি উদ্ভাসিত হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁরা স্বয়ং বাবা লোকনাথকে সেই উত্তাল ঢেউয়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছেন।
হঠাৎই দেখা যায়, নৌকার হালটি যেন কোনো অদৃশ্য শক্তিশালী হাত ধরে ফেলেছে। প্রবল ঝড়ের মধ্যেও নৌকাটি অলৌকিকভাবে স্থির হতে শুরু করে। যে ঢেউগুলো নৌকাটিকে ডুবিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, সেগুলোই যেন নৌকাটিকে ধাক্কা দিয়ে তীরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ঝড়ের বেগ থাকা সত্ত্বেও নৌকাটি কোনো ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে যায়।
বারদীতে লোকনাথ বাবার প্রতিক্রিয়া
পরবর্তীতে সেই ভক্তরা যখন বাবার আশ্রম বারদীতে (বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থিত) পৌঁছান, তাঁরা অবাক হয়ে দেখেন বাবা লোকনাথের শরীর থেকে জল ঝরছে এবং তাঁর বস্ত্র ভেজা। তিনি মুচকি হেসে ভক্তদের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন— "কিরে, বড় ভয় পেয়েছিলি? ডাকছিলি তো আমায়, তাই যেতে হলো।" ভক্তরা বুঝতে পারেন, হাজার মাইল দূরে থাকলেও বাবা তাঁর যোগবলে ভক্তদের আর্তনাদ শুনতে পান এবং স্বশরীরে বা সূক্ষ্ম শরীরে পৌঁছে যান রক্ষা করতে।
এই ঘটনাটি আজও লোকনাথ ভক্তদের কাছে বিশ্বাসের এক বড় স্তম্ভ। এটি আমাদের শেখায় যে, ঘোর বিপদেও যদি কেউ অবিচল বিশ্বাসে ঈশ্বরকে স্মরণ করে, তবে অসম্ভবও সম্ভব হয়। বাবা লোকনাথের এই অলৌকিক মহিমা আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে সংকটে শক্তি জোগায়।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


